• সোমবার   ১৩ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২৯ ১৪২৭

  • || ২২ জ্বিলকদ ১৪৪১

১০

নবী ও বুজুর্গদের ব্যবহার সামগ্রী এবং স্মৃতিচি‎হ্ন কি বরকতময়?

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২০  

এ পৃথিবীতে অনেক নবী বুজুর্গ আল্লাহওয়ালা আগমন করেছেন। তারা আজ আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। কিন্তু রয়েছে গেছে তাদের অনেকের স্মৃতি ও ব্যবহৃত সামগ্রী। অনেক সময় আমরা এগুলো বরকতময় মনে করে থাকি। আসলে বাস্তবতা কী? ইসলামের আলোকে এর কী কোনো বাস্তবতা রয়েছে? এ লেখায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

ইমাব বুখারি রহ. উল্লেখ করেন, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদি. যখন মদিনা থেকে মক্কা শরিফের উদ্দেশে সফর করতেন, তিনি খুঁজে খুঁজে সেসব স্থানে নামাজ পড়তেন, যেখানে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সফরে নামাজ আদায় করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদি. জায়গাগুলো তালাশ করে করে শুধু নিজেই নামাজ পড়তেন না বরং লোকজনকেও দেখিয়ে দিতেন, এখানে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ আদায় করেছেন। রেওয়ায়েতে আছে, সফরের পথে একটি স্থান দেখিয়ে তিনি তার ছাত্রকে বলেছেন, এ স্থানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেশাব করেছিলেন। 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামাজের স্থানগুলোর যে বর্ণনা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদি. দিয়েছেন সে অনুযায়ী স্থানগুলোকে আজ খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। কারণ তিনি তার যুগের অবস্থা ও পরিবেশ হিসেবে স্থানগুলোকে চিহ্নিত করেছেন। ছাত্রদেরকে বলেছেন, দেখ, এই জায়গায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ পড়েছেন। জায়গাটি চিনে রাখ। এর ডানে এই যে বৃক্ষ। বামে ওই যে টিলা। কিংবা এখান থেকে এত কদম দূরে অমুক পাহাড়। কিন্তু কালের আবর্তনে তার বর্ণিত চি‎হ্নগুলো হারিয়ে গেছে। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ. অষ্টম শতাব্দীতে বলেছিলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদি. যেসব স্থানের বর্ণনা দিয়েছেন, তন্মধ্যে দুটি স্থান এখনো চিহ্নিত করা যায়। একটি রাওহা। অন্যটি জুল-হুলায়ফায় অবস্থিত। অবশিষ্ট স্থানগুলোকে এখন চিহ্নিত করা যায় না। যদিও বেশির ভাগ স্থানের নাম ঠিকই আছে। কিন্তু স্থানগুলোর চিহ্ন মিটে গেছে। শুধু রাওহা এমন একটি এলাকা যেখানে সৌদি সরকারের হাত এখনো পড়েনি। সেখানে এখনো কোনো ভবন নির্মিত হয়নি। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদি. বর্ণিত কূপটি এখনো সেখানে আছে। কূপের পাশে যেস্থানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ পড়েছেন বলে রেওয়ায়েতে আছে, সেই স্থানটিও সংরক্ষিত আছে। এ ছাড়া অন্যসব স্থানে, এমনকি জুল-হুলায়ফায়ও, যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ পড়েছেন, সেখানে বহু বড় ও আলিশান মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামাজের স্থান আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। তা মসজিদের সীমানার ভেতরে চলে এসেছে।

এসব স্থানকে সংরক্ষিত করা হয়নি। কারণ বর্তমান সৌদি ওলামাদের বক্তব্য হলো, এ ধরনের স্থানকে বিশেষভাবে সংরক্ষণ করা নাজায়েজ। এক ধরনের শিরক। তাই তারা মদিনা শরিফেও এমন কোনো স্মৃতিচি‎হ্ন অবশিষ্ট রাখেনি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় হলো মদিনা শরিফে কা’ব ইবনে আশরাফের কেল্লাটা এখনো আগের মতো আছে। এবং তার ওপর বোর্ড ঝুলানো আছে যে, এটি প্রাচীন স্মৃতিচি‎হ্ন। সাবধান! কেউ এর ক্ষতি করবেন না। দেখুন, কা’ব ইবনে আশরাফের কেল্লাটি আগের মতোই দাঁড়িয়ে আছে। অথচ মদিনা শরিফে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যত স্মৃতিচি‎হ্ন ছিল, সেগুলো সব বেছে বেছে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ একটি স্মৃতিচি‎হ্ন অবশিষ্ট ছিল। মসজিদে কোবার সামনে হজরত আসআদ ইবনে জুরারা রাদি. এর ঘরটি ছিল। হিজরতের পর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোবায় অবস্থান করেন, তখন এই ঘরে তিনি চৌদ্দদিন ছিলেন। তাকেও মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। এর কারণ সম্পর্কে তারা বলে স্মৃতিচি‎হ্নকে অবশিষ্ট রাখা এবং নবী ও ওলিদের স্মৃতিচি‎হ্নকে বরকতময় মনে করা এক প্রকার শিরক। তাই তা ধ্বংস করা জরুরি।

এর পক্ষে তাদের দলিল হলো, সুনানে সায়িদ ইবনে মনসুরে বর্ণিত হজরত ওমর রাদি. এর যুগের একটি ঘটনা। হজরত ওমর রাদি. হজের জন্য গেলেন। তিনি দেখলেন, হজের পর লোকজন একটি গাছের কাছে ভিড় করছে। একে অন্যকে পেছনে ফেলে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। হজরত ওমর রাদি. জিজ্ঞাসা করলেন, এখানে কি? লোকজন বলল, এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ পড়েছেন। তাই লোকেরা সেখানে নামাজ পড়তে চায়। হজরত ওমর রাদি. তখন বলেন, তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতরা এই জন্য ধ্বংস হয়েছে যে, তারা তাদের নবীদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো মসজিদ বানিয়ে নিয়েছিল। তারা তাতে নামাজ পড়ত। আর একে তারা সাওয়াবের কাজ মনে করত। এরপর হজরত ওমর রাদি. বলেন,

من عرض له صلاة فليصل ومن لا فليمض

যার নামাজের সময় হয়েছে, সে নামাজ পড়ে নাও। নচেৎ সবাই এখান থেকে চলে যাও। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, উমদাতুল কারি, ৩/৫৫৯; ফাতহুল বারি, ১/৫৬৯)।

নবীদের ব্যবহৃত জিনিস ও স্মৃতিচিহ্ন কি বরকতময়:

সৌদি ওলামারা হজরত ওমর রাদি. এর আলোচ্য হাদিসের ওপর ভিত্তি করে বলেন, হজরত ওমর রাদি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব স্থানে নামাজ পড়েছেন, সেখানে লোকদেরকে নামাজ পড়তে নিষেধ করেছেন। এ থেকে বুঝা যায়, আমবিয়ায়ে কেরামের স্মৃতিচি‎হ্ন ও স্মৃতিবিজড়িত স্থানকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা শরীয়তসম্মত না। অথচ হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদি. এর বর্ণিত উপরিউক্ত হাদিসের আলোকে অধিকাংশ আলেমের মত হলো, আমবিয়ায়ে কেরামের স্মৃতিচি‎হ্ন ও স্মৃতিবিজড়িত স্থানকে বরকতময় মনে কর জায়েজ। ফাতহুল বারিতে হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানিও এ কথা লিখেছেন। তবে ফাতহুল বারির যেসব সংস্করণ বর্তমানে সৌদি ওলামাদের টিকা সংযোজিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে ইবনে হাজার আসকালানি রহ. এর বক্তব্যের ওপর একটি টিকা সংযুক্ত করা হয়েছে যে, هذا خطاء وفيه نظر এটি ভুল। এ বিষয়ে আপত্তি রয়েছে।

ইবনে হাজার আসকালানি রহ. এর বক্তব্য সম্পর্কে সৌদি ওলামাদের পক্ষ থেকে এটিও বলা হয়ে থাকে যে,
وهو اعلم بهذا الشان من ابنه رضي الله عنهما

ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদি. এর বর্ণিত হাদিস অপেক্ষা পিতা ওমর রাদি. এর বক্তব্যের ওপর আমল করা অধিক সংগত।

দেখুন, কোনো বিষয়ে যদি দু’টি হাদিস থাকে একটি সহিহ বুখারিতে। অন্যটি আছে সুনানে সায়িদ ইবনে মানসুরে। সেক্ষেত্রে বলা হয়ে থাকে, সহিহ বুখারির হাদিসের সঙ্গে সুনানে সায়িদ ইবনে মানসুরের হাদিসের কি তুলনা চলে? কোথায় ইমাম বুখারি রহ. এর বর্ণিত হাদিস আর কোথায় সায়িদ ইবনে মানসুরের রেওয়ায়েত। অথচ আলোচ্যবিষয় সম্পর্কিত বুখারি শরিফের হাদিসকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। সায়িদ ইবনে মানসুরের রেওয়ায়েতের ওপর ভিত্তি করে আমবিয়ায়ে কেরামের স্মৃতিচি‎হ্ন ও স্মৃতিবিজড়িত স্থানকে বরকতময় মনে করাকে শিরক বলা হচ্ছে।

নবীদের স্মৃতিচিহ্ন বরকতময় মনে না করা বাড়াবাড়ি:

প্রকৃতপক্ষে এটি বাড়াবাড়ি। এসব বক্তব্য শরীয়তের দলিল-প্রমাণ সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচায়ক। হাদিসের মাঝে আমবিয়ায়ে কেরামের স্মৃতিচি‎হ্ন ও স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহকে বরকতময় মনে করা এবং তা থেকে বরকত হাসিল করার এতসব দলিল-প্রমাণ ও ঘটনাবলী আছে যে, একে অস্বীকার করা বাড়াবাড়ি ছাড়া আর কিছু নয়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদি. এর হাদিসটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিনি প্রতিটি স্থানকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছেন এবং ছাত্রদেরকে সেখানে নামাজ পড়ার আদেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া আপনারা জানেন যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখ থেকে থুতু নিক্ষিপ্ত হলে সাহাবায়ে কেরাম তা মাটিতে পড়তে দিতেন না। নিজেদের শরীরে মেখে নিতেন। বলুন এটাও কি শিরক?

বরকতময় মনে করা বৈধ, এর প্রমাণ:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্পর্শ করা জিনিসকে কিংবা তার দেহ থেকে নির্গত জিনিসকে সাহাবায়ে কেরাম নিজেদের দেহে মেখে নিতেন। এটা বরকতময় মনে করা ছাড়া আর কী বলব বলুন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মোবারক চুল সাহাবায়ে কেরামের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছেন। এ বণ্টনের উদ্দেশ্য কি ছিল? যদি আমবিয়ায়ে কেরামের স্মৃতিচি‎হ্নকে বরকতময় মনে করা বৈধ না হত তাহলে খোদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন তার চুল বণ্টন করলেন? সাহাবায়ে কেরাম রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কুলি করা পানি নিজেদের মাঝে বণ্টন করে নিয়েছেন। এটা কেন করেছেন?

বুখারি শরিফের কিতাবুল লিবাসে আছে, হজরত উম্মে সালামা রাদি. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি চুল শিশিতে ভরে তাতে পানি ঢেলে রেখে ছিলেন। মদিনায় কেউ অসুস্থ হলে তারা পেয়ালায় পানি নিয়ে হজরত উম্মে সালামা রাদি. এর গৃহে আসতেন। তার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল ভেজানো পানি থেকে কিছু পানি পেয়ালায় ঢেলে দিতে অনুরোধ জানাতেন। সেই পানি রোগীকে খাওয়াতেন। সাহাবায়ে কেরাম এটি কেন করতেন? (সহিহ বুখারি)।

হজরত উম্মে সুলাইম রাদি. ছিলেন হজরত আনাস রাদি. এর মা। তার বর্ণিত হাদিস বুখারি শরিফের কিতাবুল ইসতিযানে আছে, তিনি বলেন, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুয়ে ছিলেন। গরমের মৌসুম ছিল। প্রচণ্ড গরমে তার শরীর থেকে ঘাম বেয়ে পড়ছিল। আমি জলদি করে একটি শিশি নিয়ে আসি। যে ঘাম দেহ থেকে বেয়ে পড়ছিল, আমি সেগুলোকে শিশিতে ভরে রাখি। সেই ঘাম থেকে যে সুগন্ধি ছড়াচ্ছিল, আমি এর চেয়ে সুগন্ধিময় কোনো খোশবু এর পূর্বে দেখেনি। লোকেরা আমার কাছে বিভিন্ন রকম খোশবু নিয়ে আসত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘাম ভর্তি শিশির সঙ্গে সেগুলোকে ছুইয়ে নিত। (সহিহ বুখারি, ৬৩৮১)।

মুসলিম শরিফের রেওয়ায়েতে অতিরিক্ত এই কথা আছে যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বললেন, এ কি করছ? হজরত উম্মে সুলাইম রাদি. বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! اتبرك بها আমি আমার সন্তানদের জন্য বরকত জমা করে রাখছি। فقال رسول الله صلي الله عليه وسلم اصبت তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি ঠিক করেছ। (সহিহ মুসলিম)।

এ রেওয়ায়েতে দেখা যায়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজরত উম্মে সুলাইম রাদি. এর কাজটি সঠিক বলেছেন।

হজরত খালেদ ইবনে ওয়ালিদ রাদি. সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, যখন হজরত আবু তালহা রাদি. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুল মোবারক বণ্টন করছিলেন, তিনি তাঁর থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কপালের চুল নিলেন। তারপর সেগুলো তার টুপির সঙ্গে সেলাই করে নিলেন। তিনি সেই টুপি পরিধান করে লড়াইয়ের ময়দানে অবতীর্ণ হতেন এবং যুদ্ধে বিজয় লাভ করতেন। ইয়ামামার যুদ্ধে একবার সেই টুপি মাথা থেকে পড়ে যায়। হজরত খালেদ রাদি. তা তুলে নিতে প্রাণের মায়া ত্যাগ করে শত্রু সৈন্যদের ওপর প্রচণ্ড আক্রমণ করেন। (মুসতাদরাকে হাকিম, আল মুজামুল কাবির)।

সহিহ বুখারির কিতাবুল আশরিবায় আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাকিফায়ে বনি সায়েদায় গমন করেন, তিনি হজরত সাহল ইবনে সাদ রাদি.-কে বলেন, ভাই, পানি পান করাও। তিনি একটি পেয়ালায় পানি এনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পানি পান করালেন। এরপর তিনি পেয়ালাটি সংরক্ষণ করে রাখলেন। হজরত সাহল ইবনে সাদ রাদি. পরবর্তীসময়ে যখন হাদিস শোনাতেন, তিনি পেয়ালাটি বের করে ছাত্রদের দেখাতেন আর বলতেন, এই পেয়ালায় করে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পানি পান করিয়েছি। ছাত্ররা তখন অনুরোধ জানাত, এই পেয়ালায় করে আমাদেরকেও পানি পান করার সুযোগ দিন। এরপর তারা উক্ত পেয়ালায় করে পানি পান করত। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িরা এ পেয়ালাটি দীর্ঘদিন যাবত সংরক্ষণ করে রেখেছেন। (সহিহ বুখারি)।

হজরত আনাস রাদি. বলেন, তার কাছে একটি পেয়ালা ছিল, যাতে করে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি পান করেছিলেন। সেটি ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হলে তিনি তার দিয়ে তা বেঁধে রাখেন। (সহিহ বুখারি)।

এ ধরনের ঘটনা একটি-দুটি না, বহু। হজরত আবু মাহজুরা রাদি.-কে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজান শিখিয়েছেন। তিনি সারাজীবন তার মাথা মুণ্ডন করেননি। কারণ তার মাথায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত রেখেছিলেন। (আলমুসতাদরাক)।

হজরত ওমর ইবনে আবদুল আযিয রহ. এর ঘটনা বর্ণিত আছে। তিনি মদিনা শরিফ ও আশপাশের এলাকায় যত মসজিদ ছিল, যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ পড়েছেন, তিনি লোক পাঠিয়ে প্রবীণ লোকদেরকে জিজ্ঞাসা করে জেনেছেন, ঠিক কোথায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ পড়েছেন। সেই স্থানগুলো পাথর লাগিয়ে চিহ্নিত করে রেখেছেন, এখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ পড়েছেন। এসব কাজ কি অর্থহীন? এগুলো কি শিরকি কাজ ছিল? উপরিউক্ত সাহাবা ও তাবেয়িরা কি শিরক করেছিলেন?

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর