• মঙ্গলবার   ০৯ মার্চ ২০২১ ||

  • ফাল্গুন ২৫ ১৪২৭

  • || ২৫ রজব ১৪৪২

আরো বেশি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান

আলোকিত সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২১  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সম্ভব সবকিছু করার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি বিজয়ের ইতিহাসকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য অধিকহারে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার -২০১৯’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ আহ্বান জানান। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে তিনি অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজয়ের সঠিক ইতিহাস যাতে সবাই জানতে পারে। কারণ, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনকারী বীরের জাতি। সেই বিজয়ের ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন মনে রাখতে পারে, সেই ধরনের চলচ্চিত্র আরো নির্মাণ হওয়া দরকার।

’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের চলচ্চিত্রে শিল্প ও সংস্কৃতি যেমন থাকবে, তেমনি বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য উপকরণও থাকতে হবে। পাশাপাশি সেখানে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়, নীতি-আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিফলন থাকাটাও দরকার।

চলচ্চিত্রকে একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা রাজনীতিবিদরা যত কথাই বলি না কেন একটি নাটক, সিনেমা, গান বা কবিতা দিয়ে অনেক কথা বলা যায়। মানুষের অন্তরে প্রবেশ করা যায়। সেজন্য এর একটা আবেদন রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের মানুষের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম চলচ্চিত্র। অথচ এটি কিন্তু দিনে দিনে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া এই ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে না করা হলে এর আকর্ষণ যেমন থাকে না তেমনি বাজারও পাওয়া যায় না। সেজন্যই বিএফডিসিকে উন্নত করতে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার।

ঢাকার নিকটে কালিয়াকৈরের কবিরপুরে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটি’ নির্মাণের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, সেখানে আধুনিক সিনেমা তৈরি করতে যা যা প্রয়োজন, সেই ধরনের সব সুবিধা রাখা হচ্ছে, যাতে আমাদের সিনেমা শিল্প যথাযথভাবে গড়ে উঠে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। কেননা এখন ডিজিটাল যুগ। আমাদের চলচ্চিত্র কেবল দেশে নয়, বিদেশেও যাতে যেতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা সেন্সর সংক্রান্ত আইন ও বিধি আধুনিকভাবে তৈরি এবং সেগুলো যাতে কঠোরভাবে মানা হয় তার দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, এক হাজার কোটি টাকার একটি ফান্ড আমরা তৈরি করবো। যেখান থেকে অল্প সুদে টাকা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা সিনেমা হল বা সিনেপ্লেক্স তৈরি করতে পারবে, যাতে ওই অঞ্চলের মানুষের বিনোদনের ব্যবস্থাটা হয়।

তিনি বলেন, অনেকগুলো সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। কাজেই সেগুলোকে পুনরায় চালু করা শুধু নয়, আধুনিকায়নও করতে হবে। কারণ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন অনেক উন্নতমানের সিনেমা তৈরি করা যায়। সেদিকেই আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি এবং সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।

‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার -২০১৯’ অনুষ্ঠানে ২৬টি ক্যাটাগরিতে ৩৩ জন শিল্পী এবং কলাকুশলীকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ পুরস্কার বিজয়ীদের মাঝে পদক, রেপ্লিকা, সম্মাননার চেক এবং সনদ বিতরণ করেন।

শ্রেষ্ঠ অভিনেতা তারিক আনাম খান (আবার বসন্ত) এবং অভিনেত্রী হিসেবে প্রসুনেরাহ বিনতে কামাল (ন ডরাই) ২০১৯ সালের এ পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া শ্রেষ্ঠ খল চরিত্রের জন্য জাহিদ হাসান (সাপলুডু) এবং শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে তানিম রহমান অংশু (ন ডরাই) পুরস্কার লাভ করেন এবং যৌথভাবে ‘ন ডরাই’ এবং ‘ফাগুন হাওয়ায়’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র মনোনীত হন। মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা এবং কোহিনুর আক্তার সুচন্দা আজীবন সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সভাপতিত্ব করেন। তথ্য সচিব খাজা মিয়া স্বাগত বক্তৃতা করেন। পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে আজীবন সম্মাননা বিজয়ী মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা দেন। 

এতে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, এমপি, চলচ্চিত্র শিল্পে সংশ্লিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ কলাকুশলী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসসহ গণভবন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত সিরাজগঞ্জ
আলোকিত সিরাজগঞ্জ