• মঙ্গলবার   ০৯ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ২৪ ১৪২৭

  • || ২৫ রজব ১৪৪২

নোয়াখালীর দৃশ্যপট পাল্টে যাবে ২০২৩ সালের মধ্যে

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২১  

উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। সে লক্ষে কুমিল্লা-বেগমগঞ্জ ফোরলেন সড়কসহ বিভিন্ন বিভাগের উদ্যোগে নোয়াখালীতে চলছে ব্যাপক কর্মকান্ড। এসব প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে আগামী ২০২৩ সালে নোয়াখালীর দৃশ্যপট পাল্টে যাবে।

এরমধ্যে ২১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৯ কিলোমিটার কুমিল্লা-বেগমগঞ্জ ফোরলেন সড়ক এবং ৯৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে বেগমগঞ্জ-সোনাপুর ১৩ কিলোমিটার ফোরলেন সড়কের কাজ চলছে সমান গতিতে। অপরদিকে ২০ জেলার ৪ কোটি অধিবাসী স্বল্পসময়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সঙ্গে দ্রুত যাতায়াতের সুবিধার্থে সোনাপুর-সোনাগাজি- জোরালগঞ্জ সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সোনাপুর-মান্নান নগর-আটকপালিয়া সড়ক সংস্কারের কাজও শেষ পর্যায়ে। এছাড়া সোনাপুর-চরজব্বর-চেয়ারম্যান ঘাট সড়কের বিভিন্ন অংশে উন্নয়ন ও সংস্কার অব্যাহত রয়েছে। এ কাজগুলো সম্পন্ন হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নোয়াখালী নবযুগে প্রবেশ করবে।

নোয়াখালীতে রয়েছে বিপুল সম্ভাবনাময় খাত। বিশেষ করে স্বর্ণদ্বীপ, নিঝুমদ্বীপ ও ভাসানচর নোয়াখালী জেলায় অবস্থিত। সে সুবাদে এ জেলা ক্রমান্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠছে। স্বর্ণদ্বীপ, নিঝুমদ্বীপ ও ভাসানচরকে কেন্দ্র করে জেলা সদরের দক্ষিণাঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি সাধিত হবে। এছাড়া নোয়াখালীর দক্ষিণাঞ্চলীয় উপক‚লীয় অঞ্চলটি অর্থনৈতিক বিকাশের হাতছানি দিচ্ছে। এখানে রয়েছে সরকারের হাজার হাজার একর খাস ভ‚মি। দক্ষিণাঞ্চল ধান, রবিশস্য ও তরিতরকারীর জন্য বিখ্যাত। সূবর্ণচরে রয়েছে ছোটবড় শতাধিক মৎস্য খামার। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিপূল মৎস্য দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। এছাড়া মেঘনার সু-স্বাদু ইলিশ ছাড়াও প্রতি বছর কয়েক হাজার মেট্রিক টন সামুদ্রিক মৎস্য আহরিত হয় মেঘনা ও দক্ষিণের সমুদ্র থেকে।

জেলা সদরের দক্ষিণে অপার সম্ভাবনাময় সূবর্ণচরে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কার্যালয় স্থাপিত হচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্র, কৃষি কেন্দ্রসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। সূবর্ণচরে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠছে। মেঘনা বেষ্টিত হাতিয়া উপজেলার চর্তুদিকে অর্ধ শতাধিক চর জেগে ওঠেছে। হাতিয়া নদী ভাঙনরোধ ও নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষে চলতি বছর কাজ শুরু হবে। নোয়াখালীর দুঃখ নোয়াখালী খাল। বর্ষা মৌসুমে পানিবদ্ধতায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়া ছাড়াও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ সমস্যা সমাধানে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগের উদ্যেগে সুবর্ণচরের চরমজিদ থেকে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী খাল পর্য্যন্ত সংস্কারের কাজ চলছে। উক্ত প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে পানিবদ্ধতার স্থায়ী অবসানের পাশাপাশি অধিক ফসল উৎপাদন, মৎস্য ও হাঁস পালনে সহায়ক হবে।

শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদফতর নোয়াখালীর উদ্যোগে স্কুল, কলেজ ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে বহুতল ভবনে উন্নীত করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় বহুতল বিশিষ্ট কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের কাজ চলছে। এরমধ্যে সোনাইমুড়ী উপজেলা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ কম্পাউন্ডে ৩৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫শ’ শয্যা বিশিষ্ট জননেতা নুরুল হক হাসপাতাল নির্মাণ কাজ অচিরেই শুরু হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক সমস্যা লাঘবে ১৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০তলা বিশিষ্ট ৯টি বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ চলছে।

নোয়াখালীতে চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী ইনকিলাবকে জানান, নোয়াখালীর সার্বিক উন্নয়ন সাধনে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নোয়াখালীতে উন্নয়নের কর্মকান্ড চলছে। আমি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। আশা করি চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের কাজ সম্পন্ন হলে নোয়াখালীর দৃশ্যপট পাল্টে যাবে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ