• রোববার   ০৫ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২১ ১৪২৭

  • || ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪১

৯২৮

ফের যেভাবে শেখ হাসিনার কাছে পরাস্ত হলো তারেক!

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৫ ডিসেম্বর ২০১৮  

নির্বাচন বিষয়ে সব কিছুই পরিকল্পনা মাফিক এগুচ্ছিল। তারেক জিয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ দল রেখেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করতে পেরেছিল বিএনপি। তারেকের পরিকল্পনা অনুযায়ীই ঐক্যফ্রন্ট থেকে অধ্যাপক বি চৌধুরীকে বাদ দেওয়া হয়। তারেকের পরিকল্পনা ছিল যে, জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন বন্টনের সময় একটা জট তৈরি হবে এবং সেই জটের কারণে জাতীয় পার্টির আওয়ামী লীগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের মতোই একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিলেন যে আবারও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মত একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তারেক জিয়া জানতেন যে এবার এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি হলে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না। তারেকের এমন পরকল্পনামাফিক সবকিছুই চলছিল। সেই কারণেই বিএনপি কোনো দাবি দাওয়া অর্জন না হওয়া সত্ত্বেও, নির্বাচনের কোনো রকম প্রস্তুতি ছাড়াই আচমকা নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে বিএনপি ৬৯৬ প্রার্থী দিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন।

৩০০ আসনের বিপরীতে ৬৯৬ জন প্রার্থী দিয়ে বিএনপি বুঝিয়ে দিয়েছিল যে, নির্বাচন করা তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। বরং অন্য একটা পরিবেশ তৈরি করে নির্বাচন বন্ধের পরিবেশ সৃষ্টি করা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তারেক রহমান অঢেল টাকাও ঢেলেছিলেন এমন খবরও পাওয়া যায়। ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, তিনি জামাতের সঙ্গে কোনো ঐক্য করবেন না। সেই জামাতকে বিএনপি যখন ২৫ টি আসন বরাদ্দ করেন তখনো মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন ড. কামাল হোসেন।

এইসব কিছুই হয়েছে আর্থিক লেনদেনের কারণে। কিন্তু তারেক জিয়া একজনকেই ম্যানেজ করতে পারেন নাই, আর তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কাছে তারেক রহমান আরেকবার পরাস্ত হলেন। তারেক রহমানের পরিকল্পনা জানতো বলেই আওয়ামী লীগ মহাজোটের আসন বণ্টন চূড়ান্ত করেনি। এই কারণেই আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে আলাদাভাবে মনোনয়ন জমা দিতে বলেছে, যুক্তফ্রন্ট ও ইসলামী আন্দোলনকে আলাদাভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বলেছে।

যার ফলে এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, বিএনপি, ২০ দল এবং ঐক্যফ্রন্ট যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ নাও করেন, তারপরেও প্রতিটি আসনে গড়ে চারজন করে প্রার্থী থাকবে। সুতরাং একতরফা নির্বাচনের আর কোনো সম্ভাবনা নাই। আন্তর্জাতিক মহলও এটাই বলেছে যে, কারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে, কারা অংশগ্রহণ করছে না, সেটা মুখ্য বিষয় নয়। বরং তারা একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। যে নির্বাচনে সবাই স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। যার ফলে বিএনপির পরিকল্পনা এখন হোঁচট খেয়েছে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
রাজনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর