• সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৭

  • || ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

৪১

একে অপরকে সহ্য করতে পারতেন না কারিনা-প্রিয়াংকা

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২ মে ২০২০  

বলিউডের দুই জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়া জোনাস ও কারিনা কাপুর খান। দুজনের তকমা হলো তারা বলিউডের ডিভা।কিন্তু পাঠক জানেন কী এক সময় এই দুজনই ছিলেন একে-ওপরের শত্রু। সংবাদ প্রতিদিন

শুরুটা ছিলো ‘অ্যাতরাজ’ সিনেমা দিয়ে। ২০০৪ সালে মুক্তি প্রাপ্ত সিনেমাতে কারিনা ছিলেন নায়িকা এবং প্রিয়াংকা অভিনয় করেছিলেন খলনায়িকার ভূমিকায়। শুটিংয়ের সময় দু’জনের সম্পর্ক ভাল ছিলো। একে অন্যকে কমপ্লিমেন্টও দিতেন।

প্রচারের সব আলো কেড়ে নিলেন প্রিয়াংকা। তার অভিনয় সমাদৃত হল সব মহলে। নায়িকা কারিনাকে সব দিক থেকে ছাপিয়ে গেলেন খলনায়িকার চরিত্রে অভিনয় করা প্রিয়াংকা। সে সময় প্রিয়াংকা সবে দু’বছর হল ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছেন। কারিনা তার আগেই অভিনয় শুরু করেছেন। শোনা যায়, তিনি এত অল্প সময়ে প্রিয়াংকার খ্যাতি মেনে নিতে পারেননি।

বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণী অনু্ষ্ঠানে বলা হত কারিনার কথা। সেখানে প্রিয়াংকার ভাগ্যেই জুটত ছবির সাফল্যের কৃতিত্ব। এখান থেকেই শুরু দু’জনের প্রতিযোগিতা।

এর পর দু’জনকে একসঙ্গে দেখা যায় ‘ডন’ ছবিতে। সেখানে নায়িকা ছিলেন প্রিয়াংকা। কারিনা করেছিলেন আইটেম ডান্স। ছবিতে প্রিয়াংকার অভিনয় চূড়ান্ত প্রশংসিত হয়। তবে কারিনার নাচও দর্শকদের নজর কেড়েছিল।

২০০৭-এ সব হিসেব উল্টোপাল্টা হয়ে গেল। সে বছর মুক্তি পায় ‘জব উই মেট’। এই ছবিতে কারিনার ‘গীত’ চরিত্রটি আইকনিক হয়ে ওঠে নতুন প্রজন্মের কাছে।

কিন্তু প্রিয়াংকার কাছে ২০০৭ ছিল চূড়ান্ত ব্যর্থতার বছর। ‘সলামে ইশক’, ‘বিগ ব্রাদার’-সহ তার সব ছবি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল। তার পরের বছর আবার ‘ফ্যাশন’, ‘দোস্তানা’ ছবিতে প্রিয়াংকার অভিনয় তুমুল জনপ্রিয় হয়। ‘ফ্যাশন’-এ অভিনয় প্রিয়াংকাকে জাতীয় পুরস্কার এনে দেয়। কিন্তু সে বছর কারিনার জন্য মোটেও ভাল ছিল না। ‘তাশান’ বা ‘গোলমাল রিটার্নস’ দুটো ছবিই দর্শকদের পছন্দের তালিকায় আসতে ব্যর্থ হয়।

সে বছর কারিনার কাছ থেকে শহিদ কাপুরকেও কেড়ে নেন প্রিয়াংকা। কারিনার সঙ্গে বিচ্ছেদের পরে শহিদ তখন প্রিয়াংকার সঙ্গে ডেট করছিলেন। এর পর কারিনা প্রকাশ্যে প্রিয়াংকাকে আক্রমণ করেন। করণ জোহরের শো-য়ে গিয়ে তিনি কটাক্ষ করেন প্রিয়াংকার উচ্চারণভঙ্গি নিয়ে। পরে ওই একই শো-এ পাল্টা উত্তর দেন প্রিয়াংকাও। বলেন, তিনি ওই উচ্চারণভঙ্গি রপ্ত করেছেন সেখান থেকে, যেখান থেকে সাইফ আলি খান উচ্চারণভঙ্গি শিখেছেন।

কাদা ছোড়াছুড়ি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, কারিনা এক বার বলেন, তিনি প্রিয়াংকাকে নায়িকা হিসেবে মনেই করেন না! ক্ষত আরও গভীর করতে ছাড়েননি প্রিয়াংকাও। তিনি বলেন, কারিনা তার সম্বন্ধে এমন মন্তব্য করতেই পারেন। কারণ কারিনা অনেক সিনিয়র। বয়স নিয়ে এই খোঁচা হজম করতে পারেননি রণধীর-কন্যা।

প্রিয়াংকার জাতীয় পুরস্কার পাওয়া নিয়েও বলতে ছাড়েননি কারিনা। তিনি বলেন, তার কাছে জাতীয় পুরস্কার গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং, তিনি মনে করেন কোনও ছবির জন্য দর্শকদের ভালবাসা-ই শেষ কথা। শুনে প্রিয়াংকা বলেছিলেন, যিনি জাতীয় পুরস্কার পাননি, তার কাছে আঙুরফল টক-ই থাকে।

২০১৫ সালে প্রিয়াংকা ও কারিনা, দু’জনেই একে অন্যকে রীতিমতো টেক্কা দিয়ে যান। কারিনা অভিনয় করেন ‘বজরঙ্গী ভাইজান’-এ। অন্য দিকে প্রিয়াংকার সে বছর তুরুপের তাস ছিল ‘মেরি কম’।

এর পর হলিউডের আকাশেও ডানা মেলেন প্রিয়াংকা। অন্য দিকে, বলিউডে তখন বিদ্যা বালনের যুগ শুরু হয়ে গেছে। ‘কাহানি’, ‘ডার্টি পিকচার’-এর মতো ছবি দিয়ে তিনি শাসন করছেন ইন্ডাস্ট্রি। পাশাপাশি দ্রুত উঠে এসেছেন আলিয়া ভাট, শ্রদ্ধা কাপুর। এ ছাড়া দীপিকা পাড়ুকোন তো ছিলেনই। কঙ্গনা রানাওয়াতও মজবুত করে নেন নিজের জায়গা। তাদের চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়েন কারিনা। তখন তিনি বিয়ের পরে কিছুটা ব্যস্ত হয়ে পড়েন নতুন সংসার নিয়েও।

যখন প্রতিযোগিতাই নেই, তখন আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা কোথা থেকে আসবে? তাই কারিনা ও প্রিয়াংকা নিজেদের মধ্যে সমস্যা মিটিয়ে নিলেন। করন জোহরের শো-এ দু’জনে একসঙ্গে আসেন। তখন তাদের দেখে কে বলবে একসময়ে দুই নায়িকার মধ্যে বৈরিতা আকাশে পৌঁছেছিল!

বরং যে বিষয়ে তারা রেষারেষি করতেন, সে সবই তাদের কাছে রসিকতার বিষয় হয় ওঠে। এমনকি, শাহিদ কাপুরকে নিয়ে তারা বলেন ওই একটা বিষয়ই তাদের মধ্যে কমন! আজ দু’জনেই ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সংসার নিয়ে ব্যস্ত। আসলে, এক নম্বর জায়গা-ই যখন অন্য কারও দখলে, তখন আর অন্য দু’জনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে কেন!

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
বিনোদন বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর