• শুক্রবার   ০৫ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২২ ১৪২৭

  • || ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

৬৩৬

বোবায় ধরা বা ‘স্লিপিং প্যারালাইসিস’, ইসলামের দৃষ্টিতে করণীয়

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০১৮  

 ‘বোবা ধরা’ সারা বিশ্বের সকল সমাজে প্রচলিত অতি প্রাচীন এবং অতি প্রাকৃতিক ঘটনা। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় “স্লিপিং প্যারালাইসিস” (Sleeping Paralysis) বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। ঘুমের সময় কিংবা স্বপ্ন দেখার সময় অবচেতন মনে অনেকের একটি ঘটনা ঘটে থাকে। যাকে স্লিপ প্যারালাইসিস বা বোবায় ধরা বলা হয়। এই সময় শরীরের পেশী সম্পূর্ণ দুর্বল হয়ে যায়। ফলে মানুষ ঘুমের মধ্যে বা প্রায় জাগ্রত অবস্থায় সম্পূর্ণ অসাড় হয়ে পড়ে। এতে সে মানসিকভাবে জাগ্রত থাকে ঠিকই কিন্তু শারীরিকভাবে হয়ে পড়ে অসাড়।

এই সময় শরীরে কতগুলো পরিবর্তন ঘটে থাকে। যেমন-হার্টবিট কমে যাওয়া, শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে, গলায় বা বুকে চাপ অনুভূত হওয়া, নানা রকম দুঃস্বপ্ন কিংবা শত্রুর উপস্থিতি অনুভূত হওয়া ইত্যাদি। এছাড়া ভয় এবং অসহায় বোধ করতে থাকে মানুষ। ঘুমিয়ে গেলে মস্তিষ্ক থেকে পেশীতে সংকেত যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় তাই পেশীসমূহ হয়ে যায় অসাড়।

তাই স্লিপ প্যারালাইসিস এর সময় যা করা উচিত-চোখ বারবার নাড়াচাড়ার চেষ্টা করা, এতে স্লিপ প্যারালাইসিস থেমে যায় অল্প সময়ের মধ্যে। ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিতে চেষ্টা করা। শরীরের কিছু অংশ যেমন-জিহ্বা, পায়ের আঙুল নাড়ানোর চেষ্টা করা। এতে সম্পূর্ণ জেগে উঠা সম্ভব হবে।

স্লিপ প্যারালাইসিস সাধারণত কিছু কারণে হয়ে থাকে।

যেমন-নিয়মিত ঘুমানোর অভ্যাস না থাকলে স্লিপ প্যারালাইসিসের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই অনিদ্রা পরিহার করা উচিত। ঘুমের সময় চিত কিংবা উপুড় হয়ে না শুয়ে কাত হয়ে শোওয়া উত্তম।

ঘুমের কমপক্ষে দুই ঘণ্টা পূর্বে খাবার গ্রহণ করা উচিত। মানসিক চাপ স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণ হতে পারে। তাই দুশ্চিন্তা পরিহার করুন। ঘুমের ওষুধ পরিহার করা ভালো। ঘুমের ওষুধ স্লিপ প্যারালাইসিসের কারণ হতে পারে। যদি ৬ মাসের অধিক সময় সপ্তাহে একবার স্লিপ প্যারালাইসিস হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ইসলামের চোখে বোবায় ধরলে করণীয়:

বোবায় ধরলে যা যা করা উচিত, তার মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে,

১) দরূদ শরীফ পড়তে থাকা।

২) আল্লাহর কালাম অর্থাৎ কুরআনুল কারীমের যে কোন সূরা থেকে আয়াতে পাক পাঠ করতে থাকা। সূরা বাকারা, ইখলাস অথবা ইয়াসীনের আয়াতসমূহ পাঠ করা যেতে পারে।

৩) আয়াতুল কুরসী পাঠ করতে থাকা। এটি অত্যন্ত কার্যকরী।

৪) হুযুরে পাক (সঃ) অথবা কোন নবী বা ওলীর উছিলায় ঐ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাবার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।

এছাড়াও যাদের পক্ষে সম্ভব হয়, নিজে কোন বিজ্ঞ আলেম ব্যক্তির শরণাপন্ন হয়ে তাঁর থেকে এতদভিন্ন কোন নির্দিষ্ট আয়াতে পাক বা দোয়া জেনে নিতে পারেন

বোবায় ধরা থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্তি চাইলে করণীয়

১) ঘুমানোর আগে অযু করে শোয়া।

২) পুরোপুরি উপুড় হয়ে না শোয়া।

৩) ডান কাত হয়ে শোয়া।

৪) কারও উপুড় হয়ে শোয়ার অভ্যাস সহজে না গেলে, কাঁথা, চাদর বা কম্বল দ্বারা মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে তারপর উপুড় হয়ে শোয়া। তবে ৩ নং আমলটিই অধিকতর শ্রেয় এবং সুন্নত সম্মত।

৫) ঘুমের দোয়াসমূহ পড়ে তারপর ঘুমানো। কি দোয়া পড়ছেন, তার অর্থ জানা থাকলে ভাল। ঘুমের একটি সহজ এবং অধিক পঠিতব্য দোয়া হচ্ছে,

“আল্লাহুম্মা বি-ইস্‌মিকা আমূওতু ওয়া আহ্‌ইয়া।”

অর্থঃ হে আল্লাহ ! তোমারই নামে মৃত্যুবরণ করি, আবার তোমারই নামে জীবন ধারন করি।

৬) দুঃস্বপ্ন দেখে আকস্মাৎ জেগে উঠলে বাম দিকে ফিরে তিনবার “আউযুবিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইত্বনির্‌ রাজীম” বলে তিন বার থুথু দেয়া। থুথু দিলে পাশেরজায়গা ভিজে যাবার আশংকা থাকলে থুথুর মত করে ফুঁ দেয়া।

৭) শোবার সময় দশ বার করে “লা- হাওলা ওয়ালা- কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্‌” পাঠ করা।

৮) দুঃস্বপ্ন বা বোবায় ধরার কাহিনী কোনটাই কাউকে না বলা। আর প্রকাশ করলে এমন কারও কাছেই তা করা উচিত যিনি এর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেন এবং প্রতিকার বাতলে দিতে পারেন।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর