• শুক্রবার   ২৩ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ৯ ১৪২৮

  • || ১১ রমজান ১৪৪২

নিবন্ধন নিতে হবে অপারেটরদের, বিদেশ ট্যুরে লাগবে অনুমোদন

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৩ এপ্রিল ২০২১  

জাতীয় সংসদে ‘ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) আইন ২০২১’ উত্থাপন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। দেশে ও বিদেশ ট্যুর পরিচালনাকারী ট্যুর অপারেটরদের কার্যক্রম চালাতে হলে নি সরকারের অনুমোদন নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে এই বিলে।

শনিবার (৩ এপ্রিল) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে একাদশ সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনে এই বিলটি সংসদে আনেন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।

পর্যটন খাতকে দেশের সম্ভাবনাময় শিল্প উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ট্যুর অপারেটররা অভ্যন্তরীণ ও বিদেশে ট্যুর পরিচালনা করে থাকেন। দেশের পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে সুপরিকল্পিত ট্যুর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডের কার্যক্রম আইনের আওতায় পরিচালনা এবং পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে এই বিলটি আনা হয়েছে।

তবে এই বিলের বিরোধিতা করে সংসদে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম। তিনি বলেন, এতে টোয়াবের (ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।

ফখরুল ইমামের বক্তব্যের পক্ষে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে দিলে তা নাকচ হয়ে যায়। এরপর স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বিলটি উত্থাপন করেন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।

পরে বিলটি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। সংসদীয় কমিটিতে যাচাই-বাছাই করে আগামী একমাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে সময় দেওয়া হয়েছে।

‘বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) বিল-২০২১’-এ বলা হয়েছে, নিবন্ধন সনদ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পর্যটকদের জন্য ভ্রমণসেবা সংশ্লিষ্ট আবাসন, আহার বা আপ্যায়ন, পরিবহন, পর্যটন আকর্ষণ সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন, পরিভ্রমণ ও অনুরূপ অন্যান্য পর্যটন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করে দলভিত্তিক বা একক ট্যুর আয়োজন ও পরিচালনা বা ট্যুর গাইড হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। এছাড়া বিদেশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে আগে থেকে সরকারের অনুমতি নিতে হবে।

বর্তমানে যেসব ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তাদের বিষয়ে বিলে বলা হয়েছে— অনিবন্ধিত ট্যুর অপারেটরদের এই আইন কার্যকর হওয়ার তিন মাসের মধ্যে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করতে হবে।

বিলের ধারা ৮-এ নিবন্ধন সনদের মেয়াদ ও নবায়ন সংক্রান্ত বিধিতে বলা হয়েছে— নবায়নযোগ্য নিবন্ধন সনদের মেয়াদ হবে তিন বছর। নিবন্ধন সনদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে তিন মাস আগে নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফি দিয়ে নিবন্ধন নবায়নের আবেদন করতে হবে।

ধারা ১২-তে অপরাধ ও দণ্ড সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি এই আইনের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তা অপরাধ হবে এবং এর জন্য তাকে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ দুই রাখ টাকা অর্থদণ্ড করা যাবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ট্যুর অপরাটেরদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দেশে প্রচলিত কোনো আইন না থাকায় অনেক সময় পর্যটকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন। দেশের পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে সুপরিকল্পিত ট্যুর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডের কার্যক্রম আইনের আওতায় পরিচালনা ও পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) আইন ২০২১ প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইনটি অনুমোদিত হলে পর্যটকদের জন্য কাঙ্ক্ষিত সেবাপ্রাপ্তি আরও সহজ হবে। পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণসহ পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে আইনের আওতায় পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বাড়বে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ