• মঙ্গলবার   ০২ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৯ ১৪২৭

  • || ১০ শাওয়াল ১৪৪১

৪২

এক হাজার কোটি টাকা দিল গ্রামীণফোন

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) অডিট আপত্তির বিপরীতে আদালতের আদেশ মেনে ১০০০ কোটি টাকা দিয়েছে মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন। রোববার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এই টাকা পরিশোধ করা হয়।

গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ বিটিআরসিতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এক হাজার কোটি টাকার পে অর্ডার বিটিআরসি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়। সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেন, আজকের দিনটা সরকার ও গ্রামীণফোনের জন্য শুভদিন। টাকার জন্য গ্রামীণফোন বিভিন্ন স্থানে গিয়েছে, দেন-দরবার করেছে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় টাকা আমরা কিছু করতে পারিনি। এটা আদালতের আদেশ ছিল, সুপ্রিম কোর্ট সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মানা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। টাকাটা দিয়ে দেয়ায় গ্রামীণফোনকে ধন্যবাদ জানাই।

গ্রামীণফোনের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু স্থগিতাদেশ আছে। আদালতের আদেশ আছে, এ বিষয়ে আদালত নির্দেশ দেবেন। যেসব স্থগিতাদেশ আছে সেগুলোর বিষয়ে আদালত যে আদেশ দেবেন সেভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে বলেছেন, সুখবরটা পেলামই। গ্রামীণফোন ১ হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে।

গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বিটিআরসিতে গিয়ে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এক হাজার কোটি টাকার চেক হস্তান্তর করেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন গ্রামীণফোনের হেড অব রেগুলেটরি সাদাত হোসেন।

এর আগে গত বুধবার আপিল বিভাগ সোমবারের মধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এক হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে আজই গ্রামীণফোনের রিভিউ আবেদনের ওপর আদেশের জন্য দিন ধার্য রাখেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ ওই নির্দেশ দেন।

এরপরই গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তারা রোববার বিটিআরসিকে এক হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করবে।

তার আগে গত বছরের ২৪ নভেম্বর দেশের সর্বোচ্চ আদালত বিটিআরসির নিরীক্ষা দাবির ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা তিন মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। আপিল বিভাগের এই আদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আবেদন করে গ্রামীণফোন।

রিভিউ আবেদনে অপারেটরটি ৫৭৫ কোটি টাকা দেয়ার প্রস্তাব করে, যা তারা এক বছরে সমান বারোটি কিস্তিতে পরিশোধ করতে চেয়েছিল। তবে আবেদনে ওই প্রস্তাব আমলে নেয়নি উচ্চ আদালত।

এখন ১০০০ কোটি টাকা জমা দিয়ে যাওয়ার পর সোমবার আদালত এই রিভিউ আবেদনে যে আদেশ দেবেন তা যদি গ্রামীণফোন পালন করে তাহলে অপারেটরটি এনওসি বন্ধের মতো নিষেধাজ্ঞা হতে মুক্তি পাবে। সেইসঙ্গে অডিট আপত্তির পাওনা দাবি ইস্যু সমাধানে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে।

অডিট আপত্তিতে বিটিআরসি গ্রামীণফোনের কাছে মোট ১২ হাজার ৫৮৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা পাওনা হিসেবে দাবি করে। এর মধ্যে বিটিআরসির অংশ ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি আর এনবিআরের অংশ ৪ হাজার ৮৬ কোটি টাকা।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
অর্থনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর