• সোমবার   ২৫ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১১ ১৪২৭

  • || ০২ শাওয়াল ১৪৪১

৫০

বাংলাদেশের নামে পোস্ট করল অ্যামনেস্টির সিরিয়া যুদ্ধের ছবি

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২০  

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর এক ফেসবুক পোস্ট করেছে। যেখানে সিরিয়া যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

ফেসবুকে পোস্টটি প্রোমোশন করার পর বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় নিজেদের অফিসিয়াল পেজ থেকে পোস্টটি হাইড করে রাখলেও এখনো তা শেয়ার হচ্ছে বিশ্বজুড়ে।

বিভ্রান্তিকর এই ছবি ছড়িয়ে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে এমন পোস্ট যাওয়া উচিত হয়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা।

চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি নিজেদের অফিসিয়াল পেজ থেকে একটি পোস্ট করে সকলকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সদস্য হওয়ার আহ্বান জানায় প্রতিষ্ঠানটি। সেই পোস্টে যে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে তা সিরিয়ার। ছবিটিতে একটি ধসে পড়া বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় দুই শিশুকে।

অথচ সেই পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়, ‘বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে অনেক সাধারণ মানুষ ভুল সময় ভুল স্থানে থাকার কারণে আক্রমণ, ভায়োলেন্স ও মৃত্যুর মুখে পড়ছে। যুদ্ধ ও সংঘর্ষের সময় আক্রান্তদের কথা প্রকাশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি আমরা। না বলা গল্পগুলো জানাতে লাখো মানুষের এই আন্দোলনে আপনিও যোগদিন।’

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এই পোস্টে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশিরা। সেখানে তাদের এক টপ ফ্যান মো. সজীব ইসলাম লেখেন, ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কী পাগল হয়ে গেছে? বাংলাদেশে কোন যুদ্ধ চলছে না। এটা কিভাবে লেখা হলো! এখনি পোস্টটি মুছে দিন।’

১০ তারিখে ফেসবুকে দেয়া এই পোস্ট নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলেও বিষয়টি নিয়ে অবগত ছিলো না অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। পোস্টটি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এমন পোস্ট যাওয়া উচিত হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর আমাদের টেকনিক্যাল দলের কাছে পাঠানো হয়েছে। পোস্টটি প্রদান করা হয়েছিলো সারা বিশ্বের যে কোনো মানুষকে মানবাধিকার এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সেখানে নির্দিষ্ট একটি দেশের নাম দেয়া উচিত হয়।

তিনি আরো জানান, পোস্টটি মূল পেজ থেকে দেখা যাচ্ছে না। এর অর্থ হলো আমাদের টিম এই পোস্ট নিয়ে কাজ করছে। পোস্টটি মুছে ফেলা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে অবগত করার পর এখন ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে দারুণ সক্রিয় ছিলো অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এ সময় বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে আরো বেশ কিছু ইস্যুতে সোচ্চার ছিলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানটি। ২০১২ সাল থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে দারুণ সরব থাকা এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করার চেষ্টার অভিযোগ উত্থাপিত হয় ২০১৫ সালে। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর হবার পরও বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আন্তর্জাতিক বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর