• শনিবার   ১৫ মে ২০২১ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪২৮

  • || ০৪ শাওয়াল ১৪৪২

সব ফাঁস করবেন বাবুনগরী

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২ মে ২০২১  

গ্রেফতার এড়াতে মরিয়া হয়ে গেছেন হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী। আর এ কারণেই তিনি এখন সব ফাঁস করে দেবেন। কারা তাকে উস্কে ছিলো, কারা তাকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য প্ররোচনা দিয়েছিলো এবং কে তাকে কি বলেছিলো ইত্যাদি সব তথ্যই তিনি প্রকাশ করবেন। এমন কথাই তিনি বলেছেন তার ঘনিষ্ঠদেরকে। জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই মামলাগুলোর তদন্ত করছে। এই তদন্তের যে কোনো পর্যায়ের জুনায়েদ বাবুনগরীকে গ্রেফতার করা হতে পারে। তবে জুনায়েদ বাবুনগরী এখন প্রচন্ড ভয় পেয়েছেন। গ্রেফতার এড়াতে মরিয়া জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন যে, তাকে সবাই মিলে ফাঁসিয়েছে। কারা তাকে ফাঁসিয়েছে সে কথাও তিনি বলছেন। জুনায়েদ বাবুনগরী মনে করছেন যে, তিনি যদি সত্য কথা বলেন তাহলে হয়তো সরকার তার প্রতি সহানুভূতি দেখাবে এবং তিনি গ্রেফতার এড়াতে পারবেন। 

জুনায়েদ বাবুনগরী এখন হাটহাজারীতে অবস্থান করছেন। সেখানে তার ঘনিষ্ঠদের পরিবেষ্টিত অবস্থায় আছেন এবং সারাক্ষণই তিনি আত্মসূচনা এবং কারা তাকে কিভাবে প্ররোচিত করলো সে সম্পর্কে তিনি বলছেন। জুনায়েদ বাবুনগরী তার ঘনিষ্ঠদেরকে বলেছেন মূলত খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, এই দুটি সংগঠনই হেফাজতকে ডুবিয়েছে। এরাই জুনায়েদ বাবুনগরীকে উস্কানি দিয়েছে এবং এই দুটি সংগঠনের সঙ্গেই বিএনপির সম্পর্ক রয়েছে। জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন যে, মামুনুল হক, আহমদ আবদুল কাদেরসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার মেশাটা ভুল ছিলো। আর তাদের সাথে ঘনিষ্ঠ হয়েছিলেন তিনি বিএনপি এবং জামায়াতের প্ররোচনায়, যে ভুল তিনি এখন স্বীকার করছেন। বাবুনগরী বলেছেন তার কাছে এটম বােমা রয়েছে। এমন তথ্য তার কাছে আছে, যে তথ্যগুলো প্রকাশ করলে বিএনপি রাজনীতি করতে পারবে না। তাকে যেভাবে উস্কানি দিয়েছে, প্ররোচনা দিয়েছে সে সমস্ত তথ্য গুলো তিনি প্রকাশ করবেন। 

উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালে যখন হেফাজত ঢাকায় তাণ্ডব করে তখন বাবুনগরী সংগঠনটির মহাসচিব ছিলেন। সেই সময় তিনি বাংলাদেশকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেছিলেন এবং নিজেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আহমদ শফীর তদবিরে শেষ পর্যন্ত তিনি মুক্ত হন এবং তার মামলাগুলো কার্যক্রমও স্থগিত হয়ে যায়। এরপর থেকেই তার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত এবং পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই যোগাযোগ শুরু করে। মূলত আইএসআই এর মদদেই জুনায়েদ বাবুনগরীর নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয় এবং বাবুনগরী আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থানে চলে যায়। আহমদ শফী যখন অসুস্থ হয়ে পড়েন তখনই পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী গোষ্ঠী জুনায়েদ বাবুনগরীকে হেফাজতের নেতৃত্বে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করে। কিন্তু বাবুনগরী যেনো একক ক্ষমতা না পায় সেই জন্যই মামুনুল হক, আবদুল কাদেরসহ বিভিন্ন নেতাকে যুক্ত করা হয় এবং আহমেদ শফী পন্থীদেরকে হেফাজতের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়।

জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে আইএসআই, লন্ডনে পলাতক তারেক জিয়া এবং যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের কি ধরনের সমঝোতা হয়েছিলো বা কি চুক্তি হয়েছিলো সে সম্পর্কে বাবুনগরী এখনো মুখ খুলছেন না। তবে বাবুনগরী বলেছেন, সরকার যদি তার সাথে কথা বলে তাহলে তিনি সব ফাঁস করে দেবেন। তবে জুনায়েদ বাবুনগরীর এই কথাবার্তাকে সরকার খুব একটা আমলের নিচ্ছে না। বরং এটিকে জুনায়েদ বাবুনগরীর বাঁচার কৌশল হিসেবে দেখছেন। সরকারের একাধিক সূত্র বলছে যে, জুনায়েদ বাবুনগরীরা যখনই বিপদে পড়ে তখনই আত্মসমর্পণ করে, নতজানু হয়। আবার বিপদ শেষ হয়ে গেলে তারা আবার স্বমূর্তিতে আসে। কাজেই সরকার জুনায়েদ বাবুনগরীর এই গোপন কথার ব্যাপারে আগ্রহী নয়। জুনায়েদ বাবুনগরীরা কি ষড়যন্ত্র করেছিলো এবং কি পরিকল্পনা এঁকেছিলো সেগুলো সরকারের ভালই জানা আছে। কাজেই বাবুনগরীর ফাঁস করার ঘোষণায় তিনি গ্রেফতার এড়াতে পারবেন কিনা সেটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ