• রোববার   ৩১ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৬ ১৪২৭

  • || ০৮ শাওয়াল ১৪৪১

৩৮২

শিক্ষার্থীদের অবরোধে অচল ঢাকা

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১ মার্চ ২০১৯  

বেপরোয়া গতির বাসের চাপায় বিইউপির শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃতু্যর ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দ্বিতীয় দিনেও শাহবাগ, প্রগতি সরণি, মিরপুর, ধানমন্ডি, ফার্মগেট, দারুস সালাম, রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ, কাকরাইল ও পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গোটা নগরী আরও উত্তাল হয়ে ওঠে।

গতকাল সকাল থেকে দিনভর শিক্ষার্থীরা প্রায় ডজন খানেক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে রাখায় অধিকাংশ রুটে গণপরিবহনসহ প্রায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল একরকম বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া বেশকিছু সড়কে অবরোধ না থাকলেও আকস্মিক বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বড় ধরনের নাশকতায় জড়িয়ে পড়তে পারে এ আশঙ্কায় অনেকে গাড়ি নামাতে সাহস পাননি।

ফলে সব মিলিয়ে সকাল থেকেই গোটা ঢাকা কার্যত অচল ছিল। এ অবস্থায় গণপরিবহন চলাচলে বাধা ও সড়ক অবরোধের মতো আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাধারণত মারমুখী থাকলেও শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচিতে তারা সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে।

বেশকিছু স্পটে আন্দোলনকারীদের নানাভাবে বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর পুলিশকে উল্টো শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। এদিকে দিনভর নগরীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর বিকেলে বিইউপির শিক্ষার্থীরা সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়ে এ আন্দোলন ২৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

এ সময়ের মধ্যে তারা সুপ্রভাত এবং জাবালে নূর বাসের সমস্ত রুট পারমিট বাতিল এবং সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে আবরারের দুর্ঘটনার চার্জশিট দাখিল ও আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতকরণসহ তাদের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সময় বেধে দেয়। বুধবার বিকেলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বিইউপির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাওহিদুজ্জামান। এর আগে বেলা দুটায় মেয়র আতিকুলের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিইউপির ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

বৈঠকে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, বিইউপি উপাচার্য মেজর জেনারেল এমদাদ উল বারীসহ পরিবহন সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। আবরারের মৃতু্যর ঘটনার প্রতিবাদ ও সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের প্রথম দিন গুটি কয়েক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাস্তায় নামলেও দ্বিতীয় দিনে এতে যোগ দেয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এক লাফে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়।

বুধবারের আন্দোলন কর্মসূচিতে কলেজের পাশাপাশি মাধ্যমিক স্কুল ও প্রাইমারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের স্বক্রিয় অংশ নিতে দেখা গেছে। শাহবাগ, ফার্মগেইট ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করে। সকাল ১০টার দিকে ফার্মগেটে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বাসের লাইসেন্স ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করে। কিন্তু পুলিশ তাদের প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে বিজ্ঞান কলেজের সামনে নিয়ে যায়। একইভাবে শাহবাগ মোড় ও মালিবাগেও গাড়ির রুট পারমিট, চালকের লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাগজপত্র পরীক্ষা করেছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা প্রয়োজনীয় কাগজ না থাকায় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির গাড়িতে 'ভুয়া' লিখে দেন।

আগের দিনের ঘোষণা অনুযায়ী, বুধবার সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা নদ্দায় বসুন্ধরা গেটে জড়ো হতে শুরু করেন। সাড়ে ৯টার দিকে তারা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে শুরু করেন বিক্ষোভ। বিইউপির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি), সিদ্ধেশ্বরী কলেজ এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বুধবার নদ্দার বিক্ষোভে যোগ দেন। 'জাস্টিস ফর আবরার', 'আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না', 'আর কত রক্ত ঝরতে হবে রাস্তায়'- এ রকম নানা স্স্নোগানে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের ফলে প্রগতি সরণি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ কালাচাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড এবং কুড়িলে যানবাহন ডাইভারশনের ব্যবস্থা করে। বেলা ১১টার দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়েও একদল শিক্ষার্থী লাইসেন্স পরীক্ষা শুরু করলে একপর্যায়ে তারা সড়কের সিটি কলেজ থেকে শাহবাগগামী অংশে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।

এর মিনিট পনের পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী এসে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে গুরুত্বপূর্ণ ওই মোড় দিয়ে চার দিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কাছাকাছি সময়ে বিক্ষোভ শুরু হয় ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়ক এবং ?পুরান ঢাকার রায় সাহেব বাজার মোড়ে। ধানমন্ডিতে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করলে সড়কের ওই অংশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রায় সাহেব বাজার মোড়ে অবস্থান নিলে সদরঘাট, নবাবপুর রোড, ইসলামপুর পাইকারি মার্কেট, ফল ও সবজির আড়ত, বাংলাবাজার, ধোলাই খাল ও নয়াবাজারমুখী সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে পুরান ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা জজ কোর্ট, সদরঘাট, বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

সেখানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র সানাউলস্নাহ ফাহাদ বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে তারা ক্লাস-পরীক্ষাও বর্জন করেছেন। 'আমরা নিরাপদ সড়কের জন্য গত বছরও আন্দোলন করেছি। কিন্ত এখন পর্যন্ত কোনো ফল পাইনি। আমাদের দাবি, সরকার সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুগোপযোগী একটি আইন প্রণয়ন করবে।' আন্দোলনকারী অপর এক শিক্ষার্থী বলেন, বারবার ঢাকার রাস্তায় শুধু শিক্ষার্থীদের জীবন দিতে হচ্ছে। আমরা এর আগেও আন্দোলন করে একটি পথের সন্ধান দিয়েছিলাম।

কিন্তু সরকার তা মনে রাখেনি। যার কারণে আবারও আবরারকে রাস্তায় জীবন দিতে হলো। এবার অবশ্যই আমাদের নিরাপদ মৃতু্যর 'গ্যারান্টি' দিতে হবে। এ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকায় রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করেন উত্তরা ইউনিভার্সিটিসহ কয়েকটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ফলে ব্যস্ততম এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সু-প্রভাত চালক ৭ দিনের রিমান্ডে: আবরারের মৃতু্যর ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা করেছেন তার বাবা আরিফ আহমেদ চৌধুরী। পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তফা আহমেদ জানান, মঙ্গলবার রাতে দায়ের করা এ মামলায় সু-প্রভাত পরিবহনের বাসের চালক সিরাজুল ইসলাম, চালকের সহকারী, বাসের কন্ট্রাকটর ও মালিককে আসামি করা হয়। এদিকে সু-প্রভাত বাসের চালক সিরাজুল ইসলামের (২৪) বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

গুলশান থানার ওসি (অপারেশন) আমিনুল ইসলাম বুধবার বেলা পৌনে ৩টার পর তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। আদালত শুনানি শেষে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। গুলশান থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল বলেন, 'চালকের ভারী যান চালানোর লাইসেন্স ছিল না। যে ড্রাইভার সু-প্রভাত পরিবহনের বাসটি চালাচ্ছিলেন, তার হালকা যান চলাচলের লাইসেন্স ছিল। এটি নিয়ে তিনি বাসের মতো ভারী যান চালাচ্ছিলেন।

এটা কীভাবে সম্ভব! তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আইন অনুযায়ী দ্রম্নত তার শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।' ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, 'সু-প্রভাত পরিবহনের সব বাসের সার্ভিস বন্ধ রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে।' আবরারের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা দেয়ার নির্দেশ: আবরার আহমেদ চৌধুরীর পরিবারকে 'জরুরি খরচ' বাবদ ১০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী সু-প্রভাত পরিবহন কর্তৃপক্ষকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে এ টাকা পরিশোধ করতে বলেছে আদালত।

একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার রুলসহ এ আদেশ দেয়। সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণের নিরাপত্তা দিতে কর্তৃপক্ষের 'অব্যাহত ব্যর্থতা' কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং দুর্ঘটনায় নিহত আবরারের পরিবারকে কেন ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক ও সেতু সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, বিআরটিএ, সু-প্রভাত পরিবহনসহ আট বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোয়ার কাজল। রুহুল কুদ্দুস কাজল পরে সাংবাদিকদের বলেন, ওই দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) পরিচালককে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত। রিটকারী এ আইনজীবী বলেন, 'আদালতের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে সড়কে হত্যাকান্ড, নৈরাজ্য ও সড়কে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার রয়েছি।

এর আগে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব, শহীদ রমিজ উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী নাদিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিমের বিষয়ে দুটি মামলা করেছিলাম। সেখানে কিছু ক্ষতিপূরণসহ আদালত অন্তর্র্বর্তীকালীন আদেশ দিয়েছিল যেন সড়কের নৈরাজ্য বন্ধ হয়। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, এসব মামলায় যারা প্রতিপক্ষ, তারা এগুলো নিশ্চিত করছে না।

সড়কে সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা যারা নিশ্চিত করবে, তারা অব্যাহতভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। আমরা এ ব্যর্থতাকে চ্যালেঞ্জ করে এ রিট করেছিলাম।' প্রসঙ্গত, আবরারের মৃতু্যর ঘটনা নিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর বুধবার হাই কোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল। আদালত তখন এ আইনজীবীকে রিট আবেদন করতে বললে কাজল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদনটি করেন। তার ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত পরে আদেশ দেয়।

বন্ধের নির্দেশের পরও চলছে সু-প্রভাত: আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম সু-প্রভাত পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিলেও মঙ্গলবার বিকেল ও সন্ধ্যায় সু-প্রভাত পরিবহনের বেশ কয়েকটি বাস প্রগতি সরণি দিয়ে চলাচল করে। স্থানীয়রা জানান, সকালে দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হলে কিছু সময় ধরে ওই সড়কে সু-প্রভাত পরিহনের বাস চলেনি।

তবে দুপুরের পর থেকে চলতে শুরু করে এই পরিবহনের বাস। আবরার আহমেদ চৌধুরী মারা যাওয়ার জায়গায় একটি জাবালে নূর পরিবহনের বাস আটকে রাখে শিক্ষার্থীরা। কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, বাস চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা যখন মারা যায় তখনো জাবালে নূর পরিবহনের ঘাতক বাসের রুট পারমিট বাতিল ও বন্ধ ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু কদিন পর তা পুরোদমে চলাচল শুরু করে। সু-প্রভাত পরিবহনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। যা বলছেন বাসচালকরা: শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন যৌক্তিক বলে মনে করেন বাস চালকরাও। তাদের ভাষ্য, তারাও নিরাপদ সড়ক চান।

তবে নিজেদের খুনি মানতে নারাজ এসব চালক। তারা বলেন, চালকদের যেমন দোষ আছে তেমনি নির্দোষ নন সাধারণ পথচারীরাও। তাদের মতে, সবার আগে সিস্টেম বদলানো চাই। স্কাইলাইন পরিবহনের বাসচালক মো. সোহেল বলেন, 'রাস্তায় যদি সিস্টেম চালু করা হয় আর সেটা যদি সবাই মিলে মানি তাহলে সড়ক নিরাপদ হবে।' এই চালকের পরামর্শ, রাস্তায় পর্যাপ্ত বাস স্টপেজ করতে হবে। আবার বাস স্টপেজগুলো দুই ভাগে ভাগ থাকতে হবে। অর্থাৎ প্রথম স্টপেজে যাত্রী নামবে। সেখানে থেকে একটু সামনে থাকতে হবে যাত্রী ওঠানোর স্টপেজ।

সোহেলের সঙ্গে যোগ দেন হৃদয় নামে আরেক চালক। তিনি বলেন, 'সবচেয়ে ভালো হয় সব বাস কাউন্টার সিস্টেম চালু করা। তাহলে অনেক শৃঙ্খলা আসবে।' চালকরা অযৌক্তিক প্রতিযোগিতা করেন স্বীকার করে এই চালক বলেন, 'আমাদের যেমন আইন মেনে গাড়ি চালানো উচিত তেমনি সাধারণ পথচারীদেরও অবশ্যই ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করতে হবে।

যেখানে ওভারব্রিজ নেই সেখানে সিগন্যাল ছাড়া রাস্তা পার হওয়া যাবে না।' সু-প্রভাত বাস সম্পর্কে বলতে গিয়ে আরেক বাসচালক বলেন, 'সু-প্রভাত কোম্পানির প্রায় তিনশ বাস আছে। অথচ তারা যে রুটে চলে (গাজীপুর থেকে সদরঘাট পর্যন্ত) তিনশ স্টপেজই নেই।' এই চালকের মতে, কোনো কোম্পানির একশ'র বেশি বাস থাকা উচিত নয়।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
জনদূর্ভোগ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর