• সোমবার   ২৫ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ১১ ১৪২৭

  • || ১১ জমাদিউস সানি ১৪৪২

৩৪

শুরু হচ্ছে পুলিশে শুদ্ধি অভিযান

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৭ আগস্ট ২০২০  

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর অনেক সুনাম, অনেক অর্জন এবং মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গঠিত এই বাহিনীটি দেশের মানুষের জানমালের হেফাজত, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণসহ প্রাত্যহিক অনেকগুলো দায়িত্ব পালন করে। পুলিশের মূলমন্ত্র যেটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন, তা হচ্ছে- পুলিশ হবে জনগণের বন্ধু। কিন্তু বাস্তবতা হলো কিছু কিছু ক্ষেত্রে দু’একজন পুলিশ কর্মকর্তার দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অপকর্মের কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি সংকটের মধ্যে পড়ে। এর সর্বশেষ উদাহরণ হলো ওসি প্রদীপসহ টেকনাফে কর্তব্যরত যেসকল পুলিশ ছিলেন তারা। এই রকম ঘটনাগুলোর ফলে পুলিশের যে অর্জন, সততা, নিষ্ঠা তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। আর এই কারণেই পুলিশের নবনিযুক্ত আইজি বেনজীর আহমেদ পুলিশে শুদ্ধি অভিযানের উদ্যোগ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, সারা দেশে পুলিশ কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে ৯৫ থেকে ৯৭ ভাগই সৎ এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ করে, গত ১০ বছরে পুলিশের নিয়োগের ক্ষেত্রে একটা স্বচ্ছতা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে দুর্নীতির উৎস বন্ধ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে সৎ ও মেধাবীরা বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে পুলিশে যোগদান করছেন। কিন্তু তারপরও দেখা যাচ্ছে যে, নানা রকম বাস্তবতার কারণে কিছু কিছু কর্মকর্তার মধ্যে দুর্বৃত্তায়ন ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে।

নুসরাত হত্যাকাণ্ডের সময় ওসি মোয়াজ্জেমের ঘটনা কিংবা ডিআইজি মিজানের ঘটনা, সর্বশেষ ওসি প্রদীপের ঘটনার কারণে পুলিশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। যদিও পুলিশ প্রধান গণমাধ্যমে বলেছেন, ব্যক্তির অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠানের নয়। প্রতিষ্ঠান এই দায় দায়িত্ব নেবে না, ব্যক্তি যে অপরাধ করবে এই দায়িত্ব ব্যক্তিকেই নিতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সর্বশেষ সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।

বিতর্কিত ওসি প্রদীপ সম্পর্কে যেই সমস্ত তথ্য গণমাধ্যমে বেরিয়েছে, তা রীতিমত বিস্ময়কর। অনেক অপরাধ বিশেষজ্ঞ প্রশ্ন তুলেছেন যে, প্রদীপের এই ঘটনাগুলো এতোদিন কারো নজরে আসেনি কেন? কেন সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের প্রদীপ সম্পর্কে এ সব তথ্য জানা গেল?

এর আগেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে, একটি অপকর্ম সংগঠিত হওয়ার পর একজন নির্দিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার অপরাধ এবং তার দুর্নীতি সম্পর্কে তথ্যগুলো প্রকাশিত হয়। আর এর ফলে পুরো পুলিশ বাহিনী একটি বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে।

পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে যে, পুলিশের বর্তমান আইজি বেনজীর আহমেদ এটি চিরতরে অবসানের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন। পুলিশের আইজি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি বলেছিলেন, তিনি কলঙ্কমুক্ত পুলিশ বাহিনী করতে চান এবং পুলিশকে জনগণের বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে চান। আর এই গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ওসি প্রদীপের ঘটনাটি সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ এর মাধ্যমে যেটি হবে, তা হলো- এখন সারা দেশে যারা এই ধরণের অপকর্ম করছে, জনগণকে সেবা দেওয়ার বদলে যারা জনগণকে জিম্মি করছে, যারা বিভিন্ন দুর্নীতি এবং স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে জনগণকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলছেন, তাদের তালিকা তৈরি করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই শুদ্ধি অভিযানের একটি নীতিমালা ও পরিকাঠামো খুব শীঘ্রই তৈরি হবে। সারা দেশে দুর্নীতিবাজ পুলিশ অফিসারদের তালিকা তৈরি করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য যে, বিগত আইজিপি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুর্নীতিবাজ পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তার আমলে পুলিশে দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনেকটাই কমে এসেছিলো। বর্তমান আইজিপি সেই ধারা অব্যাহত রেখে পুলিশকে নিষ্কলুষ করতে চান এবং এই ধরণের অভিযোগ যাতে আর না ওঠে সে ব্যাপারে একটা সুন্দর সহিষ্ণু নীতি নিয়ে এগুতে চান।    

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর