• মঙ্গলবার   ২৭ অক্টোবর ২০২০ ||

  • কার্তিক ১২ ১৪২৭

  • || ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

৩৪

বেলকুচিতে ১০৩৩ ফুট বাঁশের সাঁকো নির্মাণকারীদের অনুদান প্রদান

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০  

সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার রানীপুরা গ্রামের ১০৩৩ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণকারী উদ্যোক্তাদের হাতে উপজেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে  ২০,০০০ টাকার আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মো: আনিসুর রহমান।

উল্লেখ্য বেলকুচির এই নিম্নাঞ্চল বছরের অর্ধেক সময় পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এই মানুষগুলোর দুঃখ-দুর্দশা অবলোকন করে এগিয়ে আসেন গ্রামের যুবক,ছাত্র,শ্রমিকরা। গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে চাঁদা তুলে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করেন ১০৩৩ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো।

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই ডুবে যায় বেলকুচি উপজেলার যমুনা নদী পরিবেষ্টিত রানিপুরা, মনতলারচর, চর আগুরিয়া, মুলকান্দি, বেলির চর সহ এই অঞ্চলের অন্তত ১০টি গ্রাম। যমুনা নদীর পানিতে সয়লাব হয়ে পড়ায় বন্ধ হয়ে পড়ে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানিবন্দি মানুষদের তখন যোগাযোগের একমাত্র ভরসা কলাগাছের ভেলা আর গুটিকয়েক নৌকা। স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীদের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। বিষয়টি ভাবিয়ে তোলে করোনার কারণে বাড়িতে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আনিসুর রহমানকে। তার এই ভাবনাকে সমর্থন জানিয়ে এগিয়ে আসে গ্রামের উদ্যমী যুবক নূর আলম শেখ, বাবুরাজ, শহিদুল ইসলাম, আব্দুল লতিফ ও আব্দুল শেখ।

তাদের গ্রামবাসীর মতামত নিয়ে এপ্রিল মাসের শুরুতেই কাজ শুরু করা হয়। ছিন্নমূল আর অভাবি চরাঞ্চলের এই গ্রামগুলো থেকে বেছে বেছে চিহ্নিত করা হয় অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল পরিবারগুলোকে। ৭০টি পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া হয় ৩০০ টাকা করে চাঁদা। স্থানীয় একজন ইউপি সদস্য ২ হাজার টাকা দিয়ে সহায়তা করেন। বাকি টাকা আর দীর্ঘ পরিশ্রম করেছেন উদ্যমী এই ৬ যুবক আর গ্রামবাসী মিলে।

এ বিষয়ে রানিপুরা গ্রামের সন্তান ঢাকা ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আনিসুর রহমান বলেন, অভাব আর প্রকৃতির সাথে লড়াই করেই তিনি বড় হয়েছেন। চরাঞ্চলের শ্রমজীবী অভাবি মানুষ আর স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের বর্ষা-সময়ের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করেই তিনি এমন উদ্যোগ নিয়েছেন।

তিনি জানান. গ্রামবাসী সহায়তা না করলে দীর্ঘ এই সাঁকোটি নির্মাণ করা সম্ভব হতো না। তিনি জানান, সাঁকোটি নির্মাণ করতে বাঁশসহ আনুসাঙ্গিক জিনিসপত্র কিনতে ব্যয় হয়েছে প্রায় সোয়া তিন লাখ টাকা। গ্রামের ৫ যুবক আর গ্রামবাসীরা মিলে দিয়েছেন স্বেচ্ছাশ্রম। তারই ফসল এই দীর্ঘ সাঁকো। বেলকুচি উপজেলা প্রশাসনের এ আর্থিক অনুদান আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করবে এবং প্রয়োজনে কাজে লাগাতে পারবো।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর