• শুক্রবার   ২২ জানুয়ারি ২০২১ ||

  • মাঘ ৯ ১৪২৭

  • || ০৮ জমাদিউস সানি ১৪৪২

৪৫

চৌহালীতে প্রথমবারের মতো সরিষা ক্ষেতে মধু চাষ

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৪ জানুয়ারি ২০২১  

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার প্রায় প্রতিটি ক্ষেতে হলুদের সমারোহ। গ্রামের ক্ষেতজুড়ে আবাদ হয়েছে সরিষা। আর এই সরিষাক্ষেতে মৌ চাষ করে কৃষক এবং মৌ চাষী উভয়ই লাভবান হচ্ছে। কারণ সরিষাক্ষেতে মৌ চাষ করলে সেই এলাকার জমির ফলনও বৃদ্ধি পায়। ইতিমধ্যে চৌহালী উপজেলার বিভিন্ন জমির সরিষা থেকে মৌমাছির সাহায্যে মধু সংগ্রহ শুরু হয়েছে।
চৌহালীর খাষপুকুরিয়া, বাঘুটিয়া, খাষকাউলিয়া, উমারপুর, ঘোরজান, স্থল, রেহাইপুকুয়া, ঘুশুরিয়া ও সদিয়াচাদপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় মৌচাষী দিয়ে সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বেশির ভাগ মৌ চাষী এসেছেন সাতক্ষীরা, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। কথা হয় কুড়িগ্রামের মৌচাষী হাসান আলীর সাথে। সে উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের রেহাপুকুরিয়া গ্রামে তার মৌ চাষের বাক্স স্থাপন করে। এ সকল মৌচাষীদের নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। স্থানীয় কৃষক রফিক মিয়া আক্ষেপের সূরে বলেন, আমাদের যদি কৃষি অফিস মৌ চাষের প্রশিক্ষন দিত তাহলে আমরা সরিষার সাথে মৌ চাষ করে অধিক লাভবান হতে পারতাম। উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চৌহালী উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্যোগে সরিষাক্ষেতে মধু চাষের ওপর কৃষকদের প্রশিক্ষণ না দিলেও কৃষকদের মৌ চাষে উদ্বুদ্ধ করে আসছে। তাছাড়া সরিষাক্ষেতে মৌ চাষ করলে ফসলের কোন প্রকার ক্ষতি হয় না বরং উল্টো সরিষার ফলন ২০ ভাগ বৃদ্ধি পায় সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারনা দেওয়া হয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে। খোজ নিয়ে দেখা যায়, এই উপজেলার কৃষকেরা এবার ব্যাপক সরিষার আবাদ করেছেন। তা ছাড়া চৌহালীতে এই বছরি প্রথম সরিষাখেতে মধুর জন্য মৌ বাক্স বসানো হয়েছে। সরিষার পরাগায়ন ঘটিয়ে মধু সংগ্রহ করে থাকে মৌমাছি।

ফলে সরিষার ফলন ভালো হয় ও বাড়তি মধু পাওয়া যায়। প্রতিটি বাক্সে মাত্র একটি রাণী মৌমাছি থাকে। এবার উপজেলায় ৯ হাজার ৮১৮ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষার খেতে মৌমাছি ফুলের ওপর বসলে ফুলের পরাগায়নে ফসলের পুষ্টি বৃদ্ধি হয়। সরিষার ফলন ২০ ভাগ বৃদ্ধি পায়। মৌ চাষের কারণে এবার সরিষার ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার প্রত্যেক এলাকায় মৌচাষ হচ্ছে।
জানা যায়, আগে এ উপজেলার কৃষকেরা ফলন নষ্ট হবে ভেবে তাঁদের আবাদি জমিতে মৌ বাক্স (কলনী)বসাতে দেওয়া হয়নি। অথচ মৌ চাষের ফলে সরিষার ২০ ভাগ ফলন বাড়ে। শুধু সরিষাই নয়, মৌমাছিরা ফুলের পরাগায়ন ঘটিয়ে নানা ধরনের রবিশস্যের ফলন বৃদ্ধি করে। পরে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে আবাদি জমির পাশে মৌমাছির বাক্স স্থাপন করতে সহযোগিতা করছেন সাধারণ কৃষকরা। বর্তমানে মৌ চাষে প্রতি বাক্স থেকে সপ্তাহে ৪-৫ কেজি মধু সংগ্রহ করা যায়। তবে অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে মধু সংগ্রহ বেশি হয়।
সাতক্ষিরার মধুচাষি মামুন,আলিম ও লাবলু বলেন, আমরা মৌমাছি পালন করে মধু সংগ্রহ করে থাকি,সপ্তাহে প্রতি বাক্সে থেকে ৩/৫ কেজি মধু সংগ্রহ করা হয়,আমার ১৮০টি মৌবক্স নিয়ে ৪ জন শ্রমিক কাজ করছে। মৌ চাষে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। মৌ চাষের কারণে একদিকে যেমন সরিষা উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে অল্প খরচে মৌ চাষ করে দূর হচ্ছে বেকারত্ব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ জেরিন আহমেদ বলেন, এই উপজেলায় স্থানীয়ভাবে কোনো মৌ চাষী নেই। যারা মৌ চাষ করছেন তারা সকলেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চাষী। তাই এখানে মৌ চাষ উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কৃষকদের ফসলের সাথে মৌ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করছি। দেশের নানা এলাকার মৌচাষীদের সাফল্যের কথা শুনে ও মৌ চাষ দেখে এখানকার অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর