• বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭

  • || ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

১১৩

রসাল ফল আর বিচিত্র ফুল নিয়ে এলো গ্রীষ্ম

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২০  

বেলা যত গড়ায়, এখন রোদের তেজ ততটাই তপ্ত হয়ে ওঠে—উহ্, এমন গরম আর কখনো দেখিনি। এই কাঁদুনি গত বছরেও শোনা গেছে এবং তার আগেরও। বেঁচেবর্তে রইলে হয়তো আসছে বারেও শোনা যাবে। দেশের ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ আরো আগে বয়ে গেলেও, বর্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী গ্রীষ্মকাল শুরু আজ থেকে।

গ্রীষ্মকাল হচ্ছে ঋতু গণনার প্রথম মাস, যা বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠকে ধারণ করে। আমরা সহজভাবে বলে থাকি বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ- এই দুই মাস নিয়েই গ্রীষ্মকাল। বৈশাখ মাস হচ্ছে বাংলা সালের প্রথম মাস। এই মাসে বাংলার ঘরে ঘরে নতুন ফসল তোলার প্রস্তুতি চলে। এই সময়ে তাপমাত্রা থাকে গরম।

কবিরা মনের মাধুরি মিশিয়ে গ্রীষ্মের প্রথম মাসের বর্ণনা দিয়েছেন কাব্যিক উপমায়। কবি সুফিয়া কামাল বৈশাখকে চিত্রিত করেছেন তার কবিতায়—

‘উন্মত্ত, তা বিক্ষিপ্ত বৈশাখের বায়ু
ধ্বংস করে না শুধু,
বাড়ায় সে পৃথিবীর আয়ু।’

 

বকুল ফুলের গন্ধ ব্যাকুল হওয়ার মতোই

বকুল ফুলের গন্ধ ব্যাকুল হওয়ার মতোই

গ্রীষ্ম শুধু ধ্বংস, খরতাপ কিংবা নতুনের আহ্বান নিয়েই আসে না। আসে রসাল ফলের সম্ভার নিয়ে। তাইতো পল্লী কবি জসীমউদ্দীন তারই প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন ‘মামার বাড়ী’ কবিতায়—

‘ঝড়ের দিনে মামার দেশে আম কুড়াতে সুখ
পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ।’

গ্রীষ্মের মতো সৃজনশীল ঋতু আর কয়টি আছে! এত বিচিত্র ফুল আর রসাল ফলের সম্ভার সাজিয়ে আর কোনো ঋতু আমাদের উপহার দেয়? ফল আর ফুলের ঐশ্বর্য ছাড়াও গ্রীষ্মকালের শাকসবজির প্রাচুর্যে তুচ্ছ; দৈনন্দিন কাঁচা বাজারও ঝলমল করে ওঠে বছরের এই সময়ে।

গ্রীষ্মকাল মানেই তো আম, তরমুজ, জামরুল, লিচু, কাঁঠাল—কোনটা ছেড়ে কোনটা খাই। এই সময়েই ফোটে গোলাপ, টগর, বকুল, বেলী, পলাশ, জবাসহ নানারকমের সুগন্ধী ফুল; সন্ধ্যাবেলা যাদের মধুর সুবাসে মন ভালো হয়ে যায়। তবে দুঃখও আছে! গ্রীষ্মকালের শেষার্ধ্বে সন্ধ্যাসমাগত সময়ে ধেয়ে আসে কালবৈশাখী ঝড়, যা লণ্ডভণ্ড করে দেয় আমাদের পরিবেশকে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর