• মঙ্গলবার   ০৯ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ২৫ ১৪২৭

  • || ২৫ রজব ১৪৪২

সিরাজগঞ্জে খেজুর গুড় তৈরীতে ব্যস্ত গাছিরা

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি ২০২১  

শীতে খেজুরের রস থেকে গুড় তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গাছিরা। আঁখের চাষ কমে যাওয়ার পাশাপাশি সুস্বাদু হওয়ায় চাহিদাও বাড়ছে খেজুর রসের তৈরী গুড়ের। তাই দিন দিন গাছিরাও ঝুঁকছেন খেজুরের গুড় তৈরীতে। 

জানা যায়, সিরাজগঞ্জের তাড়াশের রাস্তা ও পুকুর ধারে শোভা পাচ্ছে শত শত খেজুর গাছ। বছরের শুরুতেই রাজশাহী অঞ্চলের গাছীরা এসব খেজুরের গাছ স্বল্পমুল্যে লিজ নেয়। শীতের শুরুতেই গাছিরা খেজুর গাছ পরিচর্যা করে থাকেন। শীত শুরু হলে মাটির হাড়ি দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে গাছিরা রস সংগ্রহ করে। ফজরের নামাজের আগে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে কড়াই জাল দিয়ে তৈরী করেন গুড়। এসব গুড় স্বাদে ও গুনে ভাল হওয়ায় স্থানীয় চাহিদার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয়ে থাকে। 

রাজশাহীর চারঘাট এলাকার গাছি খায়রুল হোসেন জানান, ৪ জনের একটি গ্রুপ রাজশাহী থেকে এসে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রায় ৩ শতাধিক গাছ লিজ নিয়েছি। এসব গাছ থেকে পাওয়া রস দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে আড়াই মণ গুড় তৈরী করা হয়। কেমিকেল ব্যবহার না করায় গুড়ের মান যেমন ভাল তেমনি সুস্বাদু। প্রতি কেজি গুড় ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা এসে এসব গুড় কিনে নিয়ে যায়। তারা আরো জানান, তাড়াশ-রায়গঞ্জ অঞ্চলটি খেজুর গাছ চাষের জন্য উপযোগী।  সরকারীভাবে বেশি করে খেজুর গাছ লাগানো হলে আরো বেশি গুড় উৎপাদন সম্ভব বলে তারা মনে করেন। 

স্থানীয় কলেজ শিক্ষক ময়নুল হোসেন, সোহেল রানা ও মোক্তার হোসেন জানান, খেজুরের গুড়ের পাশাপাশি রস দিয়ে পিঠা-পায়েস তৈরী করলে খুবই সুস্বাদু লাগে। একারণে এ অঞ্চলে খেজুরের গুড়ের চাহিদা বেশি। এছাড়াও সকাল বেলায় খেজুরের রস থেকে খেতে খুবই মজা। শিশু থেকে সব বয়সীর মানুষ রস খেয়ে থাকে। 

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাবিবুল হক জানান, জেলায় আখের চাষ কমে যাওয়ায় খেজুরের চাহিদা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এজন্য স্থানীয় কৃষকদের খেজুর গাছ লাগানোর পরামর্শের পাশাপাশি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে রাস্তার ধারে ও সরকারী খাস জমিতে খেজুর গাছ রোপন করা হচ্ছে। আশা করছি দুই-তিন বছরের মধ্যেই গাছীরা এর সুফল পাবে। 

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ