• শনিবার   ১৯ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৫ ১৪২৮

  • || ০৯ জ্বিলকদ ১৪৪২

সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ইলিয়ট ব্রিজ

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২১  

যমুনা নদীর তীরে গড়ে উঠা দারুণ প্রাকৃতিক শোভামণ্ডিত এক জেলা হলো সিরাজগঞ্জ। এই জেলাটিতে দেখার মত রয়েছে বহু দৃষ্টিনন্দন স্থান। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা জায়গায় পরিপূর্ণ সিরাজগঞ্জ তাই হতে পারে আপনার ভ্রমণ গন্তব্য। যারা সপ্তাহে এক দিনের বেশি ছুটি পান না কিন্তু ঘুরে বেড়াতে ইচ্ছে করে তাদের ঘোরার জন্য আদর্শ জায়গা হলো সিরাজগঞ্জ।

সিরাজগঞ্জের আকর্ষণীয় স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইলিয়ট ব্রিজ। আপনার সিরাজগঞ্জ ভ্রমণে দেখে আসতে ভুলবেন না এই ঐতিহ্যবাহী ইলিয়ট ব্রিজ। ইলিয়ট ব্রিজ সিরাজগঞ্জ শহরের কাটাখালের উপরে অবস্থিত। ১৮৮২ সালে নির্মিত এই ইলিয়ট ব্রিজ আজও ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সিরাজগঞ্জ শহরে। এই ব্রিজটি দারুণ একটি ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য। ১৮০ ফুট লম্বা আর ১৬ ফুট চওড়া এই ইলিয়ট ব্রীজের প্রধানতম বৈশিষ্ট হলো এতে কোন পিলার নেই!

ইলিয়ট ব্রিজের ইতিহাস ও নির্মাণ

ষ্টুয়ার্ট হার্টল্যান্ড নামের ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ইঞ্জিনিয়ারের তৈরি এই পিলার-বিহীন একমাত্র আর্চ দিয়ে তৈরি ব্রিজটি তৈরিতে সেসময় পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিল। একসময় সিরাজগঞ্জ শহরকে দুইভাগ করেছিল হুড়া সাগর। কালের পরিক্রমায় নদীটি হারিয়ে গেছে। কিন্তু তার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই ইলিয়ট ব্রিজ। যা সিরাজগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের কাছেই বড়পুল হিসাবে পরিচিতি। এটি এই অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশে আছে। এই ব্রিজের মাঝামাঝি দাঁড়ালে আপনি গোটা সিরাজগঞ্জ শহর দেখতে পাবেন।

আগে হুড়া সাগর নদী নৌকা ছাড়া পারাপারের কোনো সুযোগ ছিল না। নদী দিয়ে চলাচল করত বড় বড় লঞ্চ, স্টিমার ও পালতোলা নৌকা। ১৮৯২ সালে সে সময়কার সিরাজগঞ্জের সাব ডিভিশনাল অফিসার মি. বিটসনবেল এই নদীর উপর একটা ব্রিজ তৈরি করার কথা ভাবতে শুরু করেন। তৎকালীন সময়ের বড় বড় ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটা কমিটি গড়লেন তিনি। ডিসট্রিক্ট বোর্ড থেকে অনুদান আদায় করে নিলেন ১,৫০০ টাকার। আর ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসলেন যার যার সাধ্যমতো। সিদ্ধান্ত হয়ে গেল খুব শিগগিরই একটা ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু হবে। তখনকার সময়ে বাংলা আর আসামের যে গভর্নর তাঁর নাম চার্লস ইলিয়ট। তিনিই ১৮৮২ সালের ৬ আগস্ট ফাউন্ডেশন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন সেই ব্রিজের। তার নামেই এই ব্রিজের নামকরণ করা হয় 'ইলিয়ট ব্রিজ'।

সেকালে সন্ধ্যার পর ইলিয়ট ব্রিজের উপরে দাঁড়িয়ে সিরাজগঞ্জ শহরের একটি ভিন্নতর রূপ চোখে পড়তো। তখন রাতে ইলিয়ট ব্রিজের উপর দাঁড়ালে দেখা যেত ঘন অন্ধকারের মধ্যে আশপাশের কোনো কিছুরই যেনো অস্তিত্ত্ব নেই। চারপাশে যেনো এক নিদারুণ শূন্যতা। দিনের বেলায় দেখা যেতো শহর থেকে অনেক দূরে অসংখ্য গ্রাম জনপদ গা-ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে আছে। এখনও পুরো সিরাজগঞ্জ শহরের সৌন্দর্য নিমিষেই ধরা পড়ে এই ব্রিজের ওপর থেকে। আর রাতের ঝলমলে আলোয় পুরো শহরটা হাজারো জোনাকির আলোর মত ধরা পড়বে আপনার চোখে।

যেভাবে যাবেন :

ঢাকা থেকে যেকোনো উত্তরবঙ্গগামী বাসে করে সিরাজগঞ্জ পৌঁছাতে হবে । সিরাজগঞ্জ বাস-স্ট্যান্ড থেকে রিকশাযোগে পৌঁছে যেতে পারবেন ইলিয়ট ব্রিজ।   

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ