• বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২০ ||

  • আশ্বিন ১৬ ১৪২৭

  • || ১৩ সফর ১৪৪২

২০

টেকনিকের রাজা বলেছিলেন, টেকনিকই সবকিছু নয়

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২০  

টেকনিকের দিক থেকে ক্রিকেট ইতিহাসেই আদর্শ ব্যাটসম্যান মনে করা হয় রাহুল দ্রাবিড়কে। সেই দ্রাবিড়ের কাছ থেকেই চেতেশ্বর পুজারা জেনেছিলেন, টেকনিকই সবকিছু নয়। ক্রিকেটে সফল হতে হলে প্রয়োজন আরও অনেক কিছু। এমনকি, ক্রিকেট থেকে দূরে থাকাও অনেক সময় জরুরি।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকে পুজারাকে মনে করা হতো দ্রাবিড়ের উত্তরসূরী। ব্যাটিংয়ের ধরন, ঘরানা, টেকনিক, টেম্পারামেন্ট, সব দিক থেকেই দুজনের মিল অনেক। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোকে পুজারা জানালেন, ছেলেবেলা থেকেই তিনি দ্রাবিড়ের ভক্ত।

“ রাহুল ভাইয়ের ব্যাটিং প্রথমবার দেখি সম্ভবত ৮ বছর বয়সে। এরপর ২০০২ সালের ইংল্যান্ড সফরের ব্যাটিং দেখেছি। পরের বছর অ্যাডিলেইডে সেই ডাবল সেঞ্চুরির ইনিংস দেখেছি, এখনও যেটি তার খেলা আমার প্রিয় ইনিংস।”

“ সম্ভবত ১৩ বছর বয়স থেকে আমি তার বড় ভক্ত হয়ে উঠি। আমার কাছে যেটি সবচেয়ে ভালো লাগত, নিজের উইকেটের মূল্য তার কাছে ছিল অনেক। তিনি ছিলেন লড়াকু। রাহুল ভাই যতক্ষণ উইকেটে থাকতেন, প্রতিপক্ষের জন্য উইকেট নেওয়া ছিল খুব কঠিন। দর্শক হিসেবেও স্বস্তি বোধ হতো যে ভারতের ব্যাটিংয়ে ধস নামার সুযোগ নেই।”

শুধু অনুরাগীই নন, দ্রাবিড়ের ব্যাটিংয়ের অনুসারীও ছিলেন পুজারা।

“ আমি তার টেকনিক ও টেম্পারামেন্ট খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। খেলাটা নিয়ে যেভাবে কথা বলতেন তিনি, বোঝা যেত তার জানাশোনা অগাধ। কিন্তু তিনি সবসময়ই বলতে সবকিছু সহজ রাখতে, খুব জটিল করে না ফেলতে।”

সেই পুজারার যখন টেস্ট অভিষেক হলো ভারতের হয়ে, দ্রাবিড় তখনও খেলছেন। ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বেঙ্গালুরুতে সেই টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭২ রানের ইনিংস খেলে ভারতের জয়ে অবদান রেখেছিলেন পুজারা।

এখন পুজারার নামের পাশে ১৮টি টেস্ট সেঞ্চুরি ও প্রায় ৬ হাজার রান। ৩২ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান জানালেন, দ্রাবিড়ের কাছ থেকে তখন কতটা শিখেছেন তিনি।

“ রাহুল ভাইয়ের সবচেয়ে ভালো দিক হলো, ক্রিকেটারদের মনস্তত্ত্ব তিনি খুব ভালো বুঝতেন। আমি সৌভাগ্যবান ছিলাম যে আমার শুরুর সময়টায় তিনি তখনও খেলছিলেন। ক্রিকেটে দীর্ঘ ভ্রমণে তাকে এত কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে, তিনি আমাকে বলতে পেরেছিলেন যে আমার অপেক্ষায় কী আছে।”

“ তরুণ বয়সে তিনি আমাকে এটা বুঝতে সহায়তা করেছিলেন যে, টেকনিকই সবকিছু নয়। তরুণ ক্রিকেটার হিসেবে টেকনিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়ার প্রবণতা থাকতে পারে। সময়ের সঙ্গে আমি বুঝেছি, টেকনিক অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু পাশাপাশি আরও অনেক কিছু আছে।”

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও দ্রাবিড়ের কাছ থেকে পেয়েছেন পুজারা, সবসময় ক্রিকেটের ভাবনায় বুঁদ হয়ে না থাকা।

“ আরেকটি কারণে তার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। তিনি আমাকে এটা বুঝতে সাহায্য করেছিলেন যে ক্রিকেট থেকে মাঝেমধ্যে দূরে থাকাও জরুরি। ভাবনাটা আমারও ছিল। কিন্তু তার সঙ্গে কথা বলার পর আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছি এবং নিশ্চিত হয়েছি যে কী করতে হবে। কাউন্টি ক্রিকেটেও আমি দেখেছি, তার ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবন কতটা আলাদা করে রাখে।”

“তার (দ্রাবিড়ের) এই পরামর্শকে আমি অনেক মূল্য দেই। অনেকেই মনে করে, আমার মন শুধুই ক্রিকেটে। হ্যাঁ, অবশ্যই ক্রিকেটে আমি মনোযোগী। তবে এটাও জানি, কখন ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে হয়।  ক্রিকেটের বাইরেও জীবন আছে।।“

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
খেলা বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর