রোববার   ০৫ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ২২ ১৪২৬   ১১ শা'বান ১৪৪১

৫৫৫

বধ্যভূমির জেলা সিরাজগঞ্জ

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮  

বধ্যভূমির জেলা যেন সিরাজগঞ্জ।এখানে চারদিকেই বধ্যভূমি ও গণকবরের ছড়াছড়ি। অরক্ষিত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে এসব বধ্যভূমি ও গণকবর। এমনকি অনেক বধ্যভূমির চিহ্ন পর্যন্ত হারিয়ে গেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সুকুমার বিশ্বাস সম্পাদিত ‘একাত্তরের বধ্যভূমি ও গণকবর’, মুনতাসীর মামুন সম্পাদিত ‘মুক্তিযুদ্ধ কোষ’, ডা. এম এ হাসান সম্পাদিত ‘যুদ্ধাপরাধ গণহত্যা ও বিচারের অন্বেষণ’সহ স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকের বিভিন্ন তথ্য ও অনুসন্ধানে সিরাজগঞ্জের বেশকিছু বধ্যভূমির খোঁজ মিলেছে। এগুলো হচ্ছে :

শিয়ালকোল মুছিবাড়ি বধ্যভূমি :
এই বধ্যভূমিটির অবস্থান সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক সড়কের সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের ডানদিকে মুছিবাড়ির পূর্বপাশে। এখানে পাকসেনারা হিন্দু সম্প্রদায়ের ৭ জনকে গুলি করে হত্যা করে। এদের মধ্যে শিয়ালকোল গ্রামের ফনি দাস, শিবচরণ দাস, প্রেম দাস ও হাটু দাসের নাম জানা গেলেও অপর ৩ জনের নাম পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় গাজী মো. আব্দুল মমিন জানান, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকে পাকসেনাো পার্শ্ববর্তী কামারখন্দ উপজেলার পাইকোশা বাজারে রাজাকারদের নিয়ে বৈঠক করেন। পাকসেনারা দুপুরে গ্রামে ঢুকে বিভিন্ন বাড়ি থেকে ওই ৭ জনকে পিঠমোড়া করে বেঁধে এনে মুছিবাড়ির সামনে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে।

বাগবাটি বধ্যভূমি :
সিরাজগঞ্জ থানা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের এ এলাকার বাগবাটি, হরিনা গোপাল ও উত্তর আলোকদিয়া গ্রামকে নিরাপদ ভেবে বগুড়া, শেরপুর, চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সিরাজগঞ্জ শহরের অসংখ্য নারী-শিশু ও ব্যবসায়ী আশ্রয় নেয়। এই ৩টি গ্রামে ১৯৭১ সালের ৩১ মে ভোরে গণহত্যা চালায় পাকবাহিনী।

স্থানীয় সঙ্গীত শিক্ষক সন্তোষ শিকদার জানান, প্রথমে বাগবাটি ইউনিয়ন পরিষদ অফিসের দিক থেকে গুলির শব্দ ভেসে আসে। কিছুক্ষন পরই হায়েনারা গ্রামের মধ্যে লুটতরাজ, অগ্নিসংযোগ ও নারী নির্যাতন চালায়। ভোর ৫টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত হত্যাযজ্ঞ চলে। পাকিস্তানি সেনারা চলে যাবার পর ৩০টি লাশ গুনেছেন তিনি। নিজ হাতে বাগবাটি গ্রামের ক্ষুদু বাবু দারোগার কুয়াতে ১১টি লাশ ফেলেছেন। তিনটি গ্রামের বিভিন্ন স্থানে পুঁতে রাখা হয় অসংখ্য লাশ।

১৯৯৯ সালে সদর উপজেলার তৎকালীন ইউএনও কিএন ঘোষাল বাগবাটি বধ্যভূমি চিহ্নিতকরনের উদ্যোগে নেন। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ৩৭জন শহীদ গ্রামবাসীর তালিকা প্রস্তুত করেন। এরা হলেন- উত্তর আলোকদিয়া গ্রামের ভানু দত্ত, ছানু দত্ত, কালীপদ দত্ত, জ্ঞানেন্দ্রনাথ দত্ত ও দুলাল চন্দ্র। হরিনা গোপাল গ্রামের কানাই লাল, নমদাস নালু রাহা, অলক কুমার পোদ্দার, বিমুলেন্দু রায়, হোমেন্ত চন্দ্র রায় (ক্ষুদ্র রাধা), শমনাথ রায়, হরিমঙ্গল হালদার ও রতন চক্রবর্তী। বাগবাটি গ্রামের গোদা হালদা, সুনীল চক্রবর্তী, সদা সরকার, নরেন্দ্রনাথ ভাম্বলী, গুটু আদলী, ঘোপেন চন্দ্র শীল, পুষ্প হালদার, ফনীভূষণ, কাওয়ালী, চেংগু পাল, মন্টু পাল, হারান পাল, গুটা পাল ও যুধীষ্ঠীর পাল। মালিগাতি গ্রামের হুন্ডি খা ও মাংগন আলী খা। শেরপুরের যতীন্দ্রনাথ দত্ত, সিরাজগঞ্জ শহরের তারা কর্মকার ও সম্বু সাহা গোদা হালদার।

১৯৭১ এর ৩১ মে সংঘটিত পাক হানাদার বাহিনীর পৈশাচিকতা ও বর্বরতার বিবরণ দিয়ে হরিনা গোপাল গ্রামের মঙ্গল মালাকার জানান, পাকবাহিনী এদিন তাদের স্থানীয় দোসর সুবর্ণগাতি গ্রামের তমেজউদ্দিন, ঘোড়াচড়া গ্রামের আজম বিহারি, মনু মুন্সী ও তফিজ ভূইয়াকে সঙ্গে নিয়ে এখানে আসে। সেদিন ৮০জনকে হত্যা করে পুঁতে ফেলা হয়। পরেশ চন্দ্র জানান, তার বাবা হরিপদ, কাকা শ্যামাপদ, ঠাকুরদা কালীপদ দত্ত ও পিসেমশাই তারাপদ দত্তকে লাইনে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হানাদাররা।

বাগবাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গাজী আমজাদ হোসেন জানান, শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় বাগবাটি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।

বড়ইতলা বধ্যভূমি : 
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার গান্ধাইল ইউনিয়নের বড়ইতলা গ্রাম। নিরাপদ ভেবে এ গ্রামে আশ্রয় নিয়েছিল হাজারো মানুষ। ১৯৭১ সালের ১৭ নভেম্বর রাতে রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি সেনারা বরইতলা গ্রাম ঘেরাও করে নির্বিচারে গুলি চালায়। সে সময় স্থানীয় কমান্ডার লুৎফর রহমান (দুদু) ও আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলে। রাত শেষে দিনভর যুদ্ধের পর মুক্তিবাহিনী পিছু হটে। পাকিস্তানি সেনারা গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালায়। মসজিদে এতেকাফরত ৩০জন মুসল্লিকেও বেঁধে এনে গ্রামের উত্তরপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এরপর পার্শ্ববর্তী উদগাড়ী, কাচিহারা, মিরারপাড়া, মাথাইল-চাপড়, আলমপুর, দুবলাই, গান্ধাইল, ঝাঐখোলা গ্রাম থেকে মুক্তিযোদ্ধারা এসে পাক হানাদারদের সঙ্গে ভোর থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত যুদ্ধ করে। ৬ পাক হানাদার ও বাবু নামে এক স্থানীয় রাজাকার নিহত হয়। অন্যদিকে, প্রায় দু’হাজার গ্রামবাসী আহত ও ১০৪জন শহীদ হন। স্বাধীনতার পর ৭৬জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম খচিত বরইতলীতে স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে।


তাড়াশের আমবাড়িয়া বধ্যভূমি :
সিরাজগঞ্জ তাড়াশ উপজেলার নওগাঁয় ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে ১৩০জন পাকসেনা ও অসংখ্য রাজাকার ও আলবদর নিহত হয়। এরপর ১৩ নভেম্বর পাকসেনারা মাগুরা বিনোদ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম জ্বালিয়ে দেয় এবং পার্শ্ববর্তী আমবাড়িয়া গ্রামে হত্যাযজ্ঞ চালায়। এসময় পাকবাহিনীর হাতে এ গ্রামের ১৩জন শহীদ হন।

এরা হলেন- শহীদ ইয়াব মোহাম্মদ, মেহের আলী মন্ডল, সুলতান সেখ, সফিজ সেখ, দেছের আলী প্রামানিক, মজিবর রহমান, কিসমত আলী, ফয়েজ উদ্দিন, মোক্তার হোসেন, ওসমান গনি, জুব্বার ফকিরা, আমিন উদ্দিন ও আব্দুর রহমান।

এ বিষয়ে পলাশডাঙ্গার মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেন বলেন, হত্যাযজ্ঞের পর ওই ১৩ শহীদের লাশ স্থানীয়রা একত্রিত করে আমবাড়িয়া গ্রামের দাখিল মাদ্রাসার উত্তর পাশের কবরস্থানের উত্তরদিকে মাটি চাপা দেয়।

এ দিনে শহীদ হওয়া ইয়াব মোহাম্মদের ছেলে দোবিলা ইসলামপুর ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক লুৎফর রহমান জানান, বর্তমান সরকারের আমলে স্থানীয় সাংসদ গাজী ইসহাক আলী তালুকদার ৫ টন টিআর বরাদ্দ দিয়েছিল। এর অর্থ দিয়ে (দৈর্ঘ্য ১০৮ ফুট এবং প্রস্থ্য ৮ ফুট) গণকবরের দেয়াল তৈরি করা হয়েছে।


চড়িয়া মধ্যপাড়া ও পাঠধারী অন্ধ পুকুরপাড় গণকবর :
১৯৭১ সালের ২৫ এপ্রিল সোমবার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চড়িয়া মধ্যপাড়া, পাঠধারী, কালিবাড়ী, শিকার মগড়াপাড়া, চড়িয়া শিকার দক্ষিণপাড়া, গোলকপুর, কাচিয়া গ্রামে গণহত্যা চালায় পাকবাহিনী। পাকসেনাদের ব্রাশফায়ারে প্রায় ২ শতাধিক গ্রামবাসী শহীদ হন। এদের মধ্যে ৩৫জনকে চড়িয়া মধ্যপাড়া পুকুরপাড় ও পাঠধারী অন্ধ পুকুরপাড়ে গণকবর দেওয়া হয়।

পাকসেনাদের গুলি লাগার পরও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া চড়িয়া মধ্যগ্রামের আবুল কালাম মন্ডল জানান, পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কে ব্যারিকেড পেয়ে গ্রামে ঢুকে পড়ে। তখন গ্রামবাসীরা ঘুমিয়ে ছিল। পাক সেনারা ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত গ্রামবাসীর ওপর নির্বিচারে গুলি-চালাতে থাকে। ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। তাদের হাত থেকে কোলের শিশুটিও সেদিন রেহাই পায়নি। ওইদিন সকালে পাকসেনারা ৩৬জনকে ধরে এনে চড়িয়া মধ্যপাড়ার আব্দুল মজিদ ও ইয়ার আলীর পুকুরের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলে ৩৫জনের মৃত্যু হয়। ৩টি গুলিবিদ্ধ হয়েও বেঁচে যান তিনি।

শহীদ ব্যক্তিরা হলেন- চড়িয়া মধ্যপাড়া গ্রামের বাহাজ উদ্দিন, ইয়াকুব আলী, আদম আলী, ইউসুব আলী, মেছের উদ্দিন মুন্সী, তলিম উদ্দিন, আজিজুল হক, গগন মন্ডল, ডা: শাহজাহান আলী, মোহাম্মদ আলী, তারা সরকার, কানছু সরকার, আবু বকর প্রামানিক, আবেদ আলী, আব্দুল কাইয়ুম, ডা: মুজিবর রহমান, ফজল প্রামানিক, আমানত আলী, আবু তাহের, আহসান আলী, শাহজাহান, কাফি, আবু তালেব, ছানু ফকির, কাঞ্জু প্রামানিক, আব্দুস ছাত্তার, মাহাম খা, দারোগা আলী, মজিবুর রহমান, আজিজ, হাকিমুদ্দিন, আব্দুল মজিদ, মুসা, শমসের আলী, তারা প্রামানিক। এছাড়াও ওইদিন পাটধারী গ্রামের ২৯জন, কালীবাড়ী গ্রামের ১৩জন শিকার মগপাড়া গ্রামের ৮জন, চড়িয়াশিকা দক্ষিণপাড়া গ্রামের ১০জন গোপকপুর গ্রামের ৫জন, কাচিয়ার গ্রামের ১ জনসহ নাম জানা অনেককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

পুরাতন জেলখানা ঘাট বধ্যভূমি:
যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্টে পুরাতন কারাগার ঘাট (জেলখানা ঘাট) এলাকায় পাকসেনারা কয়েকটি ক্যাম্প স্থাপন করে। বিভিন্নস্থান থেকে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে এখানে ধরে এনে গুলি ও জবাই করে হত্যা করে লাশগুলো মাটিতে পুঁতে রাখে। এছাড়াও বিভিন্নস্থানে হত্যা করার পর পুরাতন জেলখানার ঘাট, মতি সাহেবের লঞ্চ ঘাট ও রানীগ্রাম রেলওয়ে ঘাটে ট্রেনের বগি বোঝাই করে এনে লাশ ফেলে দেয় পাকসেনারা। শুধু তাই নয় অসংখ্য মানুষকে পাকসেনারা গুলি করে নৌকাসহ নদীতে ডুবিয়ে দেয়। তবে যমুনা নদীর ভাঙ্গনের কারণে এসব জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গাজী সোহরাব আলী সরকার (সিএনসি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উল্লাপাড়া সিংহগাতি গণকবর:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া পৌর এলাকার সিংহগাতি গ্রামের কবরস্থানে একটি স্থানে গর্ত করে ২৪জনকে হত্যা করে এক সঙ্গে পুঁতে রাখে পাকসেনারা।

সিংহগাতি ৮নং ওয়ার্ডের হাজী আব্দুস সামাদ মণ্ডল বলেন, ‘সিংহপাতি গ্রামের পাশে সিএনবি ও এলজিইডির ভিতরে পাকসেনারা ক্যাম্প করেছিল। ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর দুপুরে বড় ভাই মোকছেদ মণ্ডল ও আমাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় পাকসেনারা। তাদের হুকুমে সিংহগাতি গ্রামের কবরস্থানের দক্ষিণ অংশে এক মানুষ পরিমান গভীর গর্ত করি। পাকসেনারা ট্রাক ভর্তি করে ২৪টি লাশ এনে সেখানে গণকবর দেয়। এ সময় পাকসেনারা বলাবলি করছিল লাশগুলো তারা নওগাঁ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে এনেছে।’

বাঘাবাড়ি বধ্যভূমি:
সিংহগাতির ৮নং ওয়ার্ডের গাজী মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘যুদ্ধকালীন স্থানীয় রাজাকার আমির হোসেনের সহায়তায় পাকসেনারা গ্রামে ঢুকে মেয়েদের ধর্ষণ করায় গ্রামবাসী পিটিয়ে ২ পাকসেনাকে হত্যা করে। এরপর পাকসেনারা সংঘবদ্ধভাবে গ্রামে ঢুকে বেশকিছু ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় গ্রামের কোরবান সরকার, জয়নাল মণ্ডল, জেলহক, সাহেব আলী, মোক্তার হোসেন ও আবুল কাশেমসহ ৭/৮জনকে পাকসেনারা ধরে নিয়ে যায়। শুনেছি তাদের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি ঘাটে নিয়ে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়।’

লঞ্চঘাট বধ্যভূমি:
সিরাজগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট ছিল পাকসেনাদের কসাইখানা। এই লঞ্চঘাটে বাঙালিদের ধরে এনে জবাই করে নদীতে ফেলে দেওয়া হতো।

সাবজেল বধ্যভূমি:
সিরাজগঞ্জ মহকুমা সাব জেলও ছিল পাকসেনাদের আরেক কসাইখানা। জেলার বিভিন্নস্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে সাব জেলখানায় তাদের হত্যা করা হতো।

বাবতী বধ্যভূমি:
পাকসেনারা মে মাসে সিরাজগঞ্জ থানার বাবতী গ্রামে হামলা চালিয়ে ১৭০জনকে হত্যা করে। সেখানে আজ পর্যন্ত কোন স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণতো দূরের কথা স্থানীয় এলাকাবাসী জানেন না মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এখানে কোন ঘটনা ঘটেছিল কিনা।

শাহজাদপুর গণকবর:
শাহজাদপুর থানার গাড়াদহ ইউনিয়নের গাড়াদহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পশ্চিমপাশে একটি গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। শাহজাদপুর থেকে ৮কিলোমিটার দূরে গাড়াদহ গ্রামের ওই জায়গাটির মালিক আজিম প্রামানিকের পরিত্যাক্ত বাড়ির মাটি কাটার সময় এক ফুট নিচ থেকে বেরিয়ে আসে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের হাড় ও মাথার খুলি।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সিরাজগঞ্জ ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার গাজী আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী জগলু জানান, বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে কোন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে বধ্যভূমিগুলো ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নিতান্তই অযত্নে ও অসম্মানে পড়ে রয়েছে।

সিরাজগঞ্জের বধ্যভূমিগুলো সংরক্ষণের দাবি সিরাজগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধাদের।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
এই বিভাগের আরো খবর