• বৃহস্পতিবার   ১৩ মে ২০২১ ||

  • বৈশাখ ৩০ ১৪২৮

  • || ০১ শাওয়াল ১৪৪২

সিরাজগঞ্জে চরাঞ্চলবাসীর মালামাল বহনে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২১  

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর চরাঞ্চলবাসী ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িতে যাতায়াতসহ মালামার বহন করছে। গ্রাম-বাংলার ঘোড়ার গাড়ি এখন প্রায় বিলুপ্তের পথে হলেও যুগ যুগ ধরে চরাঞ্চলের মানুষ এখনও এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে প্রয়োজনে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে চরাঞ্চলবাসীর নৌকাই যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এবং শুকনো মৌসুমে মালামাল বহনের ভরসা ঘোড়ার গাড়ি। যমুনা নদীর পানি কমে যাওয়ায় প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। এতে যমুনার বুকে অসংখ্য ছোট বড় চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে যমুনা নদীর তীরবর্তী কাজিপুর, শাহজাদপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাসীর যাতায়াত ও বিভিন্ন মালামাল বহনে এখন ঘোড়ার গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে চরাঞ্চলের কৃষকরা বাদাম, ভুট্টা, মসুর ডাল, বোরো ধান, বেগুন, মিষ্টি আলু ও তিল কাউনসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে থাকেন। কৃষকরা এসব উৎপাদিত ফসল সংশ্লিষ্ট উপজেলা সদরে বিক্রি করার জন্য নদীর ঘাটে নিয়ে আসার একমাত্র ভরসা ঘোড়ার গাড়ি। এ অঞ্চলে রাস্তাঘাট না থাকায় ঘোড়ার গাড়ির চালকেরা জীবন ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এ চর থেকে ওই চরে ছুটে বেড়াচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, যমুনার বুকে ছোট বড়ো অসংখ্য চর জেগে ওঠায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরাঞ্চলে যাতায়াতে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল ও পণ্য পরিবহনে ঘোড়াগাড়ি ব্যবহার অনেকটাই বেড়ে গেছে। জেলা প্রশাসনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, গ্রাম বাংলার ঘোড়ার গাড়ি এখন তেমন চোখে না পড়লেও চরাঞ্চলে এ ঐতিহ্য দেখা যাচ্ছে।

যমুনা নদীর তীরবর্তী ৫টি উপজেলার অধিকাংশ চরাঞ্চলের মানুষ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তবে বর্তমান সরকার চরাঞ্চলবাসীর ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছে। আগামীতে চরাঞ্চলবাসীর এমন কষ্টের বোঝা বইতে হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ