বৃহস্পতিবার   ০২ এপ্রিল ২০২০   চৈত্র ১৮ ১৪২৬   ০৮ শা'বান ১৪৪১

১২৯৬

এখন থেকে মেয়েরাও দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে পারবে

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০১৮  

প্রোডাক্টটার নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্যানফে’, যার পুরো অর্থ ‘স্যানিটেশন ফর ফিমেল’। ভারতে এক-একটার দাম দশ রুপিরও কম।

কিন্তু রাস্তাঘাটে নোংরা শৌচাগারেও এই সস্তা, সহজ পদ্ধতিটাই মেয়েদের দাঁড়িয়ে মূত্রত্যাগে বিরাট সাহায্য করবে বলে বলা হচ্ছে।

১৯ নভেম্বর, সোমবার আন্তর্জাতিক টয়লেট দিবসে ভারতে যাত্রা শুরু করে অভিনব এই প্রোডাক্ট। যা উদ্ভাবন করেছেন অর্চিত আগরওয়াল ও হ্যারি শেহরাওয়াত নামে দিল্লি আইআইটির দুজন ছাত্র।

বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, ভারতের সেরা চিকিৎসা গবেষণা প্রতিষ্ঠান এইমসও এটিকে পরীক্ষা করে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ বলে রায় দিয়েছে।

জনস্বাস্থ্য খাতের গবেষকরাও বলছেন, স্যানফে জনপ্রিয়তা পেলে ভারতে রাস্তাঘাটে মেয়েদের শৌচাগার ব্যবহারের অভ্যাসটাই আমূল বদলে যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করবে স্যানফে?

স্যানফের বিষয়ে এর উদ্ভাবকদের একজন অন্যতম অর্চিত আগরওয়ালের বলেন, ‘খুব সহজ। আসলে মেয়েদের মূত্রত্যাগ করার দরকার হলেই যে টয়লেট সিটের ওপর বসতে হয়, সেই প্রয়োজনটাই দূর করে দেবে এটা!’

স্যানফের ব্যবহারও খুব সহজ। ছবি: সংগৃহীত

স্যানফের ব্যবহারও খুব সহজ। ছবি: সংগৃহীত

‘ভারতে পাবলিক টয়লেটগুলোর পরিচ্ছন্নতার যে হাল তাতে বেশির ভাগ মহিলা সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন না। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাই বলছে প্রতি দুজনের মধ্যে একজন মহিলা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট বা মূত্রনালীর সংক্রমণে আক্রান্ত হন।’

‘কাজেই শৌচাগারের কোনও অংশ স্পর্শ না-করেই যাতে মহিলারা সহজে মূত্রত্যাগ করতে পারেন, তার জন্য এই “স্ট্যান্ড অ্যান্ড পি” (দাঁড়াও ও প্রস্রাব করো) ডিভাইসটা নকশা করা হয়েছে।’

‘যখনই তাদের শৌচাগার ব্যবহারের দরকার পড়বে, জিনিসটা খুলে নিয়ে মহিলারা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই তাদের ফ্লো এরিয়ায় ঠিকমতো বসিয়ে নেবেন। তারপর প্রসাব করে জিনিসটা ছুঁড়ে ফেলে দিলেই, ব্যাস! টয়লেটের কোনও অংশ তাদের টাচ করার দরকারই হবে না!’

দিল্লি আইআইটির অধ্যাপক শ্রীনিবাসন ভেঙ্কটরামনও এই প্রোডাক্টটির ডিজাইনিংয়ের সঙ্গে যুক্ত, যা তৈরি হয়েছে পুরোপুরি বায়োডিগ্রেডেবেল উপাদান দিয়ে।

এই প্রোডাক্টটিকে জনপ্রিয় করে তুলতে বিভিন্ন এনজিওর সাহায্যে ১ লাখ স্যাম্পল (নমুনা) সারা দেশে মহিলাদের মধ্যে বিনা পয়সায় বিলিও করা হচ্ছে।

তার আগে গত দুমাস ধরে প্রোডাক্টটির ট্রায়াল চালানো হয়েছে বিভিন্ন বয়সী মহিলাদের মধ্যে, তাদের অভিজ্ঞতাও রীতিমতো তৃপ্তিদায়ক।

দিল্লির কলেজছাত্রী রিমা যেমন বলছেন, ‘এখন জিমে গেলে আমি সব সময় সঙ্গে স্যানফে রাখছি। এতে সুবিধাটা হল ওয়াশরুমে গেলে আমার ব্যাক্টেরিয়াল সংক্রমণের ভয় থাকছে না। তার চেয়েও ভালো জিনিস হলো, বারবার টয়লেট সিটটা মুছে নেওয়ার কষ্টও করতে হচ্ছে না।’

মধ্যবয়সী গৃহবধূ নীহারিকা শর্মা বলছেন, ‘যেকোনো পাবলিক টয়লেটে গেলেই মাথার ভেতর একটা ভয় কাজ করে, না জানি আবার কী ইনফেকশনে পড়ব। এইটা ব্যবহার করার পর থেকে সেই ভয়টা অনেক দূর হয়েছে।’

স্যানফের দুই উদ্ভাবক। ছবি: সংগৃহীত

স্যানফের দুই উদ্ভাবক। ছবি: সংগৃহীত

লাজপতনগরের রিনা শর্মাও প্রায় এক সুরেই বলেন, ‘ভারতে পাবলিক টয়লেটগুলো এতই নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন যে সেগুলো ব্যবহার করার কথা ভাবাই যায় না। কিন্তু এই নতুন ডিভাইসটা মেয়েদের জন্য দারুণ একটা ব্যাপার। কারণ এখন তারা সেই নোংরা টয়লেটও অনায়াসে ব্যবহার করতে পারছেন।’

ভারতের মেয়েদের মধ্যে কতটা জনপ্রিয় হতে পারে এই ডিভাইস?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ পত্রলেখা চ্যাটার্জি বলেন, ‘প্রাইস পয়েন্টের দিক থেকে এগুলোর দাম মোটামুটি একটা স্যানিটারি প্যাডের মতোই। কাজেই সমাজে নারীদের যে অংশটা স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করতে পারেন, ধরে নেওয়া যায় তারা অবশ্যই এটা পরখ করে দেখবেন।’

‘বিশেষ করে যে নারীদের রাস্তাঘাটে প্রচুর সফর করতে হয় - হাইওয়ে, এয়ারপোর্ট, শপিং মল-সহ নানা জায়গায় বারবার টয়লেট ব্যবহার করার দরকার পড়ে, তাদের মধ্যে তো এটা জনপ্রিয় হতে বাধ্য।’

‘ভারতে এই মহিলারা অনেকেই বহুক্ষণ ধরে প্রস্রাব চেপে রাখতে বাধ্য হন, কিংবা তাদের পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করতে হয় সেমি-স্কোয়াট পজিশনে। এতে কিডনিতে স্টোন তৈরি হয়, ব্লাডার মাসল দুর্বল হয়ে পড়ে। আশা করা যায় এই ধরনের একটা ডিভাইস সেই সমস্যাটা দূর করতে পারবে।’

স্যানফের নির্মাতাদের আশাও ঠিক সেটাই, তাদের এই অভিনব প্রোডাক্ট ভারতে মেযেদের পাবলিট টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেই একটা বিপ্লব এনে দেবে!

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
এই বিভাগের আরো খবর