• বৃহস্পতিবার   ১৩ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৯ ১৪২৭

  • || ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

১৮

ঈদকে ঘিরে ছুরি-চাপাতি বানাতে ব্যস্ত কামারখন্দের কামাররা

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২০  

ঈদুল আযহাকে ঘিরে কোরবানীর পশু জবাইয়ের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে কামারদের ব্যস্ততা।

একদিকে হাপরে আগুনের শিখা অন্যদিকে হাতুড়ি পেটানোর টুংটাং শব্দে তৈরি হচ্ছে দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি। কোরবানির ঈদ আসলেই বটি, ছুরি, চাপাতিসহ বিভিন্ন হাতিয়ারের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

এতে বেঁচা-বিক্রি বৃদ্ধি ও লাভ বেশি হওয়া এ সময়টিতে উৎফুল্ল থাকেন কামাররা। তবে বিগত বছরের তুলনায় বর্তমানে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এর কারণে বেচাবিক্রি অনেকাংশেই কমে গিয়েছে, বলে জানিয়েছেন কামার শিল্পীরা।

সরজমিনে কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট, জামতৈল, পাইকোশা, কাটাখালি বাজার ও কামারপাড়া গুলোতে গিয়ে দেখা যায় পোড়া কয়লার গন্ধ, হাপরের হাসফাঁস আর হাতুড়ি পেটানোর টুং-টাং শব্দে তৈরি হচ্ছে চকচকে ধারালো দা, চাপাতি, ছুরি, বঁটিসহ নিমিষে মাংস কাটা-কুটার উপকরণ। ফলে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কামারদের বিরামহীন ব্যস্ততা।

এ সময় জামতৈল পশ্চিম বাজারের রর্শী কর্মকার জানান, সারাবছর বেচাকেনা কিছুটা কম থাকে। এই সময়ের জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকি আমরা। কোরবানির ঈদের আগে এক সপ্তাহ ভালো বেচাকেনা হয়। বিগত বছরগুলো থেকে এই সময়টাতে এবার আমাদের কেনা বেঁচে কম হচ্ছে। সেই সাথে লোহা ও কয়লার দাম বেশি, তবে ঈদের আরো কিছু দিন বাকি আছে হয়তো তখন ভালো বেঁচা কেনা হতে পারে।

উপজেলার আরেক কামার শিল্পি প্রফুল্লো বলেন, করোনা ভাইরাস এর মধ্যে আগের মতো আর কাজ নেই। বিগত বছরগুলোতে এই সময়ে প্রচুর অর্ডার পেতাম কিন্তু এখন ক্রেতাদের আনাগোনা খুবই কম।

গতবছর এই সময়টাতে লোহার তৈরি ছোট ছুরি ৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। জবাই ছুরি ৫০০-৬০০ টাকায়, এছাড়া বিভিন্ন সাইজের চাপাতি ৬০০-৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ পেশায় অধিক শ্রম, জীবিকা নির্বাহে কষ্ট হলেও শুধু বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ পেশাটিকে আমরা এখনও আঁকড়ে ধরে আছি।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জ বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর