• শুক্রবার   ০৩ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ১৯ ১৪২৭

  • || ১৩ জ্বিলকদ ১৪৪১

৩২

বিসিজি টিকা করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার হ্রাস করতে পারে কি?

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল ২০২০  

যক্ষ্মা প্রতিরোধের লক্ষ্যে জন্মের পরপরই লক্ষ লক্ষ শিশুকে দেওয়া ব্যাকিলাস ক্যালমেট-গেরিন (বিসিজি) ভ্যাকসিনটি করোনভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অভাবনীয় সাফল্য আনতে পারে, বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। নিউইয়র্ক ইন্সিটিউট অফ টেকনোলজির জৈবচিকিৎসা বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ড গনযালো ওটাযু তাঁর পাঁচ শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিসিজি টিকা নিয়ে গবেষণা করেছেন।

"আমাদের গবেষণা একটি পরস্পর সম্পর্কিত গবেষণা। কোভিড ১৯ এর বিভিন্ন ধরণের বিভিন্ন প্রভাব রয়েছে বলে আমরা মনে করি এবং কেন এমন হবে তা আমরা ভাবছি। সুতরাং, আমরা একটি সম্ভাব্য কারণ হিসাবে বিসিজি ভ্যাকসিনকে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আমাদের গবেষণা এবং অন্যান্য কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে বিসিজি ভ্যাকসিন যক্ষা থেকে রক্ষা করার জন্য দেওয়া হলেও এটি শ্বাসকষ্টের অন্যান্য সমস্ত রোগ থেকেও রক্ষা করে। আমরা আশ্চর্য হই যে জাপান এই রোগে আক্রান্ত প্রথম দেশগুলির মধ্যে একটি এবং ইতালিতে সবচেয়ে বেশি লোক আক্রান্ত হয়েছে। আমরা জানতে পারি যে জাপানের একটি সার্বজনীন বিসিজি টিকা নীতি ছিল কিন্তু ইতালি কখনও এ জাতীয় নীতি প্রয়োগ করেনি।

আমি জোরালো ভাবে বলতে চাই, আমার গবেষণাটি একটি পারস্পরিক সম্পর্কিত গবেষণা।আমরা এই মুহূর্তে যখন কথা বলছি ঠিক তখনই অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, গ্রিস সহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে যে বিসিজি টিকার সঙ্গে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার হ্রাসের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা।আমার গবেষণায় উঠে এসেছে যে এমন সম্পর্ক থাকতে পারে কিন্তু তা এখনো প্রমাণিত হয়নি।

আমি আরও একটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যদিও এশিয়াতে এমন অনেক দেশ রয়েছে যারা এই রোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে এবং ঐ দেশগুলির বিসিজি ভ্যাকসিন নীতি কার্যকর রয়েছে। কিন্তু ঐ দেশসমুহ পৃথকীকরণ এবং সামাজিক দূরত্ব নীতিও বাস্তবায়ন করে্ছে।

এখনও অবধি আমি এমন কোনও দেশের কথা জানতে পারি নি যে কেবল বিসিজি টিকাদান নীতির ভিত্তিতে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে। সুতরাং এটি আমাদের এই রোগ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিতে পারে তবে শুধু টিকা দিয়ে এই রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। বিসিজি ভ্যাকসিনটি সুরক্ষা দেয় কিনা তা জানতে আমাদের ক্লিনিকাল পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
আমার সঠিক জানা নেই তবে আমি জানি যে পরীক্ষা চলছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হয়তো ফলাফল জানা যাবে। এবং আশা করি খুব শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রে এমন ক্লিনিকাল ট্রায়াল বা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে এবং জানা যাবে আসলেই কোনো সম্পর্ক আছে কিনা। আমরা যতদূর জেনেছি যে যুক্তরাষ্ট্রে দুর্ভাগ্যক্রমে কখনই সর্বজনীন বিসিজি টিকা প্রয়োগ করা হয়নি।

একটি শক্তিশালী পারস্পরিক সম্পর্ক আছে যা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি, এটি কেবল একটি পারস্পরিক সম্পর্ক হতে পারে আমরা অন্যান্য কারণগুলির সম্পর্কে জানি না। অন্য কারণেও মৃত্যুর হার হ্রাস পেতে পারে এবং এজন্য আমাদের অবশ্যই ক্লিনিকাল ট্রায়ালের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বিসিজি হলো একটি ভ্যাকসিন যা যক্ষ্মা থেকে রক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে ক্লিনিকাল লোকেরা প্রাপ্ত জনসংখ্যা যারা এই টিকা গ্রহ্ন করেছে এবং যারা করেননি তাদের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করেছেন এবং দেখতে পেয়েছেন যে বিসিজি ভ্যাকসিন গ্রহণকারী জনগণের মধ্যে মৃত্যুর হার হ্রাস পেয়েছে।

তবে সে গবেষণা নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে আর এ জন্য এ আবিষ্কৃত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হচ্ছেনা।এই পরীক্ষাগুলিতে চিকিত্সা কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত আছেন যারা এখন কোভিড ১৯ রোগীদের চিকিত্সা করছেন এবং ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন।

সুরক্ষার মাত্রাতে যারা শৈশবকালে বিসিজি টিকা গ্রহণ করেছেন এবং যারা প্রাপ্তবয়স্ক হবার পর গ্রহণ করছেন তাদের মধ্যে পার্থক্য থাকবে।"

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আন্তর্জাতিক বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর