• বৃহস্পতিবার   ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ২৭ ১৪২৯

  • || ১৮ রজব ১৪৪৪

যমুনার মহিলা মাছ শিকারীদের কথা এহন কাম নাই তাই মাছ ধরি

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০১৯  

‘এহন আমগোর হাতে কাম নাই। তাই প্যাট চালানোর জন্যে নদীত (যমুনায়) মাছ ধরি-’ বলছিলেন যমুনায় মাছ শিকারকারী নানা বয়সের মহিলাদের একজন ওমিছননেছা। তিনি বলেন, ‘আমরা যহন মাছ ধরি তহন ম্যালা মানুষ আমগোর ছবি তোলে। কিন্তুক কি হইরা আমরোর সংসার চলে তার খোঁজ রাহেনা কেউ।’  জীবন সংসারের চাকা সচল রাখতে এমনি করে মাছ ধরা ওমিছননেছাদের প্রতিদিনকার কাজ।  ওরা সবাই যমুনাপাড়ের গ্রামের মানুষ।

ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত শুষ্কপ্রায় যমুনার কোলা (একটু গভির ছোট পুকুরের মতো স্থান) বা খাড়ে (নদীর বাকে অপেক্ষাকৃত কম স্রোতযুক্ত স্থান) ওরা দলবেধে মাছ ধরে। গেরস্থালির কাজ নির্দিষ্ট সময়ে সেরে ফেলে চরাঞ্চলের নারীরা দল বেঁধে ছোটেন যমুনায়। চরের তীরবর্তী অংশে যমুনার পানিতে নেমে পড়েন তারা। সন্ধান করতে থাকেন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। বাদ যায়না না শিশু-কিশোররাও। তারাও বড়দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাছ খুঁজতে থাকে। তবে এসব নারীদের মাছ ধরার কোন সরঞ্জামাদি নেই। হাতের কারিশমায় মাছ ধরে ফেলেন তারা। সঙ্গে নেন শুধু মাছ রাখার পাতিল। দুপুর পর্যন্ত মাছ ধরে তারা বাড়ি ফেরেন। উপজেলার মাইজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ, খাসরাজবাড়ী সহ বেশ কয়েকটি চরাঞ্চল ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যমুনার পানি এখন একেবারেই কম। কোলা এবং ঘেরগুলো থেকে পানি অনেকখানি নেমে গেছে। শরীরের সঙ্গে পাতিল বেঁধে চরের এসব স্থানে নারীরা মাছ ধরতে নামেন দলবেধে। নাসিমা খাতুন, সাইরন বিবি, শুকিতনসহ একাধিক নারী জানান, বছরের এই সময়টায় তারা যমুনায় মাছ ধরেন। সেই মাছ বাজারে বিক্রি করে এসব নারীরা  জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। গোলসা, ট্যাংরা, পুটি, পবদা, বাতাশী, বাঁশ পাতারি, গচুঁই, চিংড়ি মাছ তারা হাতে ধরেন।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ