• শুক্রবার   ২৩ এপ্রিল ২০২১ ||

  • বৈশাখ ৯ ১৪২৮

  • || ১১ রমজান ১৪৪২

কাজিপুরের চরাঞ্চলে ১৫কোটি টাকার মরিচ বেচাকেনার সম্ভাবনা

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ৮ এপ্রিল ২০২১  

সিরাজগঞ্জের কাজিপুরের নাটুয়ারপাড়া হাটে এ মৌসুমে প্রায় ১৫ কোটি টাকার মরিচ বেচাকেনা হয়ে থাকে। উপজেলার দূর্গম চর নাটুয়ারপাড়া, খাসরাজবাড়ী, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, চরগিরিশ, মনসুরনগর, মাইজবাড়ী ও শুভগাছার বালুর চরে এখন মরিচে লালে লাল। এবার আশাতীত উৎপাদন হওয়ার পাশাপাশি দামও পাওয়া যাচ্ছে ভালো। ফলে মরিচ চাষির মুখে হাসি ফুটেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজার দরে বড় কোনো পরিবর্তন না ঘটলে এবার কাজিপুরের নাটুয়ারপাড়া হাটেই প্রায় ১৫কোটি টাকার শুকনা মরিচ কেনাবেচা হবে। উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, মরিচ তোলা, তার পরিচর্যা আর শুকানোর কাজে ব্যস্ত কৃষক।

যাঁরা শুকাতে পারছেন না, তাঁরা জমি থেকে টোপা মরিচ (ক্ষেতে পাকা মরিচ) তুলেই বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। কারণ প্রায় চার কেজি টোপা মরিচ শুকানোর পর এক কেজি শুকনো মরিচ হয়। সেই টোপা মরিচই বাজারে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২শ’ টাকা থেকে এক হাজার ৫শ’ টাকা মণ দরে। আর স্থানীয় বাজারে শুকনো মরিচের দর প্রতি মণ প্রকার ভেদে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। মরিচের জন্য বিখ্যাত নাটুয়ারপাড়া হাট ঘুরে দেখা গেছে, কাধে করে, মাথাই করে, ঘোড়ার গাড়িতে মরিচ আনছেন কৃষকরা। কাজপুরের নাটুয়ারপাড়া হাট প্রতি সপ্তাহের শনি ও বুধবার বসলেও সেখানে বগুড়ার শেরপুর, ধুনট, পাশ্ববত্তী সরিষাবাড়ি, সিরাজগঞ্জের পাইকারি ক্রেতারা আসছেন। প্রতিদিনই মরিচ কিনছেন তাঁরা।

এ ছাড়া স্থানীয় ধান-চাল ব্যবসায়ীরা মরিচের মৌসুমে ধানের পরিবর্তে মরিচ কিনে তাঁদের চাতালে শুকান। এমনই এক ব্যবসায়ী আব্দুল কালাম আজাদ রয়েছেন। কাজিপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রেজাউল করিম জানিয়েছেন, এই উপজেলায় মোট সড়ে ৫শ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। সেই হিসেবে আশা করা হচ্ছে এবার ২৪ হাজার ৭শ’ ৫০ মেট্রিক টন শুকনো মরিচ উৎপাদন হবে। গড়ে ৬ হাজার টাকা মণ ধরলের এবার কাজিপুরে উৎপাদিত মরিচের অর্থমূল্য দাঁড়ায় ১৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ