• বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭

  • || ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

১৩

জামের বীজেই জাদুর মতো নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়াবেটিস!

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০২০  

ডায়াবেটিস খুবই পরিচিত একটি রোগ। যা অধিকাংশ মানুষেরই হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস হলে তা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সারাবছরই ওষুধ খেতে হয়। তবে ওষুধ ছাড়াও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জামের বীজ ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

কেন জামের বীজ ডায়াবেটিসে এত উপকারী এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে জামের বীজের ব্যবহার কীভাবে করবেন? চলুন জেনে নেয়া যাক বিস্তারিত-

এশিয়া প্যাসিফিক জার্নাল অফ ট্রপিক্যাল বায়োমেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী জামের বীজ হাইপারগ্লাইসেমিক ইঁদুরের শরীরে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে ও ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে খুবই উপকারী। আরো জানা যায়, জামের বীজের উপকারী প্রোফাইল্যাকটিক ক্ষমতা হাইপারগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে। ফলে রোগীদের রোজের খাদ্যতালিকায় জামের বীজ রাখা দরকার।

ম্যাক্রোবায়োটিক পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ শিল্পা অরোরা জানাচ্ছেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে জামের বীজ খুবই উপকারী। ফল ও বীজ উভয়েই উপস্থিত জাম্বোলাইন ও জাম্বোসাইন নামক পদার্থ রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। জামের বীজও রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। জাম খাওয়া উপকারী। বীজগুলো শুকিয়ে গুঁড়া করে প্রত্যেকদিন খালি পেটে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ রাম এন কুমারের মতে, জামের বীজ অধিকাংশ আয়ুর্বেদিক ডায়াবেটিসের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার হয়। জামের সংস্কৃত নাম জাম্বু, এবং বিভিন্ন আদি আয়ুর্বেদশাস্ত্রে এর উল্লেখ আছে। ভারতের আর এক নাম জাম্বুদ্বীপ বা অনেক জাম্বু (জাম) বা ভারতীয় ব্ল্যাকবেরি গাছের দেশ। আয়ুর্বেদ মতে, জাম হলো অ্যাসট্রিনজেন্ট অ্যান্টি-ডিউরেটিক, যা ঘন ঘন মূত্রত্যাগ কমাতে সাহায্য করে, হাইপোগ্লাইসেমিক গুণ আছে যা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে, এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পূর্ণ যা ডায়াবেটিসে উপকারী। জাম ফল ও বীজ উভয়েই এই গুণগুলো উপস্থিত।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কীভাবে জামের বীজ ব্যবহার করবেন- 

জাম পরিষ্কার করে একটি পাত্রে রাখুন। আঙুল দিয়ে ফল থেকে বীজ ছাড়িয়ে নিয়ে অন্য একটি শিশিতে রেখে দিন।  বীজগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিন যাতে গায়ে শাঁস না লেগে থাকে। পরিষ্কার কাপড়ে বীজগুলো ছড়িয়ে রোদে ৩ থেকে ৪ দিন শুকাতে দিন। শুকিয়ে গেলে বাইরের খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের সবুজ অংশ বের করে নিন। সবুজ অংশটি সহজেই আঙুলের চাপে ভাঙতে পারবেন। সবগুলো ভেঙে আরো কিছুদিন রোদে শুকাতে দিন।  এবার শুকনো বীজগুলো মিক্সিতে ভালো করে গুঁড়া করে নিন। ভালো করে গুঁড়া করার পর চালনিতে চেলে নিন। তারপর জামের বীজের গুঁড়া একটি বায়ু-নিরোধক শিশিতে রেখে দিন এবং প্রয়োজন মতো ব্যবহার করুন। এক গ্লাস পানিতে এক চা চামচ জামের বীজের গুঁড়া মিশিয়ে রোজ সকালে খালি পেটে পান করুন।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর