• মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭

  • || ১০ শাওয়াল ১৪৪১

৩৬৫

কি হচ্ছে টিকটকে!

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১ ডিসেম্বর ২০১৮  

অভিনয় কাকে বলে, কত প্রকার এবং কি কি? যারা টিকটক অ্যাপস ব্যবহার করেন তারা ঠিকই জানেন? কি হচ্ছে টিকটকে! এই অ্যাপস ব্যবহারে এক শ্রেণির মানুষ মজা দেন এবং আরেক শ্রেণির মানুষ মজা নেন। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও দ্রুত সময়ে টিকটক অ্যাপস জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সঙ্গে হয়ে উঠেছে বিকৃত মানসিকতা, ভয়ঙ্কর এবং অশ্লীলতার মাধ্যম।

টিকটক দিয়ে ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিটের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের গান, নাটক, চলচ্চিত্র বা কোনো ব্যক্তির প্রকাশিত কথপোকথনের সঙ্গে মিল রেখে অ্যাপস ব্যবহারকারীরা মুখ বা অঙ্গভঙ্গি করেন। সেখানে ভিডিও সম্পাদনার সব কলাকৌশল আছে। খুব সহজেই দ্রুত সময়ে একটি চমকপ্রদ ভিডিও বানানো যায়। সেটি আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শেয়ার করলে ভাইরাল করা হয়। কিন্তু এসব করতে গিয়ে ব্যবহারকারীরা কি বানাচ্ছেন বা কি তৈরি করছেন সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। অ্যাপসটির ব্যবহার অতিমাত্রায় পৌঁছে যাচ্ছে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সমালোচিত বক্তব্য বা অঙ্গ-ভঙ্গিও তারা ব্যবহার করছেন। শুধু তাই নয়, বাদ যাচ্ছে না ধর্মীয় ব্যাপারগুলো- ধর্মীয় আলোচনা, ইসলামি মজলিশ বা ওয়াজে ব্যবহৃত বিভিন্ন বক্তার দেয়া ভাষণ বিকৃতভাবে ব্যবহার, অশ্লীল গান বা ঢালিউডের বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন চলচ্চিত্রের অশ্লীল ডায়ালগ। বাদ যাচ্ছে না নিজেদের অদ্ভ‚ত ও অশ্লীলভাবে উপস্থাপন করতেও। অনেক পুরুষ যেমন নারী সেজে অভিনয় করছেন আবার অনেকে তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া) সেজেও অভিনয়ে মেতেছেন। অনেকে টিকটকের ভিডিওয়ের জন্য দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছেন।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ সব মাধ্যমে কিছু লাইক আর শেয়ার পাওয়ার আশায় নতুন নতুন এই অ্যাপসগুলোতে আসক্ত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। কিন্তু তারা কি বানাচ্ছে, কি ধরনের অভিনয়ে জড়াচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভবিষ্যতে এ বিকৃত ভিডিওগুলো তাদের ক্যারিয়ার, পরিবারিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

আরো ভয়ঙ্কর ব্যাপার, হচ্ছে ইতিহাস বিবৃতি। জাতীয় সঙ্গীত ভিন্নভাবে গাওয়া, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ, এমন কি জাতীয় সংসদে দেয়া এমপিদের ভাষণও বিকৃতভাবে টিকটকে অভিনয় করা হচ্ছে। আবার বিভিন্ন গান, নাটক কৌতুকের সঙ্গে তারা মুখমিলিয়ে ভিডিও প্রকাশ করছেন যাতে দেখা যায় কিশোর/কিশোরীদের অশ্লীল সব অঙ্গভঙ্গি। এমন কি তাদের ভিডিওতে মুখের ভাষারও বিকৃতি করতে দেখা যাচ্ছে। এসব ভিডিওতে সব বয়সী নানা পেশার মানুষ যুক্ত; তবে তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি।

সারাবিশ্ব টিকটকে মজেছে; মজেছেন নামকরা সব সেলিব্রেটিরাও। বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। দেশের অনেক সেলিব্রেটি টিকটক নামের এই ভাইরাসে আক্রান্ত। শত শত ভিডিও পোস্ট করতে দেখা যাচ্ছে তাদের। রয়েছে ভালো ভিডিও’র পাশাপাশি খারাপ, অশ্লীল ভিডিও। একজন জনপ্রিয় অভিনেতার ভিডিওতে দেখা যায়, সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ক্রিকেটার নাসির হোসেনের কথিত প্রেমিকার ফেসবুকে লাইভে প্রকাশিত অশ্লীল কথোপকথন। টিকটক ব্যবহার করে মুখ মিলিয়ে তিনি সে ভিডিও ফেসবুক এবং ইউটিউবে প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া ইউটিউবে যারা জনপ্রিয়তার তালিকাতে আছেন তারাও টিকটকে মজেছেন। টিকটকের অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছেন ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে; এমনকি ইউটিউবেও। এ সব ভিডিওর ফলে কম বয়সের কিশোর-কিশোরীরা অতিমাত্রায় ইন্টারনেট আসক্তি হয়ে পড়ছে। যার ফলে তাদের মানসিক সমস্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেলিব্রেটি বলেন, টিকটক ব্যাপারটি বেশ উপভোগ্য, এখানে বিরক্ত হই না। জনপ্রিয় কয়েক ইউটিউবার আছেন টিকটকে, ওদের ভিডিওগুলো বেশি ভালো লাগে। অনলাইন জগতের নতুন এক ফানি জায়গা এই টিকটক।

সিনিয়র তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিক মুহাম্মদ কাওছার উদ্দীন বলেন, টিকটক অ্যাপসটি কম সময়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সে ক্ষেত্রে আমার কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু এর কনটেন্ট কিংবা কিছু কিছু ভিডিও, ভয়েস আর অভিনয় নিয়ে আমি ভীত। এখানে কি করা হচ্ছে, কেন করা হচ্ছে তার কোনো ব্যাখ্যা আমার জানা নেই। তবে ফেসবুকে কিছু লাইক, শেয়ার আর কমেন্ট পাওয়ার জন্য কত ধরনের পাগলামি করা হচ্ছে তা টিকটকের কিছু ভিডিও দেখলেই বোঝা যায়। কিছু কিছু ভিডিও এতটাই অশ্লীল তা বিকৃত মানসিকতা থেকে আসে বোঝা যায়। এসবের কোনো ভিত্তি নেই। প্রযুক্তি ব্যবহারের ভালো গুণ আছে তাই আমি মনে করি প্রযুক্তির ব্যবহার ভালো কাজেই করা উচিত।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে যখন বেইজিংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স কিশোরদের অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাপ মিউজিক্যালি কিনে নেয় তখন কেউ কল্পনাও করেনি, আসলে কী হতে যাচ্ছে! তবে কিছুদিন পর বিশ্বজুড়ে একটা হইহই রব তোলে মিউজিক্যালি বদলে বাইটড্যান্সের দেয়া নাম ‘টিকটক’ অ্যাপ। ডাউনলোডের দিকে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট এবং ইউটিউবকে পেছনে ফেলে সবার উপরে জায়গা করে নেয় দ্রুত সময়ে। বর্তমানে অ্যাপটির ডাউনলোডের পরিমাণ সারাবিশ্বে ৫০ কোটির বেশি। টিকটক জনপ্রিয়তা পাওয়ায় এখন বিশ্বের সবচেয়ে দামি স্টার্টআপের তকমা পেয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য সাত হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি। বিশ্বের ৩৪টি ভাষায় ১৫০টি দেশের মানুষ এখন টিকটক ব্যবহার করে। থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামে অ্যানড্রয়েড অ্যাপের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে টিকটক।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর