• শুক্রবার   ২৯ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪২৭

  • || ০৬ শাওয়াল ১৪৪১

৩০

এলইডি বাতিতে আলো ঝলমলে ঢাকা দক্ষিণ এলাকা

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২০  

সড়কে রাতের অন্ধকার বা পুরনো সোডিয়াম আলোর বাতি এখন আর নেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায়। বর্তমানে অত্যাধুনিক এলইডি বাতিতে আলো ঝলমলে রূপ পেয়েছে ডিএসসিসি।সন্ধ্যা হলেই আলোয় ঝলমল হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। এলইডি বাতিতে আলোকিত হওয়ায় কমেছে ছিনতাকারী, মাদকসেবীদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

ডিএসসিসির পুরনো পাঁচটি অঞ্চলের জন্য মোট ১০টি প্যাকেজের মাধ্যমে ৪০ ওয়াটের ২৭ হাজার ৫১টি, ৮০ ওয়াটের চার হাজার ৪৩টি, ১২০ ওয়াটের তিন হাজার ২০২টি, ১৫০ ওয়াটের তিন হাজার ৮১১টিসহ মোট ৩৮ হাজার ৯৮টি বাতি স্থাপন করা হয়। যদিও পরবর্তীতে সংশোধিত প্রকল্পে নতুন করে আরও তিন হাজার ৩৫টি বাতি লাগানো হয়।

২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনের প্রতিশ্রুতি ছিল ডিএসসিসিকে আধুনিক ও ঝকঝকে বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচিত হওয়ার পর সাঈদ খোকন বিষয়টি সরকারের কাছে উপস্থাপনে সক্ষম হন। এরপর উন্নত বিশ্বের আদলে গ্রহণ করা হয় এলইডি বাতি স্থাপন প্রকল্প। প্রায় ২৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সড়কে ৪১ হাজার ১৩৩টি এলইডি সড়ক বাতি লাগানো হয়। এছাড়া নবগঠিত ১৮টি ওয়ার্ডেও ১৫ হাজার এলইডি বাতি স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দিনের আলো শেষে রাতের অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বলে উঠে এসব বাতি। সেক্ষেত্রে কখনও যদি দিনে ঘন মেঘের কারণে অন্ধকার নেমে আসে, তখনও এসব বাতি জ্বলে উঠবে। তবে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বাতিগুলো চাইলেই বন্ধ করা যাবে। আবার কোনো এলাকার বাতি যদি নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সেই বার্তা নিয়ন্ত্রণকক্ষে চলে যাবে।বাতিগুলো যেকোনো স্থান থেকে সফটওয়্যারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বাতি নিয়ন্ত্রণে অত্যাধুনিক পাওয়ার লাইট কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। রাতে প্রয়োজন অনুপাতে আলো নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। কোনো বাতি নষ্ট হলে সেটাও জানা যাচ্ছে। প্রতিদিন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিগুলো জ্বলে ও নেভে। প্রতিটি বাতি দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। এসব বাতির আলোতে মানুষের চোখের জন্য কোনো ক্ষতিকর রশ্মি নেই।

রাজধানীর মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ এলইডি বাতির প্রশংসা করে বলেন, পল্টন মোড়ে আমার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। আগে বাসে বা রিকশায় বাসায় ফিরতাম। কিন্তু এলইডি বাতি লাগানোর ফলে পুরো শহর আলোকিত হয়েছে। রাতেও এখন পুরো আলোকিত হয়ে।তাই এখন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে হেঁটেই বাসায় ফিরি। আগে যেমন ছিনতাইকারী, মাদকসেবী, অপরাধীরা অন্ধকার গলিতে সড়কে থাকতো, আলোকিত হওয়ার পর তাদের অত্যাচার আর নেই।

মৎস ভবন থেকে কাকরাইল মোড়ে যাওয়ার পথে কথা হয় রিকশা চালক এরশাদ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে এসব রাস্তা খুব অন্ধকার থাকতো, অনেক জায়গায় রোড লাইট নষ্ট ছিল। কিন্তু বর্তমানে রাতেও ঝকঝকে আলোকিত থাকে, এলইডি বাতির স্বচ্ছ আলোয় রিকশা চালানো যায় ভালোভাবে সেই সঙ্গে যাত্রীরার নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন।

জানা গেছে, এসব বাতির মধ্যে ১৫০ ওয়াটের বাতি প্রতিসেট কেনা হয়েছে ৫৬ হাজার ৮৯৪ টাকা করে। ১২০ ওয়াটের বাতি প্রতিসেটের দাম ৪৮ হাজার ৩৯০ টাকা। এছাড়া ৮০ ওয়াটের এলইডি বাতির প্রতিসেটের দাম ৪৩ হাজার ৪৯০ টাকা। প্রতিটি বাতির গ্যারান্টি দেয়া হয়েছে ৫০ হাজার ঘণ্টা। এই হিসেবে দিনের ১২ ঘণ্টা বাদ দিলে এ বাতির গ্যারান্টি দাঁড়ায় প্রায় ১১ বছরের বেশি।

খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা শারমিন সুলতানা বলেন, আগে সামনে রাস্তায় পুরো অন্ধকার হয়ে থাকতো। কিন্তু এখন এলইডি বাতির কারণে পুরো এলাকা আলোয় ঝলমল করে। আগে সন্ধ্যার পরই চলাচল করতে ভয় লাগতো। কিন্তু এখন প্রেক্ষাপট বদলে গেছে, ঝলমলে আলোয় আলোকিত পুরো এলাকা। যতদূর চোখ যায় এলইডি বাতির কারণে স্পষ্ট দেখা যায়, সে কারণে চলাচলের সময় অনেকটা নিরাপদ মনে হয়।

এলইডি বাতি প্রকল্পের বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, এ বাতির কারণে গভীর রাতেও নাগরিকরা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারছেন। নাগরিকদের নিরাপত্তা বেড়েছে। এক সময় মানুষ রাতে বের হতে ভয় পেত। কিন্তু এখন আলো থাকার কারণে মানুষ রাতেও স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে পারেন। নারীরাও নির্ভয়ে চলতে পারছেন।

তিনি আরও বলেন, ইচ্ছে ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন এ ঢাকাকে বদলে দেয়ার। সে অনুযায়ী কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অর্থ চেয়েছি। তিনি সহযোগিতা করেছেন। দক্ষিণ সিটির পুরনো এলাকায় এখন ৪০ হাজারের বেশি আধুনিক এলইডি বাতি জ্বলে। অন্যান্য শহর, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় যদি এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে রাতের শহর অনেক নিরাপদ থাকবে। শহরটাকে সুন্দর করে তুলতে, ভিন্ন রূপে সাজাতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। যার মধ্যে অনেক কিছুই বাস্তবায়ন হয়েছে, অনেকগুলোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
নগর জুড়ে বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর