বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৮ ১৪২৬   ০৮ শা'বান ১৪৪১

৪৪১

ফিরে দেখা:১৬

বনানী ধর্ষণ মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন তারেক জিয়া

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর ২০১৮  

বনানীর রেইনট্রি হোটেলের আলোচিত ধর্ষণ মামলায় ফেঁসে যাচ্ছেন বিএনপির ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমান ও ফারহানা নিশো। 

পুলিশি রিমান্ডে ধর্ষক নাঈম আশরাফের স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসছে ভয়ংকর সব তথ্য। নাঈম মূলত ফারহানা নিশোর মাধ্যমেই তারেক রহমানের পরামর্শে উঠতি মডেল ও নায়িকাদের নানা প্রলোভনে অন্ধকার রাস্তায় নিয়ে আসতেন। 

আর নাঈম-নিশোদের টার্গেট সব সময় সরকার দলীয় সমর্থক বিভিন্ন মন্ত্রী এমপিদের সন্তান। যাতে করে এই সব কারণে সরকার বেকায়দায় পড়ে, জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পুরোটাই তারেক জিয়ার মাস্টারপ্লান।

একুশে টিভির অনুষ্ঠান প্রধান ফারহানা নিশোকে অব্যাহতি দেয়ার আসল কারণ নিয়ে চলতি সপ্তাহ জুড়ে সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছিল সরব। 

বনানী ধর্ষণ মামলার আসামী নাঈম আশরাফ ওরফে হালিমের সাথে সেলফি নাকি আর্থিক দুর্নীতির কারণে নিশোকে একুশে টিভি বহিষ্কার করেছে এই নিয়ে ছিল জল্পনা কল্পনা।

ঘটনা অনুসন্ধানে জানা গেছে, তারেক জিয়ার পুরাতন প্রেমিকা ফারহানা নিশো তার মিডিয়ার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন, তারেক জিয়ার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের চ্যানেল ওয়ান টেলিভিশনের মাধ্যমে। যদিও এক এগারোর পরে এক সাংবাদিক নেতাকে ব্যবহার করে, আর টিভি , বাংলাভিশন হয়ে সর্বশেষ একুশে টেলিভিশনে অনুষ্ঠান প্রধান হিসাবে যোগদান করেছিলেন। কিন্তু তারেক জিয়া কানেকশন কখনোই ছিন্ন করেন নি। নানাভাবে ভোল পালটালেও তারেক জিয়ার নির্দেশেই মিডিয়াতে একটি চক্র নিয়ন্ত্রণ করতেন ফারাহানা নিশো।

বনানী ধর্ষণ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদে নাঈম আশরাফ জানিয়েছে, ফারাহানা নিশোর নির্দেশেই সে সব ধরনের কাজ করত।

আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে মিডিয়ার সব কাজ নাঈম পাবে এমন আশ্বাস দিয়েছিলেন নিশো। তারেক জিয়ার সাথে তার সরাসরি কথা হয়েছে কি না জানতে চাইলে নাঈম বলেন, নিশোই সব যোগাযোগ রক্ষা করতেন। তবে ঝামেলা এড়াতেই আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সেলফি তুলতেন বলেও স্বীকার করেন নাঈম।

তারেক জিয়ার পক্ষে ব্রিটেন থেকে নিশোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতেন এনটিভি ইউরোপের সিইও ফালুর শালার বউ,সাবরিনা। টাকা পয়সার লেনদেন ও হতো সাবরিনার মাধ্যমে। সাবরিনা বলেন, তারেক ভাইর সাথে তো নিয়মিতই যোগাযোগ হয়। 

এটা লুকানোর কি আছে? আর মিডিয়ার লোক হিসেবে নিশোর বিপদের দিনে তার সাথেও আমি যোগাযোগ রাখছি। তারেক ভাই’র সাথে তো নিশো এমনি আমাকে ছাড়াও যোগাযোগ করতে পারে। আর আমি নাঈমকে চিনি না।

গত শনিবার লন্ডন টাইম তারেক জিয়া ও নিশোর এক টেলি কনফারেন্স হয়; যা ম্যানেজ করে দিয়েছিলেন এনটিভি ইউকে’র সাবরিনা। সেখানে ইউকে বিএনপির সভাপতি মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কায়সার উপস্থিত ছিলেন। তারেক জিয়ার জনৈক ড্রাইভার সেই টেলিকনফারেন্স এর তথ্য ফাঁস করে দেন।

এই বিষয়ে ইউকে বিএনপি’র সভাপতি মালেকও কায়সারকে পক্ষ থেকে ফোন দিলে সাথে সাথেই মালেক ফোন কেটে দেন এই বলে যে, গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে ভাইয়ের নিষেধ আছে।

নিশোর ফেইসবুকে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, সমস্যা কি? তারেক ভাইয়ার সাথে তো কথা হয়েছেই। আর নাঈম যে আওয়ামী লীগ নেতাদের মেয়ে সাপ্লাই দিতো এটা তো মিথ্যা না। আমি মুখ খুললে অনেকেরই বৌ’র সামনে চেহারা দেখানোর উপায় থাকবে না। 

আর তারেক ভাইয়ার সাথে যোগাযোগ থাকার মধ্যে কোন অপরাধ আছে বলে আমি মনে করি না। 

 

সুত্রঃ বিডি প্যানোরোমা

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
এই বিভাগের আরো খবর