• সোমবার   ২৬ জুলাই ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ১০ ১৪২৮

  • || ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

পঞ্চগড়ের আলু যাচ্ছে মালয়েশিয়া-শ্রীলংকায়

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২১  

পঞ্চগড়ে উৎপাদিত দুই জাতের আলু এবার রফতানি হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকায়। এখন পর্যন্ত ৯৮ মেট্রিক টন গ্রানুলা ও ডায়মন্ড আলু রফতানি হয়েছে উত্তরের এ জেলা থেকে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে বিদেশে যাচ্ছে আলু। এতে বাজার দরের চেয়ে ভাল দাম পেয়ে খুশি চাষিরা।

৫০০ মেট্রিক টন আলু পঞ্চগড় থেকে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও এ পর্যন্ত রফতানি হয়েছে ৯৮ মেট্রিক টন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পঞ্চগড় থেকে ১৪ মেট্রিক টন আলু পাঠানো হয়েছে রফতানি জন্য। তবে আগামী বছর রফতানির পরিধি আরো বাড়বে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

বিএডিসি পঞ্চগড় অফিস সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় থেকে ৩০ মার্চ আলু রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়। দেশের রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান কেএস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মাসাওয়া এগ্রো লিমিটেড, এগ্রোটেক বিডি, বরুন এগ্রো লিমিটেড আলু রফতানির কাজ করছে। সাড়ে আট কেজির প্রতি প্যাকেট আলু পঞ্চগড় থেকে কন্টেইনারে করে প্রথমে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরে। পরে কার্গো জাহাজে করে পৌঁছানো হচ্ছে মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকায়।

আরো জানা গেছে, ৯০-২০০ গ্রাম ওজনের বড় আলুগুলোই কেবল রফতানির জন্য বাছাই করা হয়। প্রতি কেজি ডায়মন্ড আলু ১৪ টাকা ২০ পয়সা এবং গ্রানুলা ১৩ টাকা ২০ পয়সা দরে চাষিদের কাছ থেকে কিনে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। এতে বাজারে আলুর দাম আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। একই সঙ্গে চাষিরাও লাভের মুখ দেখছেন।

এবার আলুর মৌসুমে বিএডিসি পঞ্চগড় অফিস থেকে সরকার নির্ধারিত সুলভ মূল্যে রফতানিযোগ্য আলু চাষাবাদের জন্য আটজন চাষিকে ৩৫ মেট্রিক টন আলুর বীজ দেয়া হয়। এছাড়া বীজ, সার, কীটনাশক কেনার জন্য রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ পান চাষিরা। তাদের ৫০ একর জমি থেকে উৎপাদন হয়েছে ৩৫০ মেট্রিক টন আলু। এসব আলুর বাছাইকৃত একটি অংশ বীজের জন্য কিনে নিচ্ছে বিএডিসি আর বড় আকারের আলুগুলো রফতানি করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার ৯ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, টিপিএস, গ্রানুলাসহ ২০টির বেশি জাতের আলু চাষাবাদ হয়েছে। এবার মোট আলু উৎপাদিত হয়েছে দুই লাখ ২৫ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন।

আলু চাষি আব্দুল মতিন বলেন, আমাদের উৎপাদিত আলু দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে যাচ্ছে এটা আমাদের জন্য গর্বের। বিদেশে আলু রফতানি হওয়ায় আলুর বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। না হলে দাম আরো কমে যেত। তবে দামটা আরেকটু বেশি হলে আমাদের জন্য উপকার হতো।

রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান বরুণ এগ্রো লিমিটেডের মান নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মালয়েশিয়া, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলংকাসহ বেশ কয়েকটি দেশে আমাদের আলুর চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে আমরা মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকায় রফতানি করছি। কেবল ভালো মানের বড় আকারের আলু রফতানিযোগ্য। আশা করছি, আগামী বছর রফতানির পরিমাণ আরো বাড়বে।

পঞ্চগড় জেলা বিএডিসি’র উপ-পরিচালক (টিসি) আব্দুল হাই সজিব বলেন, আমাদের দেশে আলুর চাহিদা ৬৫-৭০ লাখ মেট্রিক টন। এবার এক কোটি মেট্রিক টনের বেশি আলু উৎপাদন হয়েছে। দেশের চাহিদা পূরণ করে বাকি আলু রফতানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পঞ্চগড় থেকে ৯৮ মেট্রিক টন গ্রানুলা ও ডায়মন্ড আলু যাচ্ছে মালয়েশিয়া ও শ্রীলংকায়। আশা করি, আগামী বছর রফতানির পরিমাণ বাড়বে ও আলুর নতুন বাজার তৈরি হবে।

তিনি আরো বলেন, সানশাইন নামে রফতানিযোগ্য নতুন জাতের উন্নত ফলনশীল আলু চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এই আলু ৬৫ দিনেই তোলা যায়। প্রতি হেক্টরে এ জাতের আলুর ফলন হয় ৪১ মেট্রিক টন পর্যন্ত। আগামী বছর এ আলু ব্যাপক হারে চাষ হবে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ