শুক্রবার   ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ফাল্গুন ৮ ১৪২৬   ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বারো বীজতলা নিয়ে শঙ্কায় সিরাজগঞ্জের কৃষকরা

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

চলতি মৌসুমে শীতের তীব্রতা আর কয়েক দফা শৈত্য প্রবাহের কারণে জেলার অধিকাংশ বোরো বীজতলা নষ্ট হয়ে পড়েছে। বর্তমানে শীতের তীব্রতা কমলেও জমিতে টিকে থাকা বোরো বীজতলা নিয়ে শঙ্কা কাটেনি কৃষকদের। শুধুমাত্র চারার অপর্যাপ্ততার কারণে এই ভরা বোরো মৌসুমেই অনেক কৃষক জমিতে চারা রোপন করতে পারছেন না।

জেলা কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বোরো চাষের মৌসুম এক থেকে দেড় মাস পিছিয়ে যেতে পারে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে জেলা কৃষি দপ্তরের আওতায় আদর্শ বীজতলা এবং যান্ত্রিক পদ্ধতিতে রোপণের জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি বীজতলা তেও এর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ পদ্ধতিতে চাষ করা চারা নষ্ট হয়ে পড়ায় জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বোরো চাষের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে কৃষি দপ্তর। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ এবং সদর উপজেলার রাঙ্গালিয়াগাতি গ্রামে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বোরো আবাদ হচ্ছে।

বোরো চাষিদের ব্যক্তিগত উদ্যোগের পাশাপাশি জেলা কৃষি অধিদপ্তর জেলার বিভিন্নস্থানে বোরো আবাদের জন্য আদর্শ বীজতলা এবং যান্ত্রিক পদ্ধতিতে রোপণের জন্য ট্রের মধ্যে বোরো বীজতলা তৈরি করেছিল। জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ এই বীজতলার দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন। এ ছাড়া যান্ত্রিক পদ্ধতি অর্থাৎ রাইস ট্রান্সপ্লান্টিং যন্ত্রের মাধ্যমে বোরো আবাদের জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি কৃষক ক্লাব গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি শীত মৌসুমের তীব্রতা আর কয়েক দফা শৈত্যপ্রবাহে চাষ করা বীজতলার প্রায় অর্ধেক নষ্ট হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো বীজতলার বিবর্ণ  চারাগুলো বিশেষ পরিচর্যার মাধ্যমে রোপণ উপযোগী করলেও তা পুরুষ্ঠ নয়। যে কারণে বোরো চাষের পাশাপাশি বোরো ধানের  ফলন নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছে জেলার কৃষকেরা।

কৃষকরা জানান, শীতের হাত থেকে বীজতলা রক্ষায় তারা কৃষি বিভাগের নানা পরামর্শ গ্রহণ করলেও তাতে খুব একটা কাজ হয়নি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে বোরো ধানের চাষ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এ বছর তা পিছিয়ে গেছে।

এদিকে চারা নষ্ট হয়ে পড়ায় খোলাবাজারেও চারার দাম বেড়েছে দুই থেকে তিন গুণ। সদর উপজেলার চর রায়পুর গ্রামের কৃষক সোহেল জানান, তিনি পাঁচ কেজি ধানের এক কৌটা চারা দিয়ে বীজতলা তৈরি করে তা আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।

একই এলাকার কৃষক আব্দুল আউয়াল জানান, তার ১২ শতক জমি রোপণ করতে আট শ টাকার চারা লেগেছে। তিনি জানান, এ বছর চারার দাম খুব বেশি হওয়ায় সাধারণ কৃষকদের চারা ক্রয় করে জমি লাগানো কঠিন হয়ে পড়বে।

কামারখন্দ উপজেলার গোপালপুর গ্রামের কৃষক নীলমনি জানান, চারার বয়স বাড়লেও তা পুষ্ট নয়। যে কারণে জমিতে কাঙ্খিত ফলন পাওয়া যাবে না। তাছাড়া চারার সংকট আর অতিরিক্ত দামের কারণে পুরো জমিতে চারা রোপন করতেও বিপাকে পড়তে হবে কৃষকদের। অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে প্রয়োজনীয় চারা মিলবে কিনা তা নিয়েও রয়েছে কৃষকদের মাঝে শঙ্কা।

এদিকে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের খরচ কমাতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চারা আবাদের জন্য জেলার বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু কৃষক ক্লাব গঠন করা হয়েছে। উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে তাদের জমিতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে চাষ করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শুধু চারার সংকটের কারণে তা চলতি মৌসুমে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি প্রকৌশলী ফাতিমা আক্তার জানান, চলতি বোরো মৌসুমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ২০ একর এবং সদর উপজেলার রাঙ্গালিয়াগতিতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বোরো ধানের আবাদ করা হচ্ছে। বীজতলা তৈরি শুরুতেই বুলবুল ঝড়ের কারণে বীজতলায় পানি জমে থাকায় চারা বপন এ দেরি হয়। তাছাড়া তীব্র শীত আর কয়েক দফা শৈত্যপ্রবাহে চারার উৎপাদন এবং বৃদ্ধি কিছুটা কম হয়েছে। চারার উচ্চতা কম হওয়ায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টিং যন্ত্রের মাধ্যমেবপন করা সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় বোরো চাষের জন্য ৮০ হাজার ৮৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে হাইব্রিড জাতের ৬৬০ হেক্টর উচ্চ ফলনশীল জাতের ৭২২০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ২০৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। আর এর থেকে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৪১ হাজার ১০ হেক্টর জমি। 

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
এই বিভাগের আরো খবর