• মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৭

  • || ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

৭০

হজরত ইউসুফ (আ.) কে হত্যার ষড়যন্ত্র করে আপন ভাইয়েরা

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯ নভেম্বর ২০২০  

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে হজরত ইউসুফ (আ.) জীবন কাহিনী খুব সুন্দর ও নিখুঁতভাবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানব ছিলেন হজরত ইউসুফ (আ.)। যার রূপ ছিল অপরিসীম, যার চরিত্র ছিল নির্মল, যার দানশীলতা ছিল ভুবনবিখ্যাত। যার নির্মল চরিত্রের মাঝে সাম্য মৈত্রী উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বিদ্যমান ছিল তার তুলনাবিহীন। 

হজরত ইউসুফ (আ.) এর রূপের উজ্জলতা ছিল চাঁদের মতো। আল্লাহ তায়ালা নিজে হজরত ইউসুফ (আ.) এর রূপের প্রশংসা করেছেন সব গ্রন্থে। মানব-দানব, জীন-পরী ও ফেরেশতার চেয়ে অধিক রূপ দান করেছিলেন আল্লাহ তায়ালাকে হজরত ইউসুফ (আ.) কে। 

হজরত ইউসুফ (আ.) এর পিতার নাম ছিল হজরত ইয়াকুব (আ.)। হজরত ইয়াকুব (আ.) এর পিতার নাম ছিল হজরত ইসহাক্ব (আ.)। হজরত ইসহাক্ব (আ.) এর পিতার নাম ছিল হজরত ইব্রাহিম (আ.)। তারা সবাই আল্লাহ তায়ালার খাস নবী ও রাসূলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

দেশ ও জাতিগতভাবে তারা প্রেরিত হন। হজরত ইয়াকুব (আ.) আবাস্থল সিরিয়ার রাজ্যের কেনানে। হজরত ইয়াকুব (আ.) দুই মামাতো বোনকে বিবাহ করেছিলেন। তখনকার শরীয়তে দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করার বিধান ছিল। 

তাদের এক বোনের নাম ছিল লাইয়া, আরেক বোনের নাম ছিল রাহীল। লাইয়া গর্ভে হজরত ইয়াকুব (আ.) এর ছয়টি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। হিব্রু বাইবেল অনুসারে, তাদের নাম রেউবেন, সিমোন, লেভি, ইয়াহুদা, ইসসাচার ও জেবুলুন। 

অপরদিকে রাহীলার গর্ভে জন্ম নেয়, মাত্র দুই পুত্র সন্তান। যাদের নাম হজরত ইউসুফ (আ.) ও বেনিয়ামিন। হিব্রু বাইবেল অনুসারে, হজরত ইউসুফ (আ.) ভাইয়ের সংখ্যা ছিল ১১ জন। 

হজরত ইউসুফ (আ.) এর বয়স যখন পাঁচ বছর, তখন তার ছোট ভাই বেনিয়ামিন হয়। বেনিয়ামিনের জন্মের সময় তার মা রাহীল মারা যান। তখন বেনিয়ামিন প্রতিপালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তার খালা বা বিমাতা লাইয়া। 

তিনি অত্যন্ত যত্নসহকারে ও আদর সোহাগ দিয়ে বেনিয়ামিনকে লালন-পালন করেন। তার নিজের সন্তানের চেয়ে অধিক ভালোবাসতেন বেনিয়ামিনকে। হজরত ইউসুফ (আ.) এর প্রতি তার যথেষ্ট আকর্ষণ ছিল। 

হজরত ইয়াকুব (আ.) সব সন্তানের চেয়ে হজরত ইউসুফ (আ.)কে অধিক ভালোবাসতেন। তাকে তাই তিনি কখনোই চোখের আড়াল হতে দিতেন না। এজন্য তার অন্যান্য ভাইরা ইউসুফ (আ.) এর প্রতি মনে মনে বিদ্বেষ পোষণ করত। 

হজরত ইউসুফ (আ.) এর প্রতি পিতার আকর্ষণ কীভাবে কমানো যায়, তার প্রতি তার ভাইয়েরা সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখতে। হজরত ইউসুফ (আ.) এর সব ষড়যন্ত্র যখন এক এক করে ব্যর্থ হতে থাকে। তখন তারা শেষ কৌশল হিসেবে হজরত ইউসুফ (আ.) কে গুম করা অথবা হত্যা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। 

এরইমধ্যে একদা কদর এবং জুম্মার রাতে হজরত ইউসুফ (আ.) স্বপ্ন দেখলেন, ১১টি নক্ষত্র, সূর্য ও চন্দ্রসহ তাকে সিজদা করছে। এই স্বপ্নের কথা পিতাকে বললে, পিতা বললেন হে প্রিয় বৎস স্বপ্নের কথা তুমি তোমার ভাইদের কাছে বর্ণনা করিও না। কারণ তারা তোমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।

হজরত ইউসুফ (আ.) এর ভাইয়েরা দেখলো, যে পিতা ইয়াকুব (আ.), হজরত ইউসুফ (আ.) কে সর্বাপেক্ষা  ভালোবাসেন। ফলে তাদের মনে হিংসা আরও বেড়ে গেলো এবং হজরত ইউসুফ (আ.) এর স্বপ্নের খবরও তারা জেনে গেলেন। এতে হজরত ইউসুফ (আ.) এর বিরাট মহত্ত্বের কথা বুঝতে পেরে, তার প্রতি তাদের হিংসা আরও বৃদ্ধি পেলো। 

তারা বলাবলি করলো, পিতাকে দেখি হজরত ইউসুফ (আ.) ও বেনিয়ামিনকে অধিক ভালোবাসেন। অথচ আমরা ১০ জন এবং তাদের বড় হওয়ার কারণে ঘরের কাজকর্ম আমাদেরকে করতে হয়। তারা উভয়েই ছোট বালক। তার উচিত ছিল, তাদের চেয়ে  আমাদেরকে বেশি ভালোবাসা। এটা নিশ্চয়ই অন্যায়। তাই এর থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য হয়তো হজরত ইউসুফ (আ.)কে হত্যা করতে হবে, নয়তো এমন দূর দেশে নির্বাসিত করতে হবে, যে থেকে সে আর ফিরে না আসতে পারে।

হজরত ইউসুফ (আ.) এর ভাইয়েরা নির্জনে গোপনে পরমর্শ করলো। কি এমন করা যায়? যাতে কার্যসিদ্ধি হবে এবং আমরাও নির্দোষ প্রমাণিত হবো। তাদের মধ্যে কেউ বললো ইউসুফকে হত্যা করা হোক, কেউ বললো তাকে কোনো গভীর অন্ধ কূপে নিক্ষেপ করা হোক। যাতে এই ঝামেলা দূর হয়ে যায় আর পিতার ভালোবাসায় আমরাও অংশীদার হবো। আর আমরা সফল হলে তোওবা করে কিংবা দোষ স্বীকার করে পাপ মুক্ত হয়ে যাবো।

 

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর