• শুক্রবার   ০৭ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৩ ১৪২৭

  • || ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

১৫

বাস্তবায়নেই সম্ভব কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০২০  

বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিপ্রবণ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে দেশকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নেয়া বড় চ্যালেঞ্জ।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কর্মকৌশল। ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ তেমনি একটি কর্মপদ্ধতি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করে দেশকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সে বিষয়টি মাথায় রেখে এই ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নে যে কাউন্সিল গঠিত হয়েছে তা যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এ প্ল্যান যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের কাঙ্খিত টেকসই উন্নয়ন ও অগ্রগতির মাইলফলক স্পর্শ করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

ব্র্যাক বিশ্বদ্যিালয়ের সাবেক ভিসি এবং পানিসম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, ডেল্টা প্ল্যান সরকারের একটি কৌশলগত ডকুমেন্ট বলা যায়। ৮০০ পৃষ্ঠারও বেশি এই কর্মপ্রণালীর পুরোটা পড়া সময়সাপেক্ষ। তবে মোটাদাগে বলতে গেলে, দৈব-দুর্বিপাক, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে কী কী অভিযোজন, সংযোজন দরকার তা এই পরিকল্পনার অংশ। সাড়ে চার বছর ধরে কাজ করে ২০১৮ সালে এই পরিকল্পনা চ‚ড়ান্ত করা হয়েছে।

এই প্ল্যানে যে সব প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে ‘গঙ্গা ব্যারেজ’ প্রকল্পের কথা। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশের একটি অংশের বিরাট উপকার হবে। বিশেষ করে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, যশোর, কুষ্টিয়া এসব অঞ্চলের ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে। প্রায় চার বছর ধরে এ প্রকল্প নিয়ে নানাভাবে আলোচনা হচ্ছে কিন্তু অগ্রগতি খুব একটা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ক্যাপাসিটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দক্ষতার অভাব রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। তারপরও এখন যখন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাস্তবায়ন কাউন্সিল গঠিত হয়েছে তখন তা অবশ্যই আশান্বিত করেছে। আমরা চাই দ্রুত এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হোক। আর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে যেন দেশিয় বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হয়।

পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাব আমাদের দেশে প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, সাইক্লোন, নদীভাঙন, খরা, আমাদের নিত্যসঙ্গী। নদীভাঙনের ফলে প্রতিবছর ৫০ থেকে ৬০ হাজার পরিবার গৃহহীন হচ্ছে। বন্যায় ব্যাপক ফসলহানি হচ্ছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি তো রয়েছেই। মানবসৃষ্ট নানা কারণে প্রাকৃতিক পানিচক্র বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। কমে যাচ্ছে পানির গুণগত মান ও প্রাপ্যতা। বাড়ছে লবণাক্ততা ও মিঠা পানির স্বল্পতা। এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণতা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য বন্যা, খরা, সাইক্লোনের ঝুঁকি বাড়ছে। নতুন করে বজ্রপাত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসাবে দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় যে ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে তা সময়োপযোগী। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে বাস্তবায়ন কাউন্সিল গঠিত হয়েছে তা জাতিকে আশান্বিত করেছে। এই কমিটির পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে ডেল্টা প্ল্যান দ্রুত বাস্তবায়ন হলে দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব হবে।

প্রসঙ্গত, শতবছরের মহাপরিকল্পনা ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারপারসন করে ‘ডেল্টা গভর্ন্যান্স কাউন্সিল’ গঠন করা হয়েছে। ১২ সদস্যের এই কাউন্সিল গঠনে ১ জুলাই গেজেট প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর