শনিবার   ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১৬ ১৪২৬   ০৫ রজব ১৪৪১

১৩

সবাই চাকরির পেছনে ছুটবে কেন? সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের আত্মকর্মসংস্থান তৈরি ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সরকার এখন পর্যন্ত দেশের দুই কোটি মানুষের চাকরির সুযোগ তৈরি করেছে।

কিন্তু দেশের অনেক শিক্ষার্থী ও ছেলেমেয়েদের মধ্যে এমন প্রবণতা রয়েছে, যেনতেনভাবে লেখাপড়া শেষ করেই চাকরির খোঁজে নেমে পড়ে। সবাই চাকরির পেছনে ছুটবে কেন? বরং এ দেশের ছেলেমেয়েরা যেন নিজেরাই ব্যবসা-বাণিজ্য করে আত্মকর্মসংস্থান এবং অন্যের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে, তেমন অবস্থা তৈরি করতে হবে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ৩০ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের একাধিক সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মাদক ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ছেলেরা তারা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, ঠিকমতো ক্লাসে যাচ্ছে কি না, মাদক ও জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছে কি না— এসব বিষয়ে নজর রাখতে হবে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা ও জঙ্গিবাদ সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদক— এই তিনটির বিরুদ্ধেই সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে।

কারও ধর্মে আঘাত দেওয়া যাবে না তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, বিশ্বের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধর্ম। কিন্তু ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে এই ধর্মটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। তবে ইসলাম ধর্মের মধ্যে ভাগ করা, কে ভালো কে খারাপ, কে প্রকৃত ইসলামে বিশ্বাসী কে বিশ্বাসী নয়, কে সঠিভাবে ধর্ম পালন করে বা কে করে না, কে বেহেশেতে যাবে কে যাবে না— তার বিচার তো আল্লাহই করবেন। বান্দারা কেন এই বিচার করবেন?

কারও ধর্মে আঘাত দিয়ে কথা বলা বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, যার যার ধর্ম সেই পালন করবে। সেই বিশ্বাস যদি থাকে, তাহলে এ দ্বন্দ্ব বা ভাগ আর থাকে না। অন্য ধর্মাবলাম্বীরা যেন আঘাত না পায়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

সান্ধ্য কোর্স বাতিলে আইনের প্রয়োজন নেই সংসদে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালগুলোতে সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিলে আইন প্রণয়ন করার দাবি জানান জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু। তার এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিলের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি নিজেই কথা বলেছেন। তবে এ নিয়ে কোনো আইন করার প্রয়োজন নেই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদালয় মঞ্জুরি কমিশনই (ইউজিসি) এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে। এরপরও সরকার দেখবে এ বিষয়ে কী করা যায়।

বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে তার সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে বলেন, ইংরেজি মাধ্যমে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জন্য চাকরিতে আলাদা কোটা কেন রাখতে হবে? এটা রাখার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।

তিনি বলেন, এ দেশে ১৬ কোটি মানুষ রয়েছে। এই বিশাল জনসংখ্যা থেকে যদি কেউ কেউ বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য যান, সেটা দেশের জন্যই ভালো হয়। আর পৃথিবীটা এখন আর কোনো দেশে সীমাবদ্ধ নয়। পৃথিবীটাই এখন একটা গ্লোবাল ভিলেজ।

এ সময় প্রশ্নকর্তা বিএনপির হারুনুর রশীদের উদ্দেশ্যে করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির আমলে শিক্ষার্থীদের হাতে অস্ত্র ও মাদক তুলে দিয়ে তাদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সন্ত্রাস, অস্ত্রবাজি ও বোমাবাজির মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনগুলোকে অশান্ত করে তোলা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই পরিবেশটা এখন আর নেই। সেশনজটও কমে এসেছে।

শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদ সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের অপব্যাখ্যা ও জঙ্গিবাদ সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম। কোরআন ও হাদিসের আলোকে তা তরুণ শিক্ষার্থীদের বুঝাতে দেশের আলেম সমাজ সক্রিয় সহযোগিতা করছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া ১০ দিনের বেশি অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করছে; অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের সঙ্গে আলোচনা করে অনুপস্থিতির কারণ সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অভিভাবক-শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীর সমন্বয়ে অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন করা হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষা, অভিভাবক, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সন্ত্রাসী ও ধর্মের নামে জঙ্গিবাদবিরোধী সভা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে ও নৈতিক শিক্ষা দিতে পাঠ্যপুস্তকে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থে ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বিবেচিত হতে পারে— এমন কোনো কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করবে না এবং সন্ত্রাসী বা জঙ্গি তৎপরতা বা এ জাতীয় কোনো কার্যকলাপে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোনোভাবেই কোনো পৃষ্ঠপোষকতা করা যাবে না মর্মে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি গ্রামে আধুনিক শহরের সুবিধা সরকার দলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি গ্রামে আধুনিক শহরের সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য সরকার নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। এ জন্য গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে।

দেশের সব জেলাকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনাসহ বাংলাদেশ রেলওয়েকে জনগণের কাছে নির্ভরযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহণ মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না, এটা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার।

শেখ হাসিনা জানান, গত এক দশক ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নের ফলে গ্রামীণ জনগণের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ ও আয় বেড়েছে। গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে এবং শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমেছে। জীবনযাত্রার মনোন্নয়ন, শিক্ষার হার ও গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বে এক অনন্য উদাহরণ।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
এই বিভাগের আরো খবর