• শনিবার   ২৮ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৩ ১৪২৭

  • || ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

৫৬

শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদান

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২০  

১৯৮৮ সাল থেকে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। ওই বছর ইরান-ইরাক সামরিক পর্যবেক্ষক দলে ১৫ জন সামরিক পর্যবেক্ষক পাঠায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। উল্লেখযোগ্য মিশনের মধ্যে রয়েছে ইরাক, কুয়েত, ক্রোয়েশিয়া, আইভরিকোস্ট ও পশ্চিম সাহারার কার্যক্রমে অংশ নেয়া।

নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী শান্তিরক্ষী মিশনে যোগ দেয় ১৯৯৩ সালে। আর পুলিশ নামিবিয়া মিশনের মধ্যদিয়ে ১৯৮৯ সালে শান্তিরক্ষী মিশনে যাত্রা শুরু করে। পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশি নারী শান্তিরক্ষীরাও নিজেদের যোগ্যতার সাক্ষর রাখছেন।

শান্তি রক্ষা মিশনে ২০০৫ থেকে  শুরু করে শুরু করে এখন পর্যন্ত জনবলের হিসাবে শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রায় ৪০টি দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়েছেন বাহিনীর সদস্যরা। সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ মিলে বর্তমানে ছয় হাজার ৭৩১ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্ব শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অধীনে বিশ্বের নানা প্রান্তে যারা শান্তিরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তারা `ব্লু হেলমেটধারী` হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের প্রতীক `ব্লু হেলমেট`। কয়েক দশক ধরে শান্তি মিশনে গৌরবের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বাংলাদেশি ব্লু হেলমেটধারীরা।

নানা ভয়-শঙ্কা ও প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে সংঘাতপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা। আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জাতিগত সংঘাত মোকাবিলায় তারা রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। সংঘাতময় বিভিন্ন দেশের রাস্তাঘাট, স্থাপনা নির্মাণ ও  চিকিৎসাসেবায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা অনুকরণীয় দায়িত্ব পালন করছেন।

আর্থিক সুযোগ সুবিধাসহ যতটুকু কাজের সুযোগ পান তাতেই সন্তুষ্ট তারা। তাদের অনেকেই বলছেন, দায়িত্ব পালন করার সময় ওই এলাকায় টাঙানো থাকে বাংলাদেশের পতাকা। এতেই তারা গর্ববোধ করেন। ভিনদেশে মানুষের সেবা করতে পারছেন এটাই বড় ব্যাপার। নিজেদের মাধ্যমে বাঙালি কালচার, মূল্যবোধ তুলে ধরতে পারছেন অন্যদের সাথে।

২০০০-২০০১ সালে শান্তি পরিষদে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’  শিরোনামে ১৩২৫ নং রেজল্যুশন গ্রহণ করা হয়। সেখানে উল্লেখ আছে, দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন বাঞ্ছনীয়। এই রেজল্যুশন গ্রহণে বাংলাদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। এ পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনী থেকে ৩২৪ জন এবং পুলিশ থেকে ১ হাজার ১১১ জন নারী সদস্য বিভিন্ন মিশনে অংশ নিয়েছেন। শতভাগ মহিলা পুলিশের একটি দল ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত হাইতিতে দায়িত্ব পালন করেছে। কন্টিনজেন্ট অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশই প্রথম একজন মহিলাকে শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠায়।

বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের বর্তমান মূলমন্ত্র হচ্ছে, অশান্তি সৃষ্টির আগেই শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে সংঘাত এড়ানোর জন্য জাতিসংঘ কূটনৈতিক পদক্ষেপ, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি চালু করায় বেশি জোর দিচ্ছে। আর এতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল।

তবে  শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে এ পর্যন্ত
১৪৪ জনকে আর আহত হয়েছেন ২২৫। তাদের অবদান অতুলনীয়, কেননা শান্তি প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমে জীবন দিয়েছেন তারা।

দীর্ঘ ৩২ বছরে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়ে  বিশ্বের কাছে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন শান্তিরক্ষা মিশনের বাংলাদেশি সদস্যরা, যা ভুলে যাবার নয়।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর