শুক্রবার   ০৩ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৯ ১৪২৬   ০৯ শা'বান ১৪৪১

২২

মুক্তিযুদ্ধে ভাসানী-তর্কবাগীশ ও মনসুর আলীর অবদান অপরিসীম

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

মুক্তিযুদ্ধে, দেশগঠনে, দেশের উন্নয়নে ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম নেতৃত্বদানকারী সংগঠন ‘বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ’কে সুসংগঠিত করতে সিরাজগঞ্জের সূর্য সন্তান, গণমানুষের নেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ ও তৎকালীন মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী জাতীয় নেতা শহীদ এম. মনসুর আলীর অবদান জাতি যুগ যুগ ধরে স্মরণ করবে।

তাদের দেশের জন্য আত্মত্যাগ ইতিহাস হয়ে থাকবে চিরদিন। গতকাল শনিবার (২২ ফেব্রæয়ারী) সকাল ১১টায় সিরাজগঞ্জ শহরের এম.এ মতিন সড়কস্থ সিরাজগঞ্জের প্রথম প্রকাশিত গণমাধ্যম আয়োজিত মিডিয়া সেন্টারে গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা একথাগুলো বলেন।

মোহাম্মদ আব্দুল হামিদের সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ জাতীয় কমিটির সদস্য, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব কে. এম. হোসেন আলী হাসান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সলঙ্গা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব গফুর রায়হান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিরাজগঞ্জ জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী সোহরাব আলী সরকার, বিশিষ্ট সাংবাদিক সংগঠক ও ব্যুরো প্রধান হেলাল আহমেদ, সিনিয়র সহকারি সম্পাদক খ. ম. একরামুল হক, লেখক ও নাট্যকার আহমেদ শরীফ, আইনজীবী অ্যাডভোকেট লোকমান হাকিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জিয়াউল হক জিয়া মুন্সি প্রমুখ।

এ সময় প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট কে. এম হোসেন আলী হাসান বলেন, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন মজলুম জননেতা, তিনি শুধু সিরাজগঞ্জ ও বাংলাদেশের নেতা নন তিনি বিশ্ব নেতা। মওলানা ভাসানী কৃষক আন্দোলন থেকে শুরু করে নিপিড়ীত, বঞ্চিত সকল মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনেও মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসাণীর অসামান্য অবদান রয়েছে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামিলীগের প্রথম সভাপতি। মওলানা ভাসানী সিরাজগঞ্জ তথা এই দেশের গর্ব।

মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ একজন তুখোড় রাজনৈতিক নেতা ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ প্রতিষ্ঠা ও সুসংগঠিত করতে তাঁর অবদানও অসামান্য। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে মওলানা তর্কবাগীশ বিভিন্ন মেয়াদে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ক্যাপ্টেন শহীদ এম. মনসুর আলীর বিষয়ে তিনি বলেন, মনসুর আলী জাতীয় নেতা। তিনি ছিলেন একজন অকুতোভয় ব্যক্তি। তিনি একজন সেরা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উদাহরণ। আমার রাজনৈতিক জীবনের অনুপ্রেরনা। তার স্নেহের স্পর্র্ষ্টই আমার রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে পরিচালনায় ও দেশ গঠনে মনসুর আলী ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।

যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ পুনঃগঠনেও তার অবদান ছিল অনেক। আমাদের গেšরবময় বঙ্গবন্ধু সেতু তারই অবদান। একসময় সিরাজগঞ্জ ছিল অবহেলিত জনপদ। ক্যাপ্টেন এম মনসুল আলী জেলার রাস্তাঘাট, ব্রীজ, স্থাপনাসহ নানান উন্নয়ন করেছেন। তিনি আরও বলেন, তাদের মত নেতাদের কারনেই দেশের বুকে সিরাজগঞ্জ আজ এতটা আলোকিত। আগামী প্রজন্মকেও এই মহান নেতাদের সম্পর্কে জেনে সেই আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশের কল্যানে কাজ করতে হবে। তাদের সম্পর্কে বিশদ ধারনা লাভ করতে চাইলে তরূণ প্রজন্মকে বই পড়ার আহবান জানান এই নেতা।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিরাজগঞ্জ জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী সোহরাব আলী সরকার বলেন, দেশের শত্রæ ব্রিটিশ সরকারকে থমকে দেবার মত একজন নেতা মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা। আর মনসুর আলী একজন কর্মী বান্ধব নেতা। তিনি নেতাদের চেয়ে কর্মীদের বেশি ভালোবাসতেন। তার কর্মময় জীবনে তিনি দেশের জন্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের জন্য অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।

সলঙ্গা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি গফুর রায়হান বলেন, তরূণ প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা অধিকাংশই মওলানা ভাসানী, মাওলানা তর্কবাগীশ ও শহীদ এম মনসুর আলীর মত বিখ্যাত মানুষের সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না। আজকের মত এমন গোলটেবিলের আয়োজন বড় পরিসরে করতে পারলে তরুণদেরকেও ইতিহাস বিষয়ে অবগত করা যাবে। দেশের জন্য ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে মওলানা ভাসানী, তর্কবাগীশ ও শহীদ এম মনসুর আলী অসামান্য অবদান রয়েছে। তারা সাধারণ মানুষের কল্যানে কাজ করে গেছেন। কিন্তু অন্যান্য জেলার চেয়ে সিরাজগঞ্জে মওলানা ভাসানী, তর্কবাগীশ স্মৃরণে ফলকও চোখে পড়ার মত স্থাপনা অপ্রতুল। তাই তিনি তাদের নামে স্মৃতিফলক রাস্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা নির্মানের জন্য জোর দাবি জানান।

সাংবাদিক হেলাল আহমেদ বলেন, মওলানা ভাষানী শুধু বাংলাদেশ নয় তিনি বিশ্বমানের নেতা ছিলেন। তাকে বলা হয় ল্যাটিন আমেরিকার গণমানুষের নেতা। তিনি দেশের বাহিরেও মানুষ অধিকার বাস্তবায়ন করতে কাজ করেছেন। তিনি পাকিস্তান গঠনে জন্য যেভাবে সংগ্রাম করেছিলেন অনুরুপভাবে পাকিস্তানি জঙ্গীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষার জন্য আন্দোলন করেছেন। মওলানা তর্কবাগীশ ছিলেন গণমানুষের নেতা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একজন শীর্ষ নেতা। তিনি ছিলেন মানবতার নেতা। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন এই মহান নেতার নাম বেঁচে থাকবে পৃথিবীর বুকে। শহীদ এম মনসুর আলী বাংলাদেশের একজন জনদরদী নেতা মানবতার বাতিঘর।

কবি লেখক ও নাট্যকার আহমেদ শরীফ বলেন, আমার মায়ের মুখে শুনেছি শহীদ এম মনসুর আলী মানুষের কল্যানে কাজ করেছে। সমাজের বেকারত্ব ও সকল প্রকার অসংগতি নিরসনে কাজ করেছেন। তার অবদান কখনো ভুলে থাকার নয়। তিনি এসময় ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীকে উৎসর্গ করে তার একটি স্ব-রচিত কবিতা পাঠ করেন।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
এই বিভাগের আরো খবর