• মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭

  • || ১০ শাওয়াল ১৪৪১

৪৮

দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করছে ব্রয়লার মুরগি!

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৩ মার্চ ২০২০  

অথিতি আপ্যায়নে মুরগির আধিপত্য আদিকাল থেকেই। আজকাল দেখা যায় খাবারে ব্রয়লার মুরগির ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এর মাংস ও হাড় সহজেই সিদ্ধ হয় বলে দিন দিন এর চাহিদাও বাড়ছে। তাছাড়া স্বল্প ব্যয় ও সময়ে রান্না করা যায় এই মুরগি।

অনেকেই ব্রয়লার মুরগি খেতে পছন্দ করেন। আবার সপ্তাহে দুই-তিন দিন খাবারের তালিকায়ও রাখেন। তাছাড়া ফাস্ট ফুড গুলোতেও ব্রয়লার মুরগি দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু খাবার। যা সাধারণ মানুষ খুব স্বাচ্ছন্দ্যে উপভোগ করে থাকেন। কিন্তু মুরগির স্বাদ পেতে যেয়ে জীবন যদি ঝুঁকির মুখে পড়ে, তখন ব্যাপারটি অবশ্যই ভেবে দেখা জরুরি। অনেকেই জানেন না, এই ‘ব্রয়লার প্রীতি’ মানবদেহের মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছে।

ব্রয়লার মুরগি নিয়মিত খেলে অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। শুধু তাই নয়, আমাদের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও নষ্ট হয়ে যেতে পারে ধীরে ধীরে। দীর্ঘদিনের গবেষণায় এমনটাই দাবি করেন ভারতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস।

অরিন্দম বিশ্বাস জানান- আসলে ইদানীং আমরা যত মুরগি খাই তার প্রায় সবই আসে কোনো না কোনো পোল্ট্রি খামার থেকে। আর প্রায় সব পোল্ট্রি খামারেই মুরগির স্বাস্থ্য দ্রুত বাড়াতে এবং বেশি মাংস পেতে মুরগির খাবারের সঙ্গে এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ দেয়া হয়। এই অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাবে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের কার্যক্ষমতা দিনে দিনে হ্রাস পেতে থাকে। এই ভাবে চলতে থাকলে একটা সময় হয়তো অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধই শরীরে কোনো রকম ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে তা ঠেকাতে ব্যর্থ হবে।

সম্প্রতি লন্ডনের ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজিম-এর চালানো একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই সমীক্ষার রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশসহ ভারত, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়ার মতো একাধিক দেশে পোল্ট্রি খামারে মুরগির খাবারের সঙ্গে উচ্চ মাত্রায় কোলিস্টিন নামের একটি অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।

ওই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, বাজারে উপলব্ধ প্রায় সব প্রক্রিয়াজাত মুরগির মাংসেই উচ্চ মাত্রায় কোলিস্টিনের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন’-এর (ডব্লিউএইচও) যে বিধি-নিষেধ রয়েছে, তা যে কোনো ভাবেই মানা হচ্ছে না তারই প্রমাণ মিলেছে এই সমীক্ষায়।

কীভাবে বিপদ এড়িয়ে চলা যাবে এ বিষয়ে চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস জানান, পোল্ট্রি বা ব্রয়লারের মুরগি যতটা সম্ভব কম খান। আর যদি খেতেই হয় ভালো করে ফুটিয়ে, সেদ্ধ করে খাওয়াই ভালো।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর