• রোববার   ১৬ মে ২০২১ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১ ১৪২৮

  • || ০৪ শাওয়াল ১৪৪২

ময়নাতদন্ত রিপোর্টে আত্মহত্যা থাকলেও আসামির হত্যার দায় স্বীকার

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৪ মে ২০২১  

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া গ্রামে চাঞ্চল্যকর নুর ইসলাম (৪৮) হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে (পিবিআই) পুলিশ। এ হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে আসামি ওমর ফারুক (২৫)। অথচ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ও পুলিশের দেয়া চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে আত্মহত্যার কথা। সোমবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার (পিবিআই) মো. রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ২৮ জুন ওই গ্রাম থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় নুর ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী মনো বেগম বাদী হয়ে ওমর ফারুকসহ ৪ জনকে আসামি করে সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা জেনারেল হাসপাতালে ওই লাশের ময়নাতদন্ত শেষে এটিকে আত্মহত্যা উল্লেখ করে রিপোর্ট দেয়া হয়। এ রিপোর্টের ভিত্তিতে মামলার পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা উল্লেখ করে প্ররোচণার অভিযোগে ৩ আসামিকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। এদিকে বাদী ওই চার্জশিটে নারাজি দাখিল করলে মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন বিজ্ঞ আদালত। পিবিআই এ মামলাটি তদন্ত শুরু করেন এবং প্রধান আসামি ওমর ফারুককে গ্রেফতারের চেষ্টা চালায়।

একপর্যায়ে ১ এপ্রিল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পিবিআই’র এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই কামরুল হাসান সংশ্লিষ্ট আদালতে আসামির রিমান্ডের আবেদন করলে বিচারক ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ রিমান্ডে হত্যার দায় স্বীকার করেন ওমর ফারুক। হত্যার কারণ হিসেবে তিনি জানান, বেকার থাকা অবস্থায় তাকে টাঙ্গাইলে তাঁত শ্রমিকের কাজ নিয়ে দেয় নুর ইসলাম। এরপর থেকে তারা দুজন একই সাথে থাকতো। একপর্যায়ে নুর ইসলাম তার সঙ্গে যৌন সঙ্গম করতে বাধ্য করেন ওমর ফারুককে। এমনকি একজন পুরুষ হয়েও অপর পুরুষ ওমর ফারুককে বিয়ে করতে চান।

এতে আসামি ওমর ফারুক বির্বত ও মনে মনে ক্ষুব্ধ হয়। ঘটনার আগের দিন রাতে নুর ইসলামকে সাথে নিয়ে সে নিজের বাড়িতে আসে। তারা একই ঘরে ঘুমাতে যায় এবং রাত দেড়টার দিকে নুর ইসলাম তার সাথে যৌন সঙ্গমের জন্য চাপ দেয়। ফারুক রাজি না হলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। একপর্যায়ে নুর ইসলামকে মেঝেতে শুইয়ে গলাটিপে হত্যা করে এবং তার লাশ বাড়ির পাশের বরই গাছে ঝুলিয়ে রেখে ওমর ফারুক পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে ওই হাসপাতালের আরএমও ডা. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এরকম হওয়ার কথা নয়। তবে মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক ডিপার্টমেন্ট আরো ভালো বলতে পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ