শনিবার   ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ১৬ ১৪২৬   ০৫ রজব ১৪৪১

১১

বিল গেটসের বার্ষিক চিঠি

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও তাঁর সহধর্মিণী মেলিন্ডা গেটস এ বছর তাঁদের কর্মীদের কাছে পাঠানো বার্ষিক চিঠিতে অভীষ্ট লক্ষ্যে অপ্রতিরোধ্যভাবে ছুটে চলার কারণ তুলে ধরেছেন। পেশাদার ব্যক্তিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে পোস্ট করা ওই চিঠি সম্পর্কে বিল গেটস বলেছেন, ‘আমাদের ২০২০ সালে বার্ষিক চিঠিতে আমি ও মেলিন্ডা আমরা কেন লক্ষ্যে ছুটে চলেছি, তা লিখেছি।’

‘আপনি যখন কোনো বলকে সীমানাছাড়া করতে দ্রুত ব্যাট চালান, তখন যতটা সম্ভব শক্তি প্রয়োগ করেন। অনেক সময় ওই বলটা মিস হয়েও যেতে পারে। আমাদের দাতব্য কাজটিকে আমরা সেভাবেই দেখি।’

‘সুইং ফর দ্য ফেন্স’ শিরোনামে লেখা ওই চিঠির শুরুতেই বিল গেটস তাঁর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পরও আমরা অগ্রগতি অর্জনে নতুন কিছু উদ্ভাবনের শক্তি সম্পর্কে ঠিক তেমনই আশাবাদী।

‘আমরা যখন ২০ বছর আগে আমাদের ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু করেছিলাম, তখনকার দুনিয়া এখনকার চেয়ে নানাভাবেই আলাদা ছিল। এগুলো নাইন-ইলেভেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের উত্থানের আগের কথা। সে সময় এখনকার মতো উপযুক্ত কারণের কোনো ঘাটতি ছিল না, যার অনেকগুলোয় বিনিয়োগ করার জন্য ভালো বিতর্ক করা যেত। আমরা আগে থেকেই জানতাম যে আমাদের বেশির ভাগ সম্পদ মাইক্রোসফট থেকে নিয়ে মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও উন্নত করতে ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম। অবশ্যই চ্যালেঞ্জটা ছিল, কীভাবে এটি অর্থবহ এবং উচ্চ প্রভাবের উপায়ে করা যায়।’

বিল গেটস চিঠিতে লিখেছেন, ‘যেহেতু আমরা আমাদের দাতব্য অগ্রাধিকার নিয়ে ভাবছিলাম, আমরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অনেক সাক্ষাতের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিবেদনের ওপর গুরুত্ব দিই। আমরা দেখি যে আমাদের বিশ্বাস জন্মেছিল, বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের প্রয়োজনের জন্য বিশ্বকে আরও বেশি করে কাজ করা উচিত। আমাদের ফাউন্ডেশনের কাজটির মূল বিষয়টি এ ধারণা থেকে জন্ম নেয় যে প্রত্যেক ব্যক্তি স্বাস্থ্যকর এবং উৎপাদনশীল জীবনযাপনের জন্য উপযুক্ত। ২০ বছর পরে এসেও যত কিছুই পরিবর্তন হয়ে যাক না কেন, এটাই আমাদের গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি।

‘নতুন দশক বিশ্বজুড়ে প্রচণ্ড অশান্তি এবং অনিশ্চয়তার সময়ে শুরু হয়েছে, এ বিষয় প্রশ্নাতীত। আমরা যখন বিষয়টি লিখছি, অন্যদের মতোই আমরাও করোনোভাইরাসের মহামারির বিষয়টি নিবিড়ভাবে দেখছি। তবে এখানকার মতো চ্যালেঞ্জিং সময়ের ক্ষেত্রেও আমরা আইনজীবী, গবেষক, সরকারি কর্মকর্তা এবং সামনের সারির কর্মীরা, যাঁরা আরও বেশি জায়গায় আরও বেশি লোকের পক্ষে একটি স্বাস্থ্যকর এবং উৎপাদনশীল জীবনকে সম্ভব করে তুলছেন, তাঁদের পাশে থাকব।

‘গত দুই দশকে আমাদের সংস্থা মূলত বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি ও যুক্তরাষ্ট্রে জনশিক্ষা পদ্ধতি শক্তিশালী করতে কাজ করেছে। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি, সুস্বাস্থ্যকর, উন্নত ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নতিই মূল। রোগ একাধারে একটি লক্ষণ এবং বৈষম্যের কারণ আর জনশিক্ষা সাম্যের চালক।’

বিল গেটস তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা জানি, দাতব্য কাজ কখনো সরকার বা বেসরকারি খাতের জায়গা নিতে পারে না বা নেওয়া উচিত নয়। তবে উন্নতির চালিকা শক্তি হিসেবে এর অনন্য ভূমিকা রয়েছে বলে বিশ্বাস করি। সরকার ও করপোরেশন যেসব ঝুঁকি নিতে পারে না, দাতব্য কাজ তা সর্বোত্তম উপায়ে নিতে পারে। সরকারের উচিত তাদের মূল সম্পদের দিকে মনোনিবেশ করা ও পরীক্ষিত সমাধানগুলোকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।

‘ব্যবসায় শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি বিশ্বস্ত দায়িত্ব রয়েছে। তবে আমাদের মতো ফাউন্ডেশনে এমন ধারণাগুলো যাচাই করার স্বাধীনতা রয়েছে, যা অন্যথায় চেষ্টা না করা হতে পারে, যার মধ্যে কয়েকটি সাফল্যও আসতে পারে।’

বিল গেটস তাঁর চিঠিতে বন্ধু ওয়ারেন বাফেটও ধন্যবাদ দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বরাবরের মতোই প্রিয় বন্ধু ও দীর্ঘদিনের সুপরামর্শদাতা ওয়ারেন বাফেট দাতব্য কাজটিকে আরও রঙিন করে তুলেছেন। তিনি যখন তাঁর সম্পদের বিশাল অংশ দান করেন এবং এ কাজে অংশীদান হন, তখনই তিনি অসম্ভবকে সম্ভব করার পেছনে ছোটার যুক্তি দেন।

‘“সুইং ফর দ্য ফেন্স” নামের এই ইংরেজি বাক্যটিকে মার্কিনরা সহজে চিনবেন। এটি বেসবলে ব্যবহৃত হয়। আপনি যখন সীমানা ছোঁয়ার জন্য ব্যাট চালাবেন, অনেক সময় ব্যাটে নাও লাগতে পারে। যদি আপনি ব্যাটে লাগাতে পারেন তবে ব্যাপক সাফল্য পাবেন। আমাদের দাতব্য কাজকে এভাবেই দেখি আমরা। লক্ষ্যটি কেবল বর্ধমান অগ্রগতি নয়। এটি আমাদের প্রচেষ্টার এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহারের ফসল। যদি আমরা সফল হই, আমরা জীবন বাঁচাতে ও উন্নত করতে সক্ষম হব।

‘পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমরা যে ঝুঁকিটা নিচ্ছি, তা বিশ্বকে উন্নত করার জন্য সত্যিকারের হিরোরা সব সময় যেমন নেয় তার চেয়ে আলাদা। যুদ্ধক্ষেত্রে শিশুদের ভ্যাকসিন দিতে কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মী, বিশ্বের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং স্কুলগুলোয় পাঠদান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশে যে দরিদ্র নারীর পরিবর্তনের সংগ্রাম, তাঁদের চেয়ে আমাদের ঝুঁকি আলাদা। তাঁদের ব্যক্তিগত অনেক কিছুই বিসর্জন দিতে হয়, যা আমাদের কখনো হয় না। আমরা তাঁদের উদ্ভাবন দিয়ে সম্মান ও সহযোগিতা করতে চাই, যা একদিন তাঁদের জীবনকে সহজ করে তুলবে।

‘এখন পর্যন্ত বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন গত দুই দশকে ৫৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। সর্বোপরি আমরা যা অর্জন করেছি, তাতে আমরা রোমাঞ্চিত। তবে আমরা যত ডলার খরচ করেছি, সব ডলারের কি প্রভাবের আশা করতে পারি? এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে “না”। আমাদের অনেক হতাশা, বাধা ও চমকে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে। তবে আমাদের ব্যর্থতা ও সাফল্যের ব্যাপারে স্বচ্ছ থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। আমরা কী শিখলাম, তা সবার কাছে জানানোটাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।

‘এ বছরের চিঠিতে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা যে কাজ করেছি এবং আমরা কীভাবে ঝুঁকি নিয়েছি, যা ভবিষ্যতের অগ্রগতির জন্য কাজে লাগবে বলে মনে হয়, তা উল্লেখ করা হয়েছে। এবারের চিঠিতে আমরা দুটি বিষয় সম্পর্কেও লিখেছি, যা আমাদের জন্য অগ্রাধিকার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ওই দুটি বিষয় হচ্ছে জলবায়ু সংকট ও লিঙ্গসমতা। আগামী দুই দশকে এ দুটি বিষয় কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তাও বলা হয়েছে।’ পুরো চিঠি gatesletter.com থেকে পড়া যাবে।

 
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
এই বিভাগের আরো খবর