• মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭

  • || ১০ শাওয়াল ১৪৪১

৯২৫

কতটা ‘স্বাস্থ্যকর’! স্যানিটারি ন্যাপকিন! বিশেষজ্ঞরা কি বলছেন?

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর ২০১৮  

চিত্রা একজন হাইকার। লম্বা পাড়ি তার রক্তের সঙ্গে মিশে রয়েছে। কিন্তু, ওই বিশেষ পাঁচদিনের বিড়ম্বনা তাকে অনেক সময়েই আটকে দেয় ইচ্ছে-সফরে। কোথায় ফেলে দেওয়া যেতে পারে ব্যবহৃত ন্যাপকিন? সচেতন চিত্রার মন মানে না পাহাড়ে বা জঙ্গলে সেই বর্জ্যটি বিসর্জন দিতে। জলে তো নয়ই।

সুগন্ধীর সমস্যাও কাছাকাছি। সে এক উঠতি ফিলম-নির্মাতা। লোকেশনে পড়ে থাকতে হয়। আর লোকেশন মানে সব সময়ে শহর-নগর নয়। তা মরুভূমি থেকে শুরু করে ছায়াসুনিবিড় গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। হতে পারে কোনও বহতা নদীর তীর বা একেবারেই উন্মুক্ত সমুদ্র সৈকত। এই সব জায়গাতেও কি যেমন তেমন ভাবে ‘ডিসপোজ’ করা যায় স্যানিটারি প্যাড?

তুলনায় অরুণা এসেছে খানিক পিছিয়ে থাকা আর্থিক পরিসার থেকে। সেখানে ‘স্যানিটারি ন্যাপকিন’ মানে বিলাসিতা। তাদের সংসারের মাসিক খরচের মধ্যে সঙ্কুলান করা সম্ভব হয় না এই ‘একান্ত প্রয়োজনীয়’ সামগ্রীর। অরুণা পড়ে রয়েছে সেই সাবেক কাপড়-ব্যবহারেই। সেখানে আবার শারীরিক অস্বস্তি আর সংক্রমণের ভয়। বেশ কয়েক বার সে অসুস্থও হয়েছে। অনেক সময়েই পড়তে হয়েছে সমস্যায়। 

এই সব কিছুর উপরে রয়েছে পরিবেশবিদদের মতামত। 

মাত্র পাঁচ দিনের ব্যাপার। কিন্তু তার ধাক্কা সমলাতে সময় লেগে যাবে পাঁচশো বছর। হ্যাঁ। এমনই এক হিসেব দাখিল করেন পরিবেশবিদরা। ঋতুচক্রকালে ব্যবহৃত স্যানিটারি ন্যাপকিন বা প্যাড থেকে এই জটিল হিসেবে আসছেন পরিবেশ-ভাবুকরা। তাঁদের কথামতো একটি স্যানিটারি ন্যাপকিনের পৃথিবীর মাটিতে মিশে যেতে সময় লাগে ৫০০ বছর। তা হলে প্রতিদিন এই গ্রহে যে পরিমাণ এই ধরনের বর্জ্য জমা হচ্ছে, তা কী পরিমাণ ক্ষতি করছে পরিবেশের, তা সহজেই অনুমেয়। 

এখানে একটি হিসেব রাখা হল— 


গ্রাফিক্স: বিশ্বজিৎ দাস

না, খামোখা ভয় দেখানোর জন্যে এই প্রতিবেদন নয়। কিন্তু এ কথাও ঠিক এমনটা চলতে থাকলে, ৪-৫ বছরের মধ্যে অন্য বিপদ ঘটবে। এই বিপুল পরিমাণে জমতে থাকা বর্জ্য ভূগর্ভস্থ জলের সঙ্গে মিশে যাবে। ভূগর্ভস্থ জল বিষিয়ে গেলে কী হতে পারে, তা নিশ্চয়ই কারোর অজানা নয়। 

এই কথাগুলিই বলছিলেন সুজাতা নন্দী। এসএন গ্রিনোভিশন সার্ভিসেস-এর প্রতিষ্ঠাতা। বেঙ্গালুরুতে বেশ কিছুকাল তিনি পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করে আপাতত কলকাতায়। সুজাতা জানালেন, স্যানিটারি ন্যাপকিন বা ডায়াপারের মতো প্রোডাক্টের প্যাকেটের কোথাও নির্মাতারা এমন কোনও ডিক্ল্যারেশন রাখেননি, থা থেকে তা তৈরির উপাদানগুলি সম্পর্কে জানা যায়। তার উপরে এই ধরনের প্রোডাক্টের রং সর্বদাই ধবধবে সাদা। হাইজিনের প্রতীক হিসেবেই এই সাদা রং। কিন্তু এই সাদাটি তৈরি করতে ঠিক কী পরিমাণ ক্লোরিন ব্যবহৃত হয়েছে, তা জানারও কোনও উপায় নেই। সেই সঙ্গে প্রায় প্রতিটি প্রোডাক্টেই ব্যবহৃত হয় সুগন্ধী। যার উৎসটিও ‘প্রাকৃতিক’ নয়। এই বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক বর্জ্যের কথাও কি আমরা ভেবে দেখেছি?

পরিবেশের দিকে তাকিয়ে কি সরে আসা যায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বা ডায়াপারের ব্যবহার থেকে? সুজাতা জানালেন, সে বিষয়ে ভাবছেন বেশ কিছু পরিবেশবিদ ও চিকিৎসক-স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। মেডিক্যাল অ্যাপ্রুভড সিলিকন থেকে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে ‘মে মেনস্ট্রুয়াল কাপ’। ১৮ বছর বয়সের পর থেকে যে কোনও মেয়েই এটি ব্যবহার করতে পারেন। আর এটি বার বার ব্যবহার করাও যায়। এতে কোনও রকম স্বাস্থ্যহানির বা সংক্রমণের ভয়ও নেই। 

মেনস্ট্রুয়াল কাপ, ছবি-সৌজন্য: এসএন গ্রিনোভিশন সার্ভিসেস

এর বাইরে একেবারে প্রাকৃতিক উপায়েও তৈরি হতে পারে স্যানিটারি ন্যাপকিনের পরিবর্তে। ক্লথ প্যাড তার মধ্যে অন্যতম। না এই প্যাড স্যানিটারি ন্যাপকিনের মতো সাদা নয়। রঙিন কাপড় দিয়েই তৈরি হয় এই প্যাড। ৪-৫ ঘণ্টা কার্যকর থাকে এই প্যাড। এখানে তুলোর বদলে কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করে হয়েছে, ব্যবহার করা হয়েছে ওয়াটারপ্রুফ ক্লথ, যা ৪ মাসের মধ্যে মাটির সঙ্গে মিশে যেতে পারে।

ক্লথ প্যাড, ছবি-সৌজন্য: এসএন গ্রিনোভিশন সার্ভিসেস

যেখানে স্যনিটারি ন্যাপকিনের দাম গড়ে ২০০ টাকা প্রতি প্যাক, বছরে কমপক্ষে ২৫০০ টাকা খরচা, সেখানে মেনস্ট্রুয়াল কাপের একটির দাম ৮৫০ টাকা। আর একিট কাপ ১০ বছর ব্যবহার করা যায়। 

সরকারি স্তরে এই সচেতনতাকে নিয়ে যেতে আগ্রহী সুজাতা। বেঙ্গালুরুতে তাঁর ঐকান্তিকতা বেশ সাড়া ফলেছে। কলকাতায় লালবাজারে মহিলা পুলিশদের সঙ্গে ওয়ার্কশপ করেছেন সম্প্রতি। তাতেও ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছেন এই পরিবেশ অন্ত প্রাণ বাঙালিনী। 



সূত্র: এবেলা

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর