• শুক্রবার   ১৪ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ৩১ ১৪২৮

  • || ০২ শাওয়াল ১৪৪২

‘সৌন্দর্যের’ কাঠবাদামে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২১  

বর্তমানে বাজারে ৮০০-৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে কাঠবাদাম। পুষ্টিগুণের কারণে আগের তুলনায় চাহিদাও বেড়েছে। কাঠবাদামের গাছ রাজশাহী নগরীর বিভিন্ন রাস্তার ডিভাইডারে লাগানো হয়েছে। পথশিশু ও স্থানীয় অনেকেই ঝরেপড়া কাঠবাদামগুলো কুঁড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। অর্থকরী ফল হিসেবে এর সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) সূত্র জানায়, রাসিকের জিরো সয়েল প্রকল্পের আওতায় নগরীর বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে লাগানো হয় কাঠবাদামের গাছ। কিছু গাছ লাগানো হয়েছে নগরীর হেতেম খাঁ কলাবাগান এলাকার সড়কের পাশে। নগরীর সপুরা শারীরিক শিক্ষা কলেজের সামনে থেকে আঞ্চলিক কৃষি দফতরের সামনের সড়কের পাশেও রয়েছে কাঠবাদাম গাছ।

সম্প্রতি আঞ্চলিক কৃষি দফতরের সামনে সড়কের পাশের কাঠবাদাম গাছের পাতা কুড়াচ্ছিলেন ষাটোর্ধ্ব রহিমা খাতুন। নগরীর হেতেম খাঁ কলাবাগানে বাড়ি তার। বৃদ্ধা জানান, প্রায় দশ বছর আগে এ গাছগুলো লাগানো হয়। সেই থেকে পাতা কুড়িয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন। দুই বছর হলো ফল এসেছে। চৈত্রের দিকে ফল পাকে। কখনোই তিনি কাউকে সেই ফল কুড়াতে দেখেননি। নিজেও ফল কুড়াননি। ফলগুলো গাছের নিচেই পড়ে নষ্ট হচ্ছে। কয়েক মাস থেকে পথশিশুদের কাঠবাদাম কুড়াতে দেখছেন।

নগরীর রেলগেট শহীদ কামারুজ্জামান চত্বরের দুই পাশে সড়ক বিভাজকের ওপর শোভা ছড়াচ্ছে ছোট-বড় তিনটি কাঠবাদাম গাছ। গাছে শোভাবর্ধনকারী লাইটও ঝুলিয়েছে নগর কৃর্তৃপক্ষ।

কামরুজ্জামান চত্বরে ডিউটিরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য জানান, তিনটি গাছেই ফল আসছে প্রায় দুই বছর ধরে। সেগুলো পড়ে থাকে রাস্তায়। অনেক সময় পথচারীরা সেগুলো কুড়িয়ে নিয়ে যান। অনেকেই তাকে জানিয়েছেন, এ কাঠবাদাম বেশ সুস্বাদু। তিনি কখনো এ কাঠবাদামের স্বাদ নেননি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) উম্মে ছালমা বলেন, ‘রেলগেটেই আমার অফিস। এ পথ মাড়িয়ে প্রতিদিন অফিসে যেতে হয়। কৌতূহলবশত একদিন রাস্তায় পড়ে থাকা কাঠবাদাম কুড়িয়ে এনেছিলাম। ভেঙে কাঠবাদাম পেয়েছি। কিন্তু এই কাঠবাদামের স্বাদ বাজারে পাওয়া কাঠবাদামের স্বাদে কিছুটা ভিন্ন। আকারেও বেশ ছোট। এটি আসলে কোন প্রজাতির এবং খাওয়ার উপযোগী কি-না, তা পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে বর্তমানে কাঠবাদামের চাহিদা বেড়েছে। বাজারে ৮০০-৯০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এছাড়া দেশের বেকারি শিল্পেও এর ব্যবহার বেড়েছে। পুষ্টি ও স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে এটি হার্টের জন্য উপকারী। রাজশাহীর এই কাঠবাদাম খাবার উপযোগী হলে অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে। বাণিজ্যিকভাবেও কাঠবাদামের রয়েছে অফুরান সম্ভাবনা।’

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) যে জিরো সয়েল প্রকল্পের আওতায় কাঠবাদাম গাছ লাগিয়েছে সেই প্রকল্পটির পরিকল্পনায় ছিলেন তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক। এটি সেই কাঠবাদাম কি-না, তা নিয়ে সন্দিহান সদ্য অবসরে যাওয়া এই প্রকৌশলীরও।

তিনি বলেন, ‘ওই সময় বগুড়ার সবুজবাংলা নার্সারি থেকে ৪০-৫০টি চারা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে রোপণ করা হয়। মূলত সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবেই লাগানো হয়েছে এ গাছগুলো। এখন সেই গাছগুলো ফল দিচ্ছে।’

রাসিকের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদুল হক বলেন, ‘মূলত নগরীকে সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন করে সাজাতে নগরজুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। কাঠবাদামের গাছটিও এর মধ্যে অন্যতম। দুই দফায় নগরীর বিভিন্ন চত্বর ও সড়কের পাশে প্রায় ৭০টি কাঠবাদাম গাছ লাগানো হয়েছে।’

রাসিক জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর মিশু জানান, কাঠবাদামের গাছটি রাসিক থেকে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো হয়েছে। কিন্তু এর যদি বাণিজ্যিক সম্ভাবনা থেকে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে এর রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে উদ্যান বিশেষজ্ঞ ও পাবনার টেবুনিয়া হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক কেজেএম আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘রাজশাহীর এই কাঠবাদাম আসলে বুনো প্রজাতির। এ গাছগুলো ছায়াদানকারী ও সৌন্দর্যবধর্নকারী হিসেবেই লাগানো হয়। বাজারের কাঠবাদামের খোসা কাষ্ঠল হলেও নরম। অন্যদিকে, বুনো কাঠবাদামের খোসা বেশ শক্ত, যা রাজশাহীর কাঠবাদামের সঙ্গে মিলে যায়।’

নিরক্ষীয় অঞ্চলে জন্মানো আমন্ড বা কাঠবাদাম গাছ আমাদের দেশের প্রকৃতিতে টিকিয়ে রাখা কঠিন বলেও জানান এ উদ্যান বিশেষজ্ঞ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শামছুল হক বলেন, ‘নগরীতে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্দেশ্যে লাগানো হলেও কাঠবাদাম গাছগুলোতে ফল আসা শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়বে। আপাতত কৃষকদের কাঠবাদাম চাষে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। তারপরও কিছু শৌখিন বাগান মালিক ব্যক্তি উদ্যোগে কাঠবাদাম লাগাচ্ছেন।’

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ