• সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৭

  • || ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

৩৯

ক্ষমার বিশেষ দোয়াসহ যেসব গুণ ও অন্যায়ের বিধান পড়া হবে আজ

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৯ মে ২০২০  

মুমিনদের সফলতার জন্য বিশেষ গুণবর্ণনার সুরায় শুরু হবে আজকের তারাবিহ। সফলতা লাভে মুমিনদের প্রথম গুণটিই হলো নামাজে বিনয়ী হওয়া। ১৫ রোজার প্রস্তুতিতে তারাবিহ নামাজে এ মুমিনের সফলতার ঘোষনা দিতে গিয়ে বলেন-
'মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে, যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র, যারা অনর্থক কথা-বার্তা এড়িয়ে চলে, যারা যাকাত দান করে থাকে, এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে...।

রমজানের ১৫তম তারাবিহতে সুরা মুমিনুন, সুরা নুর এবং সুরা ফুরক্বানের ২০নং আয়াত পর্যন্ত তেলাওয়াত করা হবে। সুরার আলোচ্য বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

সুরা মুমিনুন : ০১-১১৮
মুমিনগণের বৈশিষ্ট্য সম্বলিত সুরাটি মক্কায় নাজিল হয়েছে। এ সুরা মুমিনগণের যে বৈশিষ্ট্য আলোচিত হয়েছে, তা ঈমানেরও গুরুত্বপূর্ণ শাখা। এ কারণেই এ সুরাটিকে সুরা মুমিনুন হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। সুরাটি নাজিলের পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেবলামুখী হয়ে দু’হাত তুলে দোয়া করেন-
‘হে আল্লাহ! আমাদেরকে অধিক পরিমাণে দাও, আমাদেরকে কম দিও না। আমাদেরকে সম্মানিত করো, অপমানিত কর না। আমাদেরকে নিয়ামাত দান কর, বঞ্চিত কর না। অন্যদের ওপর আমাদের পছন্দ কর, আমাদের ওপর অন্যদের পছন্দ কর না। আমাদের প্রতি তুমি সন্তুষ্ট থাক, আর আমাদেরকে খুশি করে দাও!’

অতপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘আমার প্রতি দশটি আয়াত নাজিল হয়েছে, যে এ দশটি আয়াতে বর্ণিত গুণাবলী অর্জন করলো, সে জান্নাতি হয়ে গেলো। আয়াতগুলো হলো-
- 'মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে। যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র। যারা অনর্থক কথা-বার্তা এড়িয়ে চলে। যারা যাকাত দান করে থাকে। আর যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না। অতপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে। আর যারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে হুশিয়ার থাকে।আর যারা তাদের নামাযসমূহের খবর রাখে। তারাই উত্তরাধিকার লাভ করবে। তারা শীতল ছায়াময় উদ্যানের উত্তরাধিকার লাভ করবে। তারা তাতে চিরকাল থাকবে।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১-১১)

আল্লাহ তাআলা মানুষের জীবিকা হিসেবে ফল ও প্রাণীসহ অনেক নেয়ামত দান করেছেন। যার বর্ণনা এসেছে এ সুরায়। আল্লাহ তাআলা বলেন-
- 'আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে থাকি পরিমাণ মত অতঃপর আমি জমিনে সংরক্ষণ করি এবং আমি তা অপসারণও করতে সক্ষম।অতপর আমি তা দ্বারা তোমাদের জন্যে খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান সৃষ্টি করেছি। তোমাদের জন্যে এতে প্রচুর ফল আছে এবং তোমরা তা থেকে আহার করে থাক। এবং ঐ বৃক্ষ সৃষ্টি করেছি, যা সিনাই পর্বতে জন্মায় এবং আহারকারীদের জন্যে তৈল ও ব্যঞ্জন উৎপন্ন করে।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১৮-২০)

- 'এবং তোমাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তু সমূহের মধ্যে চিন্তা করার বিষয় রয়েছে। আমি তোমাদেরকে তাদের উদরস্থিত বস্তু থেকে পান করাই এবং তোমাদের জন্যে তাদের মধ্যে প্রচুর উপকারিতা আছে। তোমরা তাদের কতককে ভক্ষণ কর। তাদের পিঠে ও জলযানে তোমরা আরোহণ করে চলাফেরা করে থাক।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ২১-২২)

এ সুরায় হজরত নুহ আলাইহিস সালামের বর্ণনা এসেছে। তিনি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
'নুহ (আলাইহিস সালাম) বলেছিল, হে আমার পালনকর্তা! আমাকে সাহায্য কর; কেননা, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলছে।' (সুরা মুমিনন : আয়াত ২৬)

নুহ আলাইহিস সালামকে সাহায্য করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা তার অবাধ্য জাতিকে মহাদুর্যোগ দিয়ে ধ্বংস করে দেন আর যারা আল্লাহ ও নবি নুহ আলাইহিস সালামের অনুসারি তাদের হেফাজত করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
'অতঃপর আমি তার কাছে আদেশ প্রেরণ করলাম যে, তুমি আমার দৃষ্টির সামনে এবং আমার নির্দেশে নৌকা তৈরী কর। এরপর যখন আমার আদেশ আসে এবং চুল্লী প্লাবিত হয়, তখন নৌকায় তুলে নাও, প্রত্যেক জীবের এক এক জোড়া এবং তোমার পরিবারবর্গকে, তাদের মধ্যে যাদের বিপক্ষে পূর্বে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাদের ছাড়া। এবং তুমি জালেমদের সম্পর্কে আমাকে কিছু বলো না। নিশ্চয় তারা নিমজ্জত হবে।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ২৭)

বিপদে নৌকায় আরোহন করে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা এবং বিপদ শেষে নৌকা থেকে অবতরণ করেও শুকরিয়া আদায় করেন হজরত নুহ আলাইহিস সালাম। এ দোয়া মানুষের জন্য শিক্ষণীয়। মানুষ বিপদে যেমন এ দোয়া পড়বে আবার কোনো যানবাহন থেকে নিরাপদ অবতরণ করতেও এ দোয়া পড়বে। আল্লাহ যা বান্দার জন্য নেয়ামতস্বরপ সুরা মুমিনুনে নাজিল করেছেন। আর তাহলো-
- 'যখন তুমি ও তোমার সঙ্গীরা নৌকায় আরোহণ করবে, তখন বল-
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي نَجَّانَا مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ : 'আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি নাঝ্ঝানা মিনাল ক্বাওমিজ জ্বালিমিন।'
অর্থ : আল্লাহর শোকর, যিনি আমাদেরকে জালেম সম্প্রদায়ের কবল থেকে উদ্ধার করেছেন।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ২৮)

- (অবতরণের সময়) আরও বলুন-
رَّبِّ أَنزِلْنِي مُنزَلًا مُّبَارَكًا وَأَنتَ خَيْرُ الْمُنزِلِينَ
উচ্চারণ : রাব্বি আংযিলনি মুংযালাম মুবারাকাও ওয়া আংতা খাইরুল মুংযিলিন।'
অর্থ : (হে আমার) পালনকর্তা! আমাকে কল্যাণকর ভাবে নামিয়ে দাও, তুমি শ্রেষ্ঠ অবতারণকারী।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ২৯)

সত্যের বাণী প্রচারে আল্লাহ তাআলা যুগে যুগে নবি রাসুল পাঠিয়েছেন। যারাই নবি-রাসুলদের অবিশ্বাস করেছে, তারাই আজাবা-গজব ও ধ্বংসে পরিণত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
'এরপর আমি পর্যায়ক্রমে আমার রাসুল পাঠিয়েছি। যখনই কোনো উম্মতের কাছে তাঁর রাসুল আগমন করেছেন, তখনই তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছে। অতপর আমি তাদের একের পর এক ধ্বংস করেছি এবং তাদেরকে কাহিনীর বিষয়ে পরিণত করেছি। সুতরাং ধ্বংস হোক অবিশ্বাসীরা।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ৪৪)

সব নবি-রাসুলের উম্মতরা একই মাওলার অনুসারি। সবার প্রভু একজন। কেউ আগে এসেছে কেউ পরে এসেছে। সবারই মিশন এক ও অভিন্ন। সে কথার ঘোষণাও এসেছে এ সুরায়। আল্লাহ বলেন-
'আপনাদের এই সব উম্মত তো একই ধর্মের অনুসারী এবং আমি আপনাদের পালনকর্তা; অতএব আমাকে ভয় করুন।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ৫২)

যেসব লোক আল্লাহর ভয়ে তার দেয়া সম্পদ থেকে গরিব-অসহায়দের দান করে তাদের মর্যাদাও এ সুরায় ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
'আর যারা যা দান করবার, তা ভীত, কম্পিত হৃদয়ে এ কারণে দান করে যে, তারা তাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবে। তারাই দ্রুত কল্যাণ অর্জন করে এবং তারা তাতে অগ্রগামী থাকবে।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ৬০-৬১)

আল্লাহর অবাধ্যতা ও সীমা লঙ্ঘনের অপরাধ থেকে মুক্ত থাকতে আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। আর তা তারই শেখানো ভাষায় করা উত্তম। আল্লাহ তাআলা সে আবেদনের ভাষা তুলে ধরেছেন এভাবে-
رَبِّ فَلَا تَجْعَلْنِي فِي الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
উচ্চারণ : 'রাব্বি ফালা তাঝআলনি ফিল ক্বাওমিজ জ্বালিমিন।'
অর্থ : 'হে আমার পালনকর্তা! তবে আপনি আমাকে গোনাহগার সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত করবেন না।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ৯৪)

যে কারো মন্দ বা খারাপ কথার উত্তর কিভাবে দিতে হবে তাও বলে দিয়েছেন। আবার মন্দ কথার উত্তম জবাব দেয়ার পর আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার ভাষাও তুলে ধরেছেন এ সুরায়। আল্লাহ বলেন-

'মন্দের জওয়াবে তাই বলুন, যা উত্তম। তারা যা বলে, আমি সে বিষয়ে সবিশেষ অবগত। আর (আপনি) বলুন-
رَّبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ - وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَن يَحْضُرُونِ
উচ্চারণ : 'রাব্বি আউজুবিকা মিন হামাযাতিশ শায়াত্বিন - ওয়া আউজুবিকা রাব্বি আইঁইয়াহদুরুন।'
হে আমার পালনকর্তা! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি, আর হে আমার পালনকর্তা! আমার কাছে তাদের উপস্থিতি থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি।'
যখন তাদের কারও কাছে মৃত্যু আসে, তখন সে বলে, হে আমার পালণকর্তা! আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে ) প্রেরণ করুন।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ৯৬-৯৯)

পথহারা মানুষ সঠিক পথ লাভের পর মহান আল্লাহর কাছে এভাবে দোয়া করবে। যাতে মহান আল্লাহ তার দোয়া কবুল করে সঠিক পথের ওপর চলার তাওফিক দান করেন। আল্লাহ বলেন-
'তারা বলবে-
رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْمًا ضَالِّينَ - رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْهَا فَإِنْ عُدْنَا فَإِنَّا ظَالِمُونَ
উচ্চারণ : 'রাব্বানা গালাবাত আলাইনা শিক্বওয়াতুনা ওয়া কুন্না ক্বাওমাং দাল্লিন। রাব্বানা আখরিঝনা মিনহা ফাইন্না উদনা ফাইন্না জ্বালেমুন।'
অর্থ : 'হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা দূর্ভাগ্যের হাতে পরাভূত ছিলাম এবং আমরা ছিলাম বিভ্রান্ত জাতি। হে আমাদের পালনকর্তা! এ থেকে আমাদেরকে উদ্ধার কর; আমরা যদি পুনরায় তা করি, তবে আমরা গোনাহগার হব।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১০৬-১০৭)

মুমিন ব্যক্তি ক্ষমা লাভে আল্লাহর কাছে এভাবে দোয়া করবে-
'আমার বান্দাদের একদলে বলত-
رَبَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
উচ্চারণ : 'রাব্বানা আমান্না ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।'
অর্থ : 'হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। অতএব তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর ও আমাদের প্রতি রহম কর। তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১০৯)

সর্বশেষ আয়াতে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার দরবারে এভাবে প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়ে বলেন-
'(হে রাসুল! আপনি) বলুন-
رَّبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
উচ্চারণ : 'রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।'
অর্থ : 'হে আমার পালনকর্তা! ক্ষমা করুন ও রহম করুন। রহমকারীদের মধ্যে আপনি শ্রেষ্ট রহমকারী।' (সুরা মুমিনুন : আয়াত ১১৮)

সুরা নুর : ০১-৬৪
সুরা নুর মদিনায় অবতীর্ণ হয়। এ সুরায় আল্লাহ তাআলা অনেক বিধি-বিধান, শাসন-শৃঙ্খলা এবং তাওহিদের বর্ণনা করেছেন। চারিত্রিক ও নৈতিক মানোন্নয়নের ওপর এ সুরায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
'এটা একটা সুরা যা আমি নাযিল করেছি, এবং দায়িত্বে অপরিহার্য করেছি। এতে আমি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ অবতীর্ণ করেছি, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ।' (সুরা নুর : আয়াত ১)

সাঈদ ইবনে মনসুর, ইবনুল মুনজির, বাইহাকি মুজাহিদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহির সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা পুরুষদের সুরা মায়িদা শেখাও, আর তোমাদের স্ত্রীদেরকে সুরা নুর শেখাও।

তাছাড়া সুরা নুরের বিশেষত্বের কারণে হজরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলতেন, তোমরা স্ত্রীলোকদেরকে সুরা নূর শিক্ষা দাও। এ সুরার মূল বক্তব্য ও আলোচ্যসূচি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

>> এ সুরায় ব্যভিচারের শাস্তি বর্ণনা এসেছে; আল্লাহ বলেন-
'ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ' করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।' (সুরা নুর : আয়াত ২)

>> ব্যভিচারের অপবাদের শাস্তির ঘোষণা এসেছে। মুনাফিকরা উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়েছিল, এ সুরায় তাদের শাস্তির ঘোষণা করা হয়েছে-
- 'যারা সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে অতপর স্বপক্ষে চার জন পুরুষ সাক্ষী উপস্থিত করে না, তাদেরকে আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং কখনও তাদের সাক্ষ্য কবুল করবে না। এরাই নাফারমান। কিন্তু যারা এরপর তওবা করে এবং সংশোধিত হয়, আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম মেহেরবান।' (সুরা নুর : আয়াত ৪-৫)

- 'আর যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং তারা নিজেরা ছাড়া তাদের কোনো সাক্ষী নেই, এরূপ ব্যক্তির সাক্ষ্য এভাবে হবে যে, সে আল্লাহর কসম খেয়ে চারবার সাক্ষ্য দেবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী। আর পঞ্চমবার বলবে যে, যদি সে মিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহর লানত।' (সুরা নুর : আয়াত ৬-৭)

- আর স্ত্রীর শাস্তি রহিত হয়ে যাবে যদি সে আল্লাহর কসম খেয়ে চার বার সাক্ষ্য দেয় যে, তার স্বামী অবশ্যই মিথ্যাবাদী। আর পঞ্চমবার বলে যে, যদি তার স্বামী সত্যবাদী হয় তবে তার ওপর আল্লাহর গযব নেমে আসবে।' (সুরা নুর : আয়াত ৮-৯)

>> এ সুরায় নিজ ঘর ছাড়া অন্যদের ঘরে প্রবেশের নিয়ম বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
'হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ব্যতিত অন্য ঘরে প্রবেশ করো না, যে পর্যন্ত আলাপ-পরিচয় না কর এবং ঘরের লোকদের সালাম না কর (তাতে প্রবেশ কর না)। এটাই তোমাদের জন্যে উত্তম, যাতে তোমরা স্মরণ রাখ। যদি তোমরা ঘরে কাউকে না পাও, তবে অনুমতি গ্রহণ না করা পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ করো না। যদি তোমাদেরকে বলা হয় ফিরে যাও, তবে ফিরে যাবে। এতে তোমাদের জন্যে অনেক পবিত্রতা আছে এবং তোমরা যা কর, আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।' (সুরা নুর : আয়াত ২৭-২৮)

>> এ সুরায় মুমিন পুরুষদের ওপর পর্দার বিধান দিয়ে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-
'মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।' (সুরা নুর : আয়াত ৩০)

>> আবার নারীদেরকে সম্বোধন করে পর্দার বিধান জানিয়ে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন-
'ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।' (সুরা নুর : আয়াত ৩১)

>> যাদের জান্য পর্দার বিধানে শিথিলতা আছে। তবে তাদের জন্যও পর্দা করা উত্তম। তাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেন-
- 'বৃদ্ধা নারী, যারা বিবাহের আশা রাখে না, যদি তারা তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে তাদের বস্ত্র খুলে রাখে। তাদের জন্যে দোষ নেই, তবে এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্যে উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।' (সুরা নুর : আয়াত ৬০)

সুরা ফুরক্বান : ০১-২০
সুরা ফুরকান হিজরতের আগে এমন এক সময় মক্কায় নাজিল হয় যখন আরবের অবিশ্বাসীরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর সাহাবায়ে কেরামের ওপর সীমাহীন নির্যাতন করছিল। তারা ছিল গোমরাহীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন, অন্যায়-অনাচার, জুলুম-অত্যাচার এক কথায় যাবতীয় পাপাচারে লিপ্ত।

তারা এ কথাটি বিশ্বাস করতে পারছিল না যে, আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাঁর বাণী নাজিল করেছেন, যিনি চল্লিশটি বসন্ত তাদের মাঝেই পরিচ্ছন্ন জীবন অতিবাহিত করেছেন।

এ সুরায় হক্ব ও বাতিল সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে এবং সত্য ও অসত্যের মধ্যে বিশেষভাবে পার্থক্য দেখিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই এ সুরার নামকরণ করা হয়েছে ফুরকান।

তাওহিদ, রিসালাত ও কিয়ামাত সম্পর্কিত বিস্তারিত বিষয়ের আলোচনার পাশাপাশি যার প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়তকে অস্বীকার করতো, তাদের যাবতীয় সন্দেহ-সংশয়ের খণ্ডন করা হয়েছে এ সুরায়।

সুরাটির আজকের তারাবিহ-এর অংশে প্রত্যেক সৃষ্ট বস্তুর বিশেষ রহস্য এবং তার আকার, গঠন, প্রতিক্রিয়া ও বৈশিষ্ট্য আলোচিত হয়েছে। তাছাড়া মানব সমাজের অর্থনৈতিক সাম্যের ব্যাপারে আলোচিত হয়েছে। আল্লাহ নিজের পরিচয় ও সত্যতার কথা তুলে ধরে বলেন-
'পরম কল্যাণময় তিনি যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ফয়সালার গ্রন্থ অবর্তীণ করেছেন, যাতে সে বিশ্বজগতের জন্যে সতর্ককারী হয়। তিনি হলেন সেই মহান সত্ত্বা, যাঁর রয়েছে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের রাজত্ব। তিনি কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি। তাঁর রাজত্বে কোনো অংশীদার নেই। তিনি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছেন, অতপর তাকে শোধিত করেছেন পরিমিতভাবে।' (সুরা ফুরকান : আয়াত ১-২)

অবিশ্বাসীরা প্রিয় নবি সম্পর্কে অমূলক কথা বার্তা বলে বেড়ায়। তার রেসালাতের দাবির বিপক্ষে যেসব কথা বার্তা বলে বেড়াত, তা ছিল এমন। আল্লাহ বলেন-
'তারা বলে, এ কেমন রসূল যে, খাদ্য আহার করে এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করে? তাঁর কাছে কেন কোন ফেরেশতা নাযিল করা হল না যে, তাঁর সাথে সতর্ককারী হয়ে থাকত? অথবা তিনি ধন-ভান্ডার প্রাপ্ত হলেন না কেন, অথবা তাঁর একটি বাগান হল না কেন, যা থেকে তিনি আহার করতেন? জালেমরা বলে, তোমরা তো একজন জাদুগ্রস্ত ব্যক্তিরই অনুসরণ করছ।' (সুরা ফুরকান : আয়াত ৭-৮)

আল্লাহ তাদের কথার জবাবে নবি-রাসুল পাঠানোর ব্যাপারে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ আয়াতে বিবরণ বেশ করে ঘোষণা দেন। আল্লাহ বলেন-
'(হে রাসুল!) আপনার আগে যত রাসুল প্রেরণ করেছি, তারা সবাই খাদ্য গ্রহণ করত এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করত। আমি তোমাদের এককে অপরের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। দেখি, তোমরা সবর কর কিনা। আপনার পালনকর্তা সব কিছু দেখেন।' (সুরা ফুরকান : আয়াত ২০)

এ আয়াত পাঠের মাধ্যমেই শেষ হবে ১৫তম রোজার প্রস্তুতিতে আজকের তারাবিহ। তারাবিহ পড়া মুমিন মুসলমানের উচিত তারাবিহ পড়তে যাওয়ার আগে উল্লেখিত সুরাগুলো অনুবাদ ও আলোচ্য বিষয়গুলো অধ্যয়ন করা। অন্তত এ সুরাগুলো তেলাওয়াত করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআনের এ গুরুত্বপূর্ণ সুরাগুলো বুঝে পড়ার এবং তাঁর ওপর আমল করার পাশাপাশি নিজেদের আকিদা-বিশ্বাসকে শিরকমুক্ত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
ধর্ম বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর