• বুধবার   ১২ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৮ ১৪২৭

  • || ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

১৮

করোনা বিবেচনায় কৃষিতে আসছে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২০  

করোনা পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেই সময় টিকে থাকার হাতিয়ার হিসেবে কৃষি উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। আর এর অংশ হিসেবে কৃষির আধুনিকায়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য ‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ শীর্ষক একটি নতুন প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর (ডিএই)। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩ হাজার ২০ কোটি টাকা। দেশের সবগুলো উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কৃষিকে ব্যবসায়িকভাবে অধিকতর লাভজনক ও বাণিজ্যিকভাবে টেকসই করে ফসল উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। অনুমোদন পেলে চলতি মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে কৃষি মন্ত্রণালয়। এটিসহ আরও সাতটি উন্নয়ন প্রকল্প উঠছে এবারের একনেকে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রমগুলো হলো- উন্নয়ন সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় ৫১ হাজার ৩০০টি বিভিন্ন প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি যেমন- কম্বাইন্ড, হারভেস্টার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, পাওয়ার থ্রেসার, ড্রায়ার, পাওয়ার উইডার, পাওয়ার স্পেয়ার, পটেটো ডিগার, মেইজ শেলার ইত্যাদি সংগ্রহ ও বিতরণ করা হবে। এছাড়া ৩০০টি ব্যাচে ৯ হাজার গ্রামীণ মেকানিককে ২৮ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি এক হাজার ২০০ জন কর্মকর্তাকে ৪০টি ব্যাচে প্রশিক্ষণ, এক হাজার ব্যাচে এক লাখ যৌথ জমি ব্যবহারকারী কৃষক বা উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ এবং সাড়ে ১২ হাজার জনকে ৫০ ব্যাচে যন্ত্র উপযোগী ধানের চারা উৎপাদন কৌশল সংক্রান্ত পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সেইসঙ্গে সমন্বিত খামারে এক হাজার ২৪০ মেট্রিকটন বীজ সহায়তা দেওয়া হবে। এর বাইরে ১৮টি এটিআই প্রশিক্ষণ ভবন ও ডরমেটরি নির্মাণ, একটি কৃষি যন্ত্রপাতি টেস্টিং ও প্রশিক্ষণ সেন্টারের সুবিধা সৃষ্টি, একটি টেস্টিং সেড নির্মাণ এবং ৩০০টি কৃষি যন্ত্রপাতি উপকরণ সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ, উচ্চ মূল্য ফসল উৎপাদন, কৃষিক্ষেত্রে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং কৃষি পরিবারের প্রকৃত আয় বৃদ্ধিকরণ সংক্রান্ত কার্যক্রমগুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যা প্রস্তাবিত প্রকল্পটির অন্যতম কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তাই এ প্রকল্পটি সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জর্স্যপুর্ণ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ও বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সাবেক সভাপতি ড. শামসুল আলম সারাবাংলাকে বলেন, ‘দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই। তাছাড়া করোনার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে শিল্প ও সেবা খাতের সবকিছু বন্ধ হয়ে গেলেও কৃষির কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। এই মহামারিতে কৃষিই ছিল একমাত্র ভরসা। সে হিসেবে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ব্যাপক উদ্যোগ খুবই ভালো। তবে প্রকল্পটির সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি।’

কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপানি সরবরাহ ও ব্যবহার বৃদ্ধি করে ফসলের ১০-১৫ শতাংশ অপচয় রোধ করা যাবে। এছাড়া চাষাবাদে ৫০ শতাংশ সময় এবং ২০ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় করা যাবে। পাশাপাশি সমন্বিত সবজি জাতীয় ফসল আবাদ করে কৃষি যন্ত্রপাতির ৫০ শতাংশ কর্মদক্ষতা বাড়ানো যাবে। এছাড়া যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে পোস্ট হারভেস্ট ব্যবস্থাপনায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করে ফসল উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে দারিদ্র্যতা কমানো সম্ভব হবে। এসব দিক বিবেচনা করে কৃষি ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের জন্য সরকারি অর্থায়নে ‘খামার যান্ত্রিকীকরণ-প্রথম পর্যায়’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১২ সালের জুনের মধ্যে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালের জুলাই ২০১৯ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়ন করা হয়। সে সময় ব্যয় হয়েছিল ৩৩৯ কোটি টাকা। প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের সফলতা ও ধারাবাহিকতায় বড় পরিসরে এখন তৃতীয় পর্যায় গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো. জাকির হোসেন আকন্দ সারাবাংলাকে জানান, ‘প্রস্তাবিত প্রকল্পটির ওপর গত ২৯ মে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সুপারিশ অনুযায়ী কৃষি মন্ত্রণালয় প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) পুনর্গঠন করেছে।’ তিনি বলেন, ‘কৃষিতে ব্যয় কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ অপরিহার্য। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির আওতায় আধুনিক কৃষিযন্ত্রপাতির সরবরাহ ও ব্যবহার বাড়িয়ে ফসলের অপচয় রোধ, চাষাবাদে সময় এবং অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হবে। এসব বিবেচনায় প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।’

একনেকে উঠতে যাওয়া আরও ৭টি প্রকল্প

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নসহ নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নতুনভাবে ১৮টি ওয়ার্ডেও সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ ও উন্নয়ন-ফেজ-১, তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপ করার জন্য ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতরের ডিজিটাল জরিপ পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, রংপুর জোন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর