• সোমবার   ২৩ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ৯ ১৪২৭

  • || ০৮ রবিউস সানি ১৪৪২

১১৮

টিএসসির ইফতার উৎসব: সেই মনোরম দৃশ্য শুধুই স্মৃতি

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৩ মে ২০২০  

গোধূলির আলো-ছায়ায় ইফতারের মহোৎসব শুরু হতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি)। বন্ধু-বান্ধব ছোট ছোট দলে, সেজে উঠতো সেই মন্ত্রমুগ্ধকর আয়োজন। ইফতার সামনে নিয়ে চলতো গল্প-আড্ডা। প্রতি বছর প্রথম রোজায় এমনই দৃশ্য ছিলো টিএসসির। 

টিএসসি প্রাঙ্গণের সেই উৎসবের আমেজ এখন আর নেই। শুধু টিএসসি নয় আবাসিক হলগুলোর মাঠ, সবুজ চত্বর, মল চত্বর, সিনেট ভবন প্রাঙ্গণ, বটতলা, ক্যাফেটেরিয়া, হাকিম চত্বর, কার্জনের মাঠসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে।

রমজানে টিএসসির বিকেল বদলে যায়। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই চত্বর উৎসবে পরিণত হয়। করোনার কারণে সবাই এখন ঘরবন্দী। তাই সবার কাছেই টিএসসির ইফতার আজ স্মৃতি। কয়েকজন শিক্ষার্থীর সেই স্মৃতি শুনেছেন শোয়াইব আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত সানজিদা ইসলাম তন্বী বলেন, ইফতারের ঠিক আগে টিএসসির মাঠ অপরূপ সাজে সেজে উঠতো। সবাই বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার আয়োজনে ব্যস্ত। ব্যস্ততার মধ্যেও চলতো আড্ডা। এখন বাসায় এসে ইফতার শেষে ঘোরাঘুরিসহ এই সবকিছু অনুভব করি।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসে উচ্চবিত্ত, নিম্নবিত্তের কোনো ভেদাভেদ নেই। রমজানের দিনগুলোতে তা যেনো আরো গৌণ। টিএসসির ইফতার সবচেয়ে বেশি মিস করি। বিকেল হতেই হলে হলে, চকবাজার অথবা পুরান ঢাকার বাহারি ইফতার আয়োজন সত্যিই স্মৃতিকাতর করে দেয়। 

সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিল হাসান বলেন, ইফতারের আগে টিএসসির মাঠে উৎসবের আমেজ বিরাজ করতো। হুট করে প্ল্যান ছাড়াই বন্ধুরা মিলে ইফতার আয়োজন করতাম। বোতলে করে ঠান্ডা পানি, জুস আর পুরাতন পত্রিকাকে সঙ্গে করে ইফতার আয়োজন করতাম। ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়কে অনেক বেশি মিস করি। কেন না পরিবারের অনুপস্থিতিতে সেই বন্ধুরাই ছিলো পরিবারের অভাব পূরণের একমাত্র জায়গা। ক্যাম্পাসের সেই হৈ-হুল্লোড়ে কাটানো সময়গুলোকে খুব মিস করি।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ