• শনিবার   ১৯ জুন ২০২১ ||

  • আষাঢ় ৫ ১৪২৮

  • || ০৯ জ্বিলকদ ১৪৪২

সারাদেশে লকডাউন: সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল ২০২১  

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারাদেশে সরকার ঘোষিত লকডাউন শুরু হয়েছে। প্রথমদিন রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব জেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে, মাঠে ছিল ভ্রাম্যমাণ আদালতও। কিছু স্থানে লকডাউনের নির্দেশনা অমান্য করায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করা হয়েছে কয়েকজনকে।

ডেইলি বাংলাদেশের জেলা-উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন ও ছবি-

চট্টগ্রাম
সরকার ঘোষিত আটদিনের সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথমদিন চট্টগ্রাম নগরজুড়ে দেখা গেছে আদেশ পালনের প্রবণতা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না কেউ। কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশও।

বুধবার সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, লকডাউন শতভাগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়েছে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে মুভমেন্ট পাসসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে যেতে দেয়া হচ্ছে গন্তব্যে। অন্যথায় ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে উল্টোপথে। নেয়া হচ্ছে আইনি ব্যবস্থাও।

নগরীর আকবরশাহ মোড় এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট জলিল মিয়া বলেন, সরকার ঘোষিত আটদিনের লকডাউন শতভাগ বাস্তবায়নে কাজ করছে পুলিশ। প্রতিটি যানবাহন থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত কেউ বের হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।    

এদিকে, কন্টেনার ও খাদ্যবাহী ট্রেনের পাশাপাশি বুধবার থেকে চট্টগ্রামে চালু হয়েছে বিশেষ পার্সেল ট্রেন। বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম ছেড়ে ট্রেনটি সরিষাবাড়ী পৌঁছবে ভোর সাড়ে ৪টায়। ভোর সাড়ে ৫টায় একটি ট্রেন সরিষাবাড়ী ছেড়ে চট্টগ্রাম পৌঁছবে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে।

এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সরিষাবাড়ী ও চট্টগ্রাম-সিলেটের মধ্যে পরিবাহিত পার্সেল মালামাল ভৈরববাজার ও আখাউড়া স্টেশনে ল্যাগেজ ভ্যান সংযোজন/বিয়োজনের মাধ্যমে গন্তব্যে প্রেরণে চলাচল করবে আরো একটি ট্রেন।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা স্নেহাশীষ দাশগুপ্ত জানান, চট্টগ্রাম থেকে ৭-৮টি কন্টেইনার ও খাদ্যবাহী ট্রেন চালু রয়েছে। এসবের পাশাপাশি বুধবার থেকে পার্সেল ট্রেন চালু করা হয়েছে। কৃষি পণ্যও পরিবহন করবে ট্রেনটি।

কক্সবাজার
বৈশাখের প্রথম দিনে সুনশান নীরবতা পর্যটনের রাজধানী কক্সবাজারে। এবার বৈশাখে নেই কোনো আয়োজন। কঠোর লকডাউনে অনেকটাই ফাঁকা রয়েছে শহরের রাস্তাঘাট। বুধবার সকাল থেকে শহরের রাস্তাগুলো একেবারেই ফাঁকা রয়েছে।

রাস্তায় দু’একটি রিকশা, মোটরসাইকেল এবং জরুরি সেবার গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে। বন্ধ রয়েছে শহরের সব মার্কেট। কক্সবাজার শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। কেউ রাস্তায় বের হলে পড়তে হচ্ছে পুলিশের জেরার মুখে। জরুরি কাজ থাকলে পুলিশ সদস্যরা তাকে দ্রুত কাজ শেষ করে ঘরে ফেরার নির্দেশনা দিচ্ছেন।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া সুলতানা বলেন, লকডাউনের নির্দেশনা অমান্য করায় শহরের পানবাজারের পানাহার সুইটস্ এন্ড রেস্টুরেন্টকে ২ হাজার টাকা এবং ফিশারীঘাটে অহেতুক বাইরে ঘোরাঘুরি করার কারণে ২ জন পথচারি ৫শ’ টাকা করে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া মাইকিং করে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান করা হচ্ছে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রথম দফায় মানুষের চলাচল ও কার্যক্রমে বিধি-নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর বুধবার থেকে সাতদিনের জন্য ‘কঠোর লকডাউন’ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এই লকডাউনে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে জরুরি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস এবং গণপরিবহন বন্ধ থাকবে।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানিয়েছেন, নানা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে দায়িত্বপালনরত পুলিশ কর্মকর্তাদের। কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন এবং জনগণের নিরাপত্তায় পুলিশ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, সরকার যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে সেভাবেই লকডাউন বাস্তবায়ন করতে মাঠে রয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। বাইরে অযথা ঘোরাফেরা এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনকারীদের জরিমানাসহ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন।

আগামী এক সপ্তাহ জেলা প্রশাসনের এ অভিযান জোরদার থাকবে। এবার বৈশাখেও জেলায় কোনো আয়োজন নেই। অপ্রয়োজনে বাইরে অযথা ঘোরাফেরা না করতে এবং স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে সবাইকে ঘরে অবস্থান করতে বলেছেন জেলা প্রশাসক।

খুলনা
লকডাউনের প্রথম দিন খুলনায় লকডাউন মানাতে প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথেষ্ট তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার সকাল থেকেই মহানগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়। অনুরূপভাবে জেলা পুলিশও খুলনার সঙ্গে সংযোগ সড়কে বসায় চেকপোস্ট।

এসব চেকপোস্টে গাড়ি থামিয়ে যাত্রীদের পরিচয় এবং রাস্তার বের হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করা হচ্ছে। যেসব পেশার মানুষ জরুরি সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের চেকপোস্ট অতিক্রম করার অনুমতি দিয়ে অন্যদের ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে।

পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবসহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে মোবাইল টিমও মাঠে কাজ করছে।

অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় মহানগরীর রাস্তায় লোকসমাগম অনেকটা কম। পরিবহন, মার্কেট ও বিপণি বিতান বন্ধ রয়েছে। কিছু রিকশা, ইজিবাইক ও ভ্যান চলাচল করছে। বিশেষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে বের হচ্ছেন না কেউ। ফলে শহরে এক ধরনের নীরবতা বিরাজ করছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান ভূঞা বলেন, সর্বাত্মক লকডাউন পালনে খুলনায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে কেএমপি পুলিশ। ইউনিফরম পড়া পুলিশের ৩৬টি টিম, দুই ডিভিশনের ২৬টি, ১০টি মোবাইল টিম কাজ করছে। যে কোনো স্থানে দোকান পাট বা শপিংমল খুলছে খবর পেলে মোবাইল টিম তা বন্ধ করতে কাজ করছে।   

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে জেলা পুলিশ মাঠে তৎপর রয়েছে। জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের চেকপোস্টে তল্লাশি করা হচ্ছে। সবার কাছ থেকে লকডাউন কার্যকর করতে সহযোগিতা পাচ্ছি। জরুরি পণ্য সেবা ছাড়া সড়কে কোনো পরিবহন দেখছি না। এছাড়া যারা বাজার করতে বের হচ্ছেন তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে বের হচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, খুলনা জেলার সঙ্গে সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও যশোর এই তিন জেলার সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। সাতক্ষীরার সঙ্গে চুকনগর পয়েন্ট আমরা বড় একটি চেকপোস্ট বসিয়েছি সেখানে চেক করে গাড়ি ডুকতে দেয়া হচ্ছে। যেগুলো প্রয়োজন নেই তা ফিরিয়ে দিচ্ছি। যশোর থেকে প্রবেশের পথ ফুলতলার যুগ্নিপাশা ও বাগেরহাট থেকে প্রবেশের পথ কুদিরবটতলায় একইভাবে চেক পোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ঠেকাতে আরোপ করা ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ দিয়ে বুধবার থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে। লকডাউনের জন্য ১৪-২১ এপ্রিল পর্যন্ত চলাচলের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

পাবনা
করোনা মহামারি ঠেকাতে সরকার ঘোষিত লকডাউন সারাদেশের মতো পাবনাতেও কঠোরভাবে পালিত হচ্ছে। বুধবার সকাল থেকে প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। তবে পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে।  

ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে রাস্তাঘাটে কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করছে না। শহরের দোকানপাট, শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র সবজি, ওষুধ ও খাবারের দোকান খোলা রয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ টিম লকডাউনের পরিস্থিতি মনিটরিং করছে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে চেকপোস্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

পাবনা পুলিশ সুপার মুহবুল ইসলাম জানান, বাইরে যেতে হলে মুভিং পাস লাগবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর হতে বের হতে পারবে না।

মাদারীপুর

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণায় বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরিসহ সবধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বুধবার সকাল থেকে উভয়পাড়ে নোঙ্গর করে রাখা হয়েছে ফেরি, লঞ্চসহ নৌযানগুলো।

বাংলাবাজার ঘাট সূত্রে জানা যায়, লকডাউনের ঘোষণার পর মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঘাটে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। তবে লকডাউনের প্রথমদিনে ফেরি, লঞ্চসহ সবধরনের নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

জানা যায়, বাংলাবাজার শিমুলিয়া নৌরুটে ১৮টি ফেরি, ৮৭টি লঞ্চ ও দুইশতাধিক স্পিডবোট নিয়মিত চলাচল করে।

বরিশাল থেকে আসা যাত্রী বজলুর রহমান বলেন, ঢাকায় আমার বড় ভাই গুরুতর অসুস্থ। খবর পেয়ে সকালে ঘাটে এসেছি। বরিশাল থেকে ভেঙে ভেঙে অনেক কষ্টে এসেছি। এখন দেখি ঘাটে নৌচলাচল বন্ধ। যে অবস্থা মনে হয় ঢাকা যাওয়া হবে না। আবার বাড়ি ফিরে যেতে হবে।

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটের লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি বি এম আতাউর রহমান বলেন, লকডাউনের শুরু থেকেই এ রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। বুধবার থেকে কঠোর লকডাউনের ঘোষণার পর থেকে ৮৭টি লঞ্চই সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া স্পিডবোটগুলোও বন্ধ রয়েছে। কোনো মানুষই এখন ঘাট দিয়ে পারাপার হতে পারছে না।

বাংলাবাজার ঘাট ম্যানেজার মো. সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, লকডাউনে সবধরনের ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি পরিবহন পারাপারের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সারাদেশের মতো মানিকগঞ্জেও বুধবার ভোর থেকে লকডাউন চলছে। লোকজনের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে রাস্তায় চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ। কেউ বের হলে তাকে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে।

এদিকে লকডাউনে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরিতে পারাপার বন্ধ রয়েছে। তবে পণ্যবাহী গাড়ি, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স এবং অতি জরুরি ও রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহৃত যানবাহন পারাপারে সীমিতভাবে ফেরি চলাচল করছে।

পাটুরিয়া ঘাট এলাকাসহ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে জেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে। আজ সকাল ৬টা থেকে পণ্যবাহী গাড়ি ও লকডাউনের আওতামুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য যানবাহনগুলোকে চলাচল এবং ফেরিতে পারাপার করতে দেয়া হচ্ছে না। লকডাউনে মানুষকে ঘরে রাখতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।

আজ সকাল ৯টার দিকে মানিকগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় কেউ বের হলে তিনি পুলিশের জেরার মুখে পড়ছেন। তাদের ঘরে থাকতে নিশ্চিত করতে পুলিশ বাড়িতে অবস্থান করতে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে। মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শুধু ওষুধ, ফলের দোকান এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান খোলা থাকতে দেখা গেছে। আর সব বন্ধ আছে।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ, গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং থানার পুলিশকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলে নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায়। এ সময় লকডাউনে পুলিশের কার্যক্রম জোরদার এবং মানুষকে ঘরে থাকতে তদারকি করেন পুলিশ সুপার রিফাত রহমান।

রিফাত রহমান বলেন, লকডাউন কার্যকর করতে ফেরিঘাটসহ মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনীয় গাড়ি এবং লকডাউনের আওতার বাইরে রয়েছে- এমন যানবাহন ছাড়া সকাল ছটার পর থেকে অন্য যানবাহন চলতে দেয়া হচ্ছে না। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে অতিপ্রয়োজন- সংশ্লিষ্ট যানবাহন ছাড়া ফেরি পারাপার বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। আজ সকাল ৬টা থেকে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় কড়া নজরদারি করা হচ্ছে। সকাল ৬টার পর পাটুরিয়া ঘাটে আসা যানবাহনগুলোকে আটকে দেয়া হচ্ছে। এ কারণে ঘাট এলাকায় ছোট-বড় দুই শতাধিক যানবাহন আটকে পড়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সালাম মিয়া বলেন, শুধু জরুরি প্রয়োজনীয় ও লকডাউন আওতার বাইরে থাকা গাড়িগুলোকেই পারাপারের টিকিট দেয়া হচ্ছে। মাত্র দুটি ফেরি এসব যানবাহন পারাপার করছে।

আশুগঞ্জ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে সরকার ঘোষিত দ্বিতীয়বারের মতো লকডাউন চলছে। লকডাউনকে ঘিরে দূর পাল্লার যান চলাচল বন্ধ থাকলেও শহরে চলছে ছোট আকারের যান।

ঢাকা-সিলেট, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর আশুগঞ্জ টোলপ্লাজায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে বসানো হয়েছে পুলিশি চেকপোস্ট।

দূরপাল্লার কোনো প্রকার যানবাহন ও প্রয়োজন ব্যতীত জনসাধারণ চলাচল করলেই বাধা দিচ্ছে পুলিশ। এছাড়াও আশুগঞ্জ শহরের দোকানপাট, শপিংমলসহ সরকার নির্ধারিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সমূহ বন্ধ থাকলেও শহরে বসেছে সাপ্তাহিক বুধবারের হাট।

শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে বসেছে হাঁস-মুরগি, কবুতর, মসলা, কাঁচা বাজারসহ বিভিন্ন রকমের ছোটখাটো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এসব হাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

ভোলা

ভোলায় কঠোর লকডাউনে অনেকটাই ফাঁকা রাস্তাঘাট। রিকশা, মোটরসাইকেল ও জরুরি সেবার গাড়ি ছাড়া বন্ধ রয়েছে সব ধরনের যানবাহন ও মার্কেট।

শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।

ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, সরকার যে নির্দেশনা দিয়েছে সেভাবেই লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কেউ নির্দেশনা অমান্য করলে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে।

ফেনী

ফেনীতে বুধবার ভোর থেকে লকডাউন বাস্তবায়নে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। মানুষ ও যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চলছে জেল-জরিমানা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও জেলার বিভিন্ন স্থানে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। কেউ ঘর থেকে বের হলেই পড়তে হচ্ছে পুলিশের জেরার মুখে।

পটুয়াখালী

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে পটুয়াখালীতে আটদিনের কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করছে জেলা প্রশাসন। লকডাউন বাস্তবায়নে বুধবার সকাল থেকেই জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।

জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লকডাউন চলাকালে শুধু জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস, আদালত, দোকানপাট, গণপরিবহন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

দিনাজপুর
সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথমদিন দিনাজপুরে পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় কঠোরভাবে পালিত হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই কিছু অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল ছাড়া সব যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। শহরের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ রয়েছে।

মানুষ রাস্তায় বের হলেই পুলিশের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। শহরে বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি জিজ্ঞাসাবাদ, কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্মদ জাকী বলেন, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী লকডাউন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেলার হাটবাজার ও শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করছে।

বরিশাল

বরিশাল শহরে সরকার ঘোষিত আটদিনের ‘লকডাউন’র প্রথমদিন সর্বত্র কঠোর অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নগরবাসীকে সর্বাত্মক লকডাউন বাস্তবায়নে বিভিন্নভাবে সচেতন করেছেন প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বুধবার লকডাউনের প্রথম দিনে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাস্তায় মানুষ নেই বললেই চলে। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হলেই পুলিশ সদস্যদের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে। রাস্তায় পুলিশের টহল গাড়ি, পণ্যবাহী ট্রাক, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেটকার, রিকশা, মোটরসাইকেলসহ জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহৃত সীমিত সংখ্যক যানবাহন ছাড়া তেমন বড় কোন যানবাহন চোখে পড়েনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের চৌমাথা, রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড, লঞ্চঘাটসহ শহরের প্রবেশের প্রধান সড়ক কাকলির মোড় দেখা গিয়েছে শুধু মাত্র কয়েকটি পুলিশের টহল ভ্যান, দুই একটি রিক্সা ও অ্যাম্বুলেন্স। শহরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যারিকেড দিয়ে টহল বসিয়ে যানবাহন ও যাত্রীদের জেরা করতেও দেখা গেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতকেও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে।

এর আগে, সর্বাত্মক লকডাউন সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে আটদিনের বিধি-নিষেধমূলক দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এতে বলা হয়, ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ২১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সব সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এছাড়া বন্ধ থাকবে শপিংমল।

অন্যদিকে, কাঁচাবাজারে কেনাবেচা হবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত। হোটেল-রেস্তোরাঁ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুধুমাত্র খাবার বিক্রি ও সরবরাহ করতে পারবে। এ সময় অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে টিকা কার্ড দেখিয়ে টিকা নিতে যাওয়া যাবে।

এছাড়া বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন: কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম, বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন নিষেধাজ্ঞার আওতা বহির্ভূত থাকবে।

অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ