• শনিবার   ১৫ মে ২০২১ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪২৮

  • || ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

সিরাজগঞ্জে প্রাণীসম্পদের ভ্রাম্যমাণ ভ্যান এখন শেষ ভরসা

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২১  

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ঘোষিত ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ সারা দেশে শুরু হয়েছে ব্যাপক কড়াকড়ি। সারা দেশের শহর গুলোতে দোকানপাট বন্ধ থাকায় সিরাজগঞ্জের পোল্ট্রি খামারীরা উৎপাদিত ডিম নিয়ে বিপাকে পড়ে আছে। দূরপাল্লার যান চলাচল না থাকায় বিক্রি করতে পারছেনা সিংহ ভাগ ডিম। দু বছরের এই লকডাউনের কারণে অনেকেই এই পোল্ট্রি শিল্প থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিতে শুরু করেছে। ফলে হুমকীর মুখে পড়েছে সম্ভবনাময় এই শিল্পটি। প্রাণীসম্পদ বিভাগ ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে ডিম বিক্রির ব্যবস্থা নিলেও সারা নেই ক্রেতাদের মাঝে।

গত ৯ এপ্রিল থেকে মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার, নিরাপদ প্রাণিজ পুষ্টি হবে সবার। এই প্রতিপাদ্যক ধারণ করে দেশে করোনা পরিস্থিতিতে জনসাধারণের প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিতকল্পে সিরাজগঞ্জে ন্যায্যমুল্যে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে করে ডিম বিক্রির ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রাণীসম্পদ অফিস। সাধারন মানুষের চলাচল আর দোকানপাট বন্ধ থাকায় ডিম বিক্রি করতে পারছেনা ন্যায্যমুল্যের এই ব্যবসায়ীরা। 

জেলা প্রাণীসম্পদ অফিস সুত্রে জানা যায়, বর্তমান পোল্ট্রি ফার্মের অবস্থা অনেকটাই নাজুক। উৎপাদিত ডিম নিয়ে মহাবিপদে পোল্ট্রি খামারীরা। জেলায় ৩ হাজার ৭শত ৭৭টি পোল্ট্রি খামার হতে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ডিম উদৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত ডিম জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী সহ দেশের অনেক জেলাতে সরবরাহ করে থাকে। প্রতিদিন ১০ লাখ ডিম উৎপাদিত হলেও এই জেলার চাহিদা মাত্র ২ লাখ বাকী ৮ লাখ ডিম কোন ভাবেই অন্যত্র পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমান লকডাউনের জন্য দূরপাল্লার যানবাহন না থাকায় দিন দিন ডিম বিক্রি করতে না পারায় চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারীদের। এভাবে চলতে থাকলে পোল্ট্রি র্ফাম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে খামারীরা। আর এই খামার বন্ধ হলে মানুষের চরম পুষ্টি শুন্যতা দেখা দিবে। 

জেলার শিয়ালকোল এলাকার পোল্ট্রি খামারী শাহীন রেজা বলেন, আমার খামারে ২৮ হাজার মুরগী আছে। প্রতিদিন ১৪ হাজার ডিম উৎপাদন হয় এই খামারে। গত ১০ দিনের লকডাউনে প্রতিদিন প্রাণীসম্পদের এই ভ্রাম্যমাণ ভ্যান ২ হাজার করে ডিম নিয়েছে। বাকী ১২ হাজার ডিম আমি কি করবো। মুরগীর খাদ্যের দাম অনেক বেশি। ডিম বিক্রি করতে না পারলেও মুরগীকে ঠিকি খাবার দিতে হয় সময় মতো। 

বাংলাদশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্টিজ এ্যাসোসিয়েসন জেলা শাখার সভাপতি এস এম ফরিদুল ইসলাম বলেন, ভালো নেই আমাদের পোল্ট্রি খামারীরা। অথচ দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা আমরাই পুরন করে থাকি। গত বছরের লকডাউনের কারণে চরম লোকসান গুনতে হয়েছে আমাদের। সরকার হাতে গোনা কয়েকজন খামারীকে কিছু সহযোগীতা করলেও সিংহ ভাগ খামারী কিছুই পায়নি সরকারী সহযোগীতা। এবছর লকডাউনে যা শুরু হয়েছে এতে করে আর এই শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবেনা। প্রতিদিন গড়ে ৮ লাখ ডিম নিয়ে মহা বিপদে আছে আমাদের খামার মালিকরা। 

জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আক্তারুজ্জামান ভূইয়া বলেন, বর্তমানে করোনা ভাইরাসের জন্য আমার জেলার খামারীরা উৎপাদিত ডিম নিয়ে যাতে সমস্যা না হয় সে কারণে বাংলাদশ পাল্ট্রি ফার্মারস এসোসিয়েশন (বিপিএফএ) এর বাস্তবায়ন এবং প্রাণী সম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প ( এলডিডিপি), প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সহযাগিতায় সারাদেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জ জেলা ও উপজলা সদরগুলাতে ১০ দিন ব্যাপী মোট ৪৪ টি ন্যায্যমুল্যের ভ্রাম্যমাণ ভ্যান বিক্রয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে । এ কেন্দ্রগুলোতে ফার্মের মুরগীর ডিম ২৬ টাকা হালি, সোনালী মুরগির মাংস প্রতি কজি ২৫০ টাকা মুল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এই ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্র চালুর ফলে খামারীরা তাদের উৎপাদিত ডিম ও মুরগী অতি সহজে  বিক্রি করতে পারবে। তবে অবশিষ্ট ডিম যাতে করে রাজধানী সহ অন্যত্র জেলাতে পাঠানো যায় তার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যম দিয়ে মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে খামারীরা যাতে লোকসান না পরে সে দিকে কঠোর নজরদারী রাখা হয়েছে।

দেশের সম্ভাবনাময় এই পোল্ট্রি শিল্পকে বাঁচাতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবে এমনটিই প্রত্যশা এ অঞ্চলের প্রান্তিক খামারিদের।  

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ