• সোমবার   ০৩ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ১৮ ১৪২৯

  • || ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

কেউ হুমকি দিলে তার তো প্রমাণ লাগবেঃ হাবিবে মিল্লাত

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮  

যমুনাপারের সিরাজগঞ্জ শহরের বুক যেন লেপ্টে গেছে পোস্টারে পোস্টারে। আছে কান ঝালাপালা করা মাইকের আওয়াজ। সন্ধ্যা নামতে না-নামতেই শান্ত জনপদের অলিগলি থেকে বেরিয়ে আসছে নির্বাচনী মিছিল। তবে এসব পোস্টার, মাইক ও মিছিল কেবলই একটি দল—আওয়ামী লীগের। বিরোধী অন্য দল বা ব্যক্তির তেমন কোনো পোস্টার, মাইক বা মিছিল নেই শহরের কোথাও।

শহরে তাহলে কি আর কোনো দল নির্বাচন করছে না? তাদের পোস্টার, মাইক, মিছিল নেই কেন? গত রোববার সিরাজগঞ্জ-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও দলের জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাবিবে মিল্লাতের কাছে এ প্রশ্ন করতেই তিনি বললেন, ‘আরে ভাই পোস্টার লাগাতে হলে তো সেটা ছাপতে হবে। এরা তো পোস্টারই ছাপেনি।’

কিন্তু আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, তাঁর লোকদের বাধা দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ভয় দেখানো হচ্ছে। হাবিবে মিল্লাত বলেন, ‘এসব কথা ঘরে বসে বলছে কেন, রাস্তায় এসে বলতে বলেন। কেউ হুমকি দিলে তার তো প্রমাণ লাগবে। এসব রাজনৈতিক কথাবার্তা। আমি ভাই ডাক্তার মানুষ এসব বলতে পারব না।’

হাবিবে মিল্লাতের এস এস রোডের সুরম্য বাড়িটি ততক্ষণে নেতা-কর্মীতে ভরে গেছে। গাড়ি বারান্দায় তিনটি জিপগাড়ি প্রস্তুত করা। তিনি জনসংযোগে বের হবেন। সবাইকে প্রস্তুত হতে বলে হাতের ফোন দেখিয়ে বললেন, ‘দিনে ২০ কিলোমিটার হাঁটছি, এই দ্যাখেন ফোনের রেকর্ড।’

হাবিবে মিল্লাতের বাড়ির সামান্য দূরে হোসেনপুরের আল মাহমুদ অ্যাভিনিউয়ে বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাড়ি। তাঁর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ বিএনপির প্রার্থী। বিশাল প্রাচীরঘেরা জমিদারি ঢঙের পুরোনো বাড়িটি একেবারেই ফাঁকা। আঙিনার ভেতরের পুকুরপাড়ে দেখা গেল তিন যুবক বসে গল্প করছেন। সাংবাদিক পরিচয় দিতেই তাঁরা নিয়ে গেলেন বাড়ির ভেতরে রুমানা মাহমুদের কাছে। সারা দিন তিনি বাড়িতেই ছিলেন, কোথাও বের হননি।

নির্বাচনী প্রচার ছেড়ে বাড়িতে কেন? প্রশ্ন করতেই রুমানা বললেন, ‘বের হলেই তো আমার ছেলেদের ওপর হামলা হচ্ছে, তাদের মারপিট করা হচ্ছে। কালই (শনিবার) এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা কেউ বেরই হতে পারছি না। এখন কোথাও গেলে আগে পুলিশ প্রশাসনকে জানাতে হচ্ছে। তারা পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’ জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদ জানালেন, তাঁর মেয়ের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা শেখ সেলিমের ছেলের বিয়ে দিয়েছেন। সেই সুবাদে ব্যক্তিগতভাবে তিনি হয়তো রেহাই পাচ্ছেন।

এ অবস্থা শুধু একটি আসনের নয়, কমবেশি প্রায় সব আসনেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ  বলেন, ‘আমরা চাই ভয়মুক্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। যাতে সবাই নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারেন। সেই পরিবেশের ঘাটতি আছে বলে মনে হচ্ছে।’

প্রায় ২২ লাখ ভোটারের এই জেলায় সংসদীয় আসন ছয়টি। এসব আসনে যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদের প্রায় সবাই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এর মধ্যেসিরাজগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী দুঁদে রাজনীতিক, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম; তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সংগীত শিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। সিরাজগঞ্জ-২ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবে মিল্লাতের শ্বশুর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল আজিজ ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক। বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নান তালুকদার। সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তানভীর ইমামের বাবা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম। আর ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন জামায়াতের নেতা রফিকুল ইসলাম খান। সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল মমিন মণ্ডল। তিনি বর্তমান সাংসদ আবদুল মজিদ মণ্ডলের ছেলে। আর বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির সহপ্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান। আবারসিরাজগঞ্জ-৬আসনে বিএনপির প্রার্থী এম এ মুহিত। তিনি এইচ এম এরশাদের আমলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. এম এ মতিনের ছেলে। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সাংসদ হাসিবুর রহমান স্বপন। তিনি সাবেক উপমন্ত্রী।

এলাকার ভোটাররা বললেন, আওয়ামী লীগের ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীদের জেতাতে আড়ালে-আবডালে নানা তৎপরতা চলছে। আর সে কারণেই বিএনপির কর্মীরা মাঠে নামতে পারছেন না।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ