• সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১৩ ১৪২৭

  • || ১১ সফর ১৪৪২

৩৯

‘মশক নিধন ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে’

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০২০  

সম্ভাব্য ডেঙ্গু মোকাবিলায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের জন্য এলজিআরডি মন্ত্রীর নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ে/বিভাগের/সংস্থার দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী জাতীয়/স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হবে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়/বিভাগের করণীয় নির্ধারণ করে মন্ত্রীর স্বাক্ষরে একটি আধা সরকারি পত্র পাঠানো হবে।

সম্মিলিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে দুই সিটি কর্পোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, বেসরকারি বিমান চলাচল   কর্তৃপক্ষ একযোগে মশক নিধন অভিযান শুরু করবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সময়সীমা নির্ধারণ করবেন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ সংক্রান্ত এক আন্তঃসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি ভবন, লেক, পার্ক, খাল রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদফতর বা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মশা মারার কাজ করবে সিটি কর্পোরেশন।

দীর্ঘ ছুটির সময় বন্ধ থাকা সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলো থেকে এডিস মশার উৎপত্তি যেন না হয় তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। 

প্রধানমন্ত্রী গত ৩০ মার্চ করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিষয়ে ৬৪টি জেলায় ভিডিও কনফারেন্স করেন। এসময় তিনি করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি মশক নিধন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং সিটি   কর্পোরেশনের মেয়রকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মশক নিধনে সর্বাত্বক উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার এলজিআরডি মন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

এসময় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদুল্লাহ খন্দকার, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামানসহ সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লেকগুলো পরিস্কার করে দিলে আমরা ওষুধ ছিটাবো। তাহলে মশা মরবে। এটাই সময় একসঙ্গে কাজ করার। আমি ১৫ মে দায়িত্ব পাবো, কিন্তু এখন থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। 

সভায় কৃষি সচিব জানান, ৩টি প্রতিষ্ঠান কীটনাশক আমদানি করে। তাদের কাছ থেকে যেকেউ কীটনাশক কিনতে পারে। তাছাড়া ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনকেও সরাসরি কীটনাশক আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। 

সভায় যেসব সিন্ধান্ত গৃহীত হয়েছে তা হলো:  

মশার উৎপত্তিস্থল যেমন শহরের সব খাল, নালা, দুটি বাড়ি ব্যবস্থাপনার মধ্যবর্তীস্থলের অপরিচ্ছন্ন স্থান, কাঁচাবাজার, সরকারি অফিসসমূহ, সরকারি আবাসিক স্থাপনা জরুরি ভিত্তিতে পরিচ্ছন্ন করতে হবে।

এডিস মশার বিস্তাররোধে অফিস ছুটির সময়ে সব সরকারি বেসরকারি দফতরের টয়লেটের কমোডসমূহ অত্যাবশ্যকীয়ভাবে বন্ধ রাখতে হবে।

নির্মাণাধীন ভবন এবং যেসব সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা নিজ উদ্যোগে পরিষ্কা-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবে না বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার অভাবে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যাবে সেসব ব্যক্তি, স্থাপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ  ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে আইন অনুযায়ী জরিমানার ব্যবস্থা করা হবে।

প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিওয়ার্ডে আটটি সাব কমিটি গঠন করে প্রতি কমিটিতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ২০ (বিশ) জন গণ্যমান্য ব্যক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সামাজিক স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করতে হবে।

মশক নিধনে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার স্বার্থে মন্ত্রণালয়, সব সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা ওয়াসা সম্মিলিতভাবে কাজ করবে। সিটি কর্পোরেশসমূহ আগামী সাতদিনের মধ্যে নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দাখিল করবে।

ঢাকা শহরের খাল-নালাসমূহ একযোগে পরিচ্ছন্ন করার জন্য এবং স্থাপনাসমূহ পরিচ্ছন্নের জন্য সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, গণপূর্ত বিভাগ, রাজউক, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে তাগিদ দেয়। 

বর্তমানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে যে দীর্ঘমেয়াদী ছুটি চলমান আছে, এ সময়ের মধ্যে যেহেতু শহরে জনসাধারণ ও যানবাহনের চাপ কম আছে এ সময়টা পুরো ঢাকা শহরকে শতভাগ পরিস্কার করার সুযোগ সিটি কর্পোরেশনকে নিতে হবে।  

এলজিআরডি মন্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ ও  উত্তর সিটি কর্পোরেশনের চলমান পরিচ্ছন্নতা অভিযান সরেজমিন   পরিদর্শন করবেন। এরবাইরে উভয় সিটি কর্পোরেশনের ল্যান্ডফিলসহ অন্যান্য স্থাপনা ঢাকা ওয়াসা ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাধীন খাল-নালাসমূহ পরিচ্ছন্নতাকরণ কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। সংশ্লিষ্ট সব দফতর/সংস্থা সময় নির্ধারণ করে অবহিত করবেন। অতিরিক্ত সচিব (নগর উন্নয়ন) এ কার্যক্রম সমন্নয় করবেন।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর