• সোমবার   ০৬ জুলাই ২০২০ ||

  • আষাঢ় ২২ ১৪২৭

  • || ১৫ জ্বিলকদ ১৪৪১

১৬

‘ডাকযোগে’ আম লিচু পৌঁছে যাবে বিভিন্ন বাজারে

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৯ মে ২০২০  

বোরো ধান কাটায় শ্রমিক সংকটে হারভেস্ট মেশিন এবং সরকারি বেসরকারি সংস্থার জনবল নিয়ে সরকার কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এবার মৌসুমী ফল বাজারজাতকরণেও চাষীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে সরকার। মুধুমাসের ফল আম এবং লিচু এবার চাষীদের কাছ থেকে ‘ডাকযোগে’ বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হবে। ‘ডাকযোগে’ বলতে ডাক বিভাগের গাড়িতে করে আম এবং লিচু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কৃষিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গত ২২ মে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চাষীদের আম ও লিচু পরিবহনের জন্য রেলের বিশেষ বগির ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়াও সকল প্রকার ট্রাক, কভারব্যান এসবও আম লিচু পরিবহনের জন্য উন্মোক্ত থাকবে।
কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আম এবং লিচু বাজারজাতকরণে ডাক বিভাগের গাড়ি ব্যবহারের করা হবে। পরিবহণ সংকটে যাতে চাষীরা তাদের উৎপাদিত ফল বাজারজাতকরণে সমস্যায় না পড়েন এজন্য এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ডাক বিভাগের এখন তেমন কাজ নেই। তাদের গাড়িগুলো অলস পড়ে থাকে। এখন করোনার সঙ্কটকালে এই গাড়িগুলো ব্যবহার করে চাষীদের পণ্য যথাস্থানে পৌছে দেওয়া হবে।
কৃষিমন্ত্রী চাষিদের আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের খাদ্যশস্য ও কৃষিপণ্যের সঠিক বিপণন, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, চাহিদা মোতাবেক সহজলভ্যতা তৈরি এবং জরুরি অবস্থায় ফুড সাপ্লাইচেইন অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশের প্রথম উন্মুক্ত কৃষি মার্কেট অনলাইন প্লাটফর্ম ‘ফুড ফর ন্যাশন’ উদ্বোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখতে পারলে আম ও লিচু চাষিদের আর চিন্তা করতে হবে না।
রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ অন্যান্য এলাকার আম পাড়া শুরু য়েছে। লিচুও বাজারে আসছে। নরসিংদী এলাকার লিচু বাজারে আসতে শুরু করেছে। সুপার সাইক্লোন আমফানে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে ২০ভাগের বেশি আম ঝরে পড়েছে। তবে সাতক্ষীরা অঞ্চলে আমের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ওই এলাকায় ৮০ভাগ আমই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েচে। সাতক্ষীরার গোবিন্দ ভোগ, গোপাল ভোগসহ অন্যান্য আম পাড়া শুরু হয়েছিল। এর মধ্যে আমপানে সব লন্ডভন্ড করে দিল। আগামীকাল থেকে হিমসাগর, ৭ জুনের পরে ল্যাংড়া এবং ১৪ জুনের পরে আমরুপালি আম পাড়া শুরু হবে। এছাড়া, জুনের শুরুতে রংপুরের হাড়িভাঙ্গা আম বাজারে আসবে।
রাজশাহী অঞ্চলে আম বাগান রয়েছে ষাট হাজার হেক্টরের বেশি। আম উৎপাদন হয় সাত আট লাখ মেট্রিক টন। প্রতি বছর দেশে বাণিজ্য হয় কয়েক হাজার কোটি টাকা। এবার হয়তো এ বাণিজ্যের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে অসবে বলে চাষীরা আশঙ্কা করছেন। আমের বাজারজাতকরণ নিয়ে আম চাষীদের মনে দুশ্চিন্তা ভর করেছে। করোনাভাইরাসের কারণে সারাদেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। বন্ধ রয়েছে পরিবহন। একারণে এখন পর্যন্ত আমের বা লিচুর পাইকারী ব্যবসায়ীরা আসেনি। অথচ অন্যসময় আমের বাগানের হাত বদল হয় দু’তিন দফা। মূলত ঢাকা চট্রগ্রাম হতে আসেন বড় বড় ব্যবসায়ীরা। এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে যায় আড়তগুলোর প্রস্তুতি। এবার তেমনটি দেখা যায়নি। চাপাইনবাবগঞ্জের কানসাট আম বাজার এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় আমের বাজার। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভীড় জমায়। লেনদেন প্রতিদিন চার/পাঁচ কোটি টাকার। সেখানেও এখন পর্যন্ত তেমন কোন ব্যাস্ততা চোখে পড়ছে না। তবে সরকার পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে চাষীদের দুশ্চিতা অনেকটাই কমে যাবে।
সাতক্ষীরা থেকে আমাদের সংবাদদাতা আক্তারুজ্জামান বাচ্চু জানান, জেলায় এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছিল। সাতক্ষীরায় ৪,১১০ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদনের লক্ষমাত্র ধরা হয়েছি ৪০ হাজার মেট্রিক টন। যা গত বছরের তুলনায় ৫ হাজার মেট্রিক টন বেশি। তবে, ঘূর্ণিঝড় আমফানে আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন গাছে যে আম আছে তা ১০ হাজার মেট্রিক টনও হবে না। এসব আমও বাজারজাত করা নিয়ে চষীরা চিন্তায় আছেন। এখানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন উদ্যোগ লক্ষ করা যাচ্ছে না।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর