• বুধবার   ২৭ মে ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১৩ ১৪২৭

  • || ০৪ শাওয়াল ১৪৪১

১৯

ইফতারে জুস নাকি স্মুদি, কোনটি খাওয়া বেশি উপকারী?

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৮ মে ২০২০  

ইফতার মানেই বাহারি জুস আর স্মুদি। যা বেশ প্রশান্তিদায়ক পানীয়। জুস কিংবা স্মুদি খেতেও দারুণ  সুস্বাদু। তবে অনেকেই জুস ও স্মুদিকে একই মনে করেন। আসলে এই দুটির মধ্যেও রয়েছে পার্থক্য। বিশেষ করে তৈরি প্রণালী এবং পুষ্টিগত দিক দিয়ে এ দুটির মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে।

ফল বা সবজির শাঁস থেকে জুসার বা হাত ব্যবহার করে সংগৃহীত রসকে বলে জুস। কখনো কখনো ব্লেন্ড করা সবজি বা ফল ছেঁকে রস সংগ্রহ করাকেও জুস বলা হয়। আর আস্ত ফল বা সবজি ব্লেন্ড করে তৈরি করা পানীয়কে বলে স্মুদি। এটি হচ্ছে আস্ত ফল বা সবজির অর্ধতরল রূপ। চলুন জেনে নেয়া যাক জুস নাকি স্মুদি খাওয়া বেশি উপকারী- 

> শাঁস থেকে শুধু রস সংগ্রহ করা হয় বলে জুস থেকে ফাইবার ও শাঁস বাদ পড়ে যায়। আবার জুস তৈরিতে আস্ত ফল বা সবজিতে যে ফাইবার থাকে তা অনেকাংশেই কমে যায় এবং কখনো কখনো কিছু পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি তৈরি হয়। অন্য দিকে, স্মুদি হলো আস্ত ফল বা সবজির অবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে কঠিন থেকে অর্ধতরল করা রস। এতে পুষ্টি উপাদানের তেমন কোনো পরিবর্তন বা ঘাটতি ঘটে না। তাই স্মুদি খাওয়া বেশি উপকারী। 

> আপনি যদি কোনো বিশেষ রোগে ভুগে থাকেন, যেখানে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার হজমে সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে জুস খাওয়াই ভালো। অথবা কোনো বিশেষ ডায়েট মেনে চলাকালে কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলতে হয়। সেক্ষেত্রেও খাদ্যতালিকায় স্মুদির পরিবর্তে জুস সংযুক্ত করা ভালো।

> জুসের গঠনের জন্য এটি দেহে পরিপাক বা হজম হওয়ার প্রয়োজন হয় না। এটি পান করার সঙ্গে সঙ্গে দেহে শোষণ হয়ে যায়। এর ফলে হঠাৎ সুগার লেভেল বেড়ে যেতে পারে। অন্যদিকে স্মুদি দেহে পরিপাক হয় এবং শোষণের জন্য আস্তে আস্তে পুষ্টি উপাদান অপসারণ করে। অনেকেরই উচ্চ রক্তচাপ ও সুগার লেভেল অনিয়ন্ত্রিত থাকে। তাই তাদের জুসের পরিবর্তে স্মুদি নির্বাচন করা উচিত।

> যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য জুসের তুলনায় স্মুদি উত্তম। কারণ স্মুদিতে থাকা ফাইবার মল তৈরি ও নরম করতে সাহায্য করে।

> যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে আগ্রহী, তারা খাদ্যতালিকায় জুসের পরিবর্তে স্মুদি রাখুন। স্মুদিতে ফাইবার ও শাঁস থাকে, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখতে এবং ক্ষুধার অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শর্করা, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা মিটায়। তাই এক বেলার সম্পূর্ণ খাবারের পরবর্তিত রূপ হিসেবেও খাদ্যতালিকায় স্মুদি সংযুক্ত করা যায়।

জুস বা স্মুদি তৈরির সময় অবশ্যই লক্ষ্য রাখুন দুটি বিষয়- 

> অনেকেই ইফতারের অনেক সময় আগেই শরবত তৈরি করে রাখেন। আবার কেউ কেউ ঘণ্টাখানেক আগে তৈরি করেন। মনে রাখুন, কিছু পুষ্টি উপাদান আলো ও বাতাসের সংস্পর্শে এলে নষ্ট হয়ে যায়। সে জন্য স্মুদি বা জুস যেটিই পান করুন না কেন, তৈরি করার পর বেশি সময় বাইরে রাখা ঠিক  নয়। এক্ষেত্রে পান করার কিছু সময় আগে তৈরি করে নেয়া উত্তম।

> গাজর, বিট রুট ইত্যাদিতে স্টার্চ বেশি পরিমাণে থাকে। এর ফলে এগুলো অন্য ফল বা সবজির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে মিশে না। তাই একাধিক সবজি বা ফল মিশিয়ে জুস কিংবা স্মুদি তৈরির সময় অবশ্যই এই বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখুন।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ
স্বাস্থ্য বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর